মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আকঞ্জি আজ পিআরএল-এ যাচ্ছেন

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারি, ২০২০     আপডেট : ৮ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি।
আজ বুধবার থেকে তিনি পিআরএল-এ যাবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কলেজের নতুন অধ্যক্ষের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করবেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণিল শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটছে ইংরেজির জনপ্রিয় এ শিক্ষকের।

প্রফেসর হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি ১৯৬১ সালে সুনামগঞ্জ জেলার জানীগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুহা. ফখরুল ইসলাম ও মা মুহিবুন্নেসা খানম দম্পতির পুত্র প্রফেসর আকঞ্জির স্ত্রী- ইয়াসমীন মালিক চৌধুরী একজন গৃহিণী এবং একমাত্র মেয়ে ফাবিহা তাসনিম আকঞ্জি- এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী এবং ছেলে ফারহান তাহমিদ আকঞ্জি- এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

সুনামগঞ্জ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি ও সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৮৪ সালে তিনি টঙ্গীর কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসাবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন । ১৯৮৮ সালে তিনি টঙ্গী সরকারি কলেজে ইংরেজির প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। এক বছর সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯০ সালে প্রথমার্ধ্বে তিনি এম সি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। তার চাকুরি জীবনের প্রায় সাড়ে ২৭ বছর কেটেছে এম সি কলেজে। তিনি এ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০১৩ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। একই বছরের ৩ নভেম্বর তিনি এ কলেজের উপাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। সাড়ে চার বছর উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে যোগ দেন। এখানে আড়াই বছর দায়িত্ব পালনের পর আজ বুধবার থেকে অবসরে যাচ্ছেন এ বরেণ্য শিক্ষাবিদ।

সরকারি মহিলা কলেজে যোগদানের পর তিনি এ কলেজের উন্নয়নে ব্যাপৃত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প হচ্ছে- অধ্যক্ষের বাসভবন সংস্কার, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে কলেজের প্রশাসনিক ভবন সংস্কার, অধ্যক্ষের কক্ষ আধুনিকায়ন, উপাধ্যক্ষের কক্ষে টয়লেট নির্মাণ ও এসি স্থাপন, পূবালী ব্যাংকের অর্থায়নে কলেজ ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ছাত্রী মিলনায়তনে ২টি আধুনিক টয়লেট নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ২টি টয়লেট সুসজ্জিতকরণ, একাডেমিক ভবনে ৪টি টয়লেট সংস্কার, বহুদিন অচল থাকা অডিটোরিয়ামের টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী করা, ছাত্রী নিবাসে স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ছাত্রী নিবাসের ডাইনিং হলের সংস্কার, পানির ফিল্টার, নতুন চেয়ার-টেবিল সংযোজন, অডিটোরিয়ামে বাহ্যিক দেয়ালে পেইন্ট ও ভাঙা চেয়ার সংস্কার, পুরুষ ও মহিলা সহকর্মীদের জন্য পৃথক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নামাজ কক্ষ নির্মাণ, ৬ তলা থেকে ১০তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন অনুমোদন, বিজ্ঞান ভবনের সম্মুখভাগের একাংশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে দৃষ্টিনন্দন ফটক ও দেয়াল নির্মাণ এবং বিজ্ঞান ভবনের সম্মুখে আকর্ষণীয় মুক্তমঞ্চ নির্মাণ। এছাড়া, কলেজে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি প্রদত্ত এক কোটি টাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়তের জন্য ৩টি মিনিবাস ক্রয় করা হয়েছে তার সময়ে।

এক প্রতিক্রিয়ায় প্রফেসর মুহা. হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি বলেন, তিনি একজন শিক্ষকের ছেলে। শিক্ষকের ছেলে হিসাবে তিনি সারাজীবন সাধারণ মানুষের মতো চলার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ছাত্ররা ভালো পর্যায়ে অধিষ্ঠিত রয়েছে-এটিই তার জীবনের স্বার্থকতা। সরকারি চাকুরি জীবন ভালো কেটেছে-এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, অবসর জীবনও যেন ভালো ভাবে কাটাতে পারি-এই দোয়া চাই সবার কাছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সুনামগঞ্জের চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সিআইডির নতুন প্রধান

         বাংলাদেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ...

বিতর্ক আমাদের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা চর্চার অন্যতম মাধ্যম

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বিতর্ক ও...

সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ডালিম বহিস্কার

         দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা...

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্ধ ঘোষণা

19        19Sharesনুরুল ইসলাম,চুনারুঘাট প্রতিনিধি ঃ- চিকিৎসক...