মানিক মিজানের লড়াই

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা ততই বেড়ে চলেছে। কে হবেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনের কর্ণধার, এ নিয়ে চলছে ভোটারদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২২টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা নিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসন গঠিত। দুই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৪। ছাতকে ১০০টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৩৫ জন ভোটার রয়েছে। দোয়ারায় ৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ জন ভোটার রয়েছে। নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করায় জটিল সমীকরণে পড়েছেন ভোটাররা।
আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান মানিক (নৌকা) ও বিএনপির মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান (ধানের শীষ) নিয়ে মূলত হিসাব করছে এ আসনের ভোটাররা। তবে উভয় প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। মুহিবুর রহমান মানিক ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে ২০০৮ থেকে ২০১৪ একাধারে সংসদ সদস্য পদে আসীন ছিলেন। অপর দিকে মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান ২০০৯ সালে ছাতক উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৮ সালে দলের মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হন। দলীয় কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় এবার তিনি মনোনয়ন লাভে সফল হয়েছেন। ১০ই নভেম্বর পরই দু’প্রার্থী প্রচারণা শুরু করেছেন। ৩০শে ডিসেম্বর সমগ্র দেশব্যাপী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও এ আসনে আরো ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় পার্টি থেকে অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল (লাঙ্গল), খেলাফত মজলিস প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ শফিক উদ্দিন (দেয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা হুসাইন আল-হারুন (হাতপাখা), ন্যাপ’র আবদুল ওদুদ (কুড়েঘর), বিএনএফ’র আশরাফ হোসেন (টেলিভিশন), গণফোরাম প্রার্থী আইয়ূব করম আলী (উদীয়মান সূর্য)। এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন ছাতক-দোয়ারা আসনের প্রতিটি গ্রামে। প্রতিদিন করছেন উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ। তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধরে নিয়েছেন বিজয় সুনিশ্চিত। নৌকা প্রতীকের ও সমর্থকরা মনে করেন, এমপি হয়ে এলাকায় যে উন্নয়ন কাজ করেছেন তা বিগত ২০ বছরেও হয়নি। এ আসনে তার রয়েছে ব্যক্তি ইমেজ। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে তার জয়লাভ অনেকটা সহজ হবে বলে ভোটাররা মনে করেন। তাই সাধারণ ভোটাররা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মুহিবুর রহমান মানিককে পুনরায় এমপি নির্বাচিত করবেন। অপর দিকে ২৩ দলীয় জোট তথা ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান ও দলীয় নেতাকর্মীরা এবার এ আসন পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এজন্য তারা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে দিনরাত গ্রাম-গ্রামান্তরে, পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনের দুই উপজেলায় কেন্দ্র ভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রার্থী, কর্মী সমর্থকরা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছেন উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ। গত ১০ বছরে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি। এবার সবাই ভোট দিতে আগ্রহী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান বিজয়ী হবে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করেন। তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা হবে বড় ফ্যাক্টর। তাদের ভোটের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। এখন কেবল ৩০শে ডিসেম্বর বিজয়ী ফলাফলের অপেক্ষায় ছাতক-দোয়ারাবাসী। সুত্র মানবজমিন


আরও পড়ুন

রেজা রুবেলের ভাইয়ের মৃত্যুতে ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের শোক

 বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয়...

যুক্তরাজ্যে ‘ওমিক্রন ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা

 চলতি সপ্তাহ থেকে ১৮ বছরের...

বালাগঞ্জে শাহজাহান আহমদ ফুটবল একাডেমির উদ্বোধন

 বালাগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা...