‘মসজিদের জমি দখল করতে অপরাজনীতিতে মেতেছে একটি চক্র’

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট নগরের ঐতিহ্যবাহী মদিনা মার্কেট জামে মসজিদের ওয়াকফ এস্টেটের জমি দখলের চেষ্টায় অপরাজনীতিতে মেতেছে একটি চক্র-এমন অভিযোগ করেছেন মসজিদের মোতাওয়াল্লী খলিলুর রহমান খান। তিনি এজন্য স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান ও তার অনুসারীদের দায়ি করেছেন। তাদের হাত থেকে মজসিদ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন খলিলুর রহমান খান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সিলেট সম্প্রীতির শহর। ওলিকুল শিরোমণী হযরত শাহ জালাল (র) ও শাহপরাণ (র.) পূণ্যভূমি এই সিলেট। মসজিদ মুসলমানদের একান্ত অনুভূতির একটি জায়গা। পবিত্র এই অনুভূতির জায়গা নিয়ে কাউকে বেআইনী কার্যকলাপ করা উচিত নয়। তারপরেও ঐতিহ্যবাহী মদিনা মার্কেট জামে মসজিদ নিয়ে যারা বেআইনিভাবে পেশীশক্তির রাজনীতি শুরু করেছেন তাদের এসব কার্যলাপ থেকে বেরিয়ে মহামান্য আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় পবিত্র মসজিদের সম্মান রক্ষার্থে মদিনা মার্কেটের সাধারণ মুসল্লিরা সকল অপকর্মের জবাব দেবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি নিজেকে ঐতিহ্যবাহি আল-মাদিনা জামে মসজিদ ওয়াকফ স্টেটের বৈধ মোতায়াল্লী দাবি করে বলেন, ‘পূর্ব ধারাবাহিকতায় এবং সম্পূর্ণ বৈধ নিয়মে আমি বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক কর্তৃক নিযুক্ত আছি। এই সম্পত্তি আমার বাবা আব্দুর রাজ্জাক ১৯৫২ সালে ক্রয় করেন। পর্যায়ক্রমে এই সম্পদ আমাদের মাঝে বন্টন করেন। বাকি ১৬ শতক আল-মদিনা জামে মসজিদের নামে ওয়াকফ করেন। যা আব্দুর রাজ্জাক ওয়াকফ স্টেট নামে নিবন্ধিত। ১৯৮২ সালে এই ওয়াকফ স্টেটের জমিতে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং বাহিরের পূর্বাংশে ১২টি দোকান ঘর নির্মাণ করেন। যা ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে মসজিদের ফান্ডে জমা হয়ে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এই ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের পায়তারা করছেন। মোতাওয়াল্লী হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনেও নানা রকম বিঘœ সৃষ্টি করে আসছেন। এবং আমার বাবার ওয়াকফকৃত এই মসজিদের সম্পত্তি তাদের নিকট হস্তান্তর করতে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। ভূয়া কার্যকরি কমিটি তৈরী করে সীল, প্যাড, রশিদ বই বানিয়ে টাকা কালেকশন করে এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। তার এমন কার্যক্রম আইন বর্হিভূত।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কামরান গংরা সিলেট আদালতে ব্যার্থ হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করেন,যার নং-১৭৯৯/১৮। মহামান্য হাইকোর্ট এই মামলায় গত বছরের ১৪ অক্টোবর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পক্ষগণদের ৬ মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই অদেশের প্রেক্ষিতে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর ওয়াকফ প্রশাসকের তরফ থেকে গক্ষগণকে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মেনে চলার জন্য একটি পত্রও জারি করেন। এরপরেও তারা আদালতের আদেশের তোয়াক্কা না করে বেইআইনী ভাবে জোরপূর্বক মসজিদ দখলের পায়তারা করছে।’
কাউন্সিলর কামরান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারী শুক্রবার বাদ জুম্মা বেআইনিভাবে মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের দানকৃত টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং মসজিদের ভেতরে থাকা মুসল্লিদের নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুবের খাঁন, ফজলুর রহমান, সায়েম খাঁন, দুলাল খাঁন, হাবিবুর রহমান, ইব্রাহিম আলী, মামুনুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, হেলাল আহমেদ, টুটুল আহমেদ, সাগির আলী, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল কাইয়ুম, নুরুন নবী প্রমুখ।

আরও পড়ুন



সিলেট মহানগর বিএনপির বিশেষ বর্ধিত সভা শনিবার

সিলেট মহানগর বিএনপির এক বিশেষ...

কমলগঞ্জে একে বাংলা স্কুল ফুটবল লীগের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে...

বৃষ্টি উপেক্ষা করে মই মার্কার গনসংযোগ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টি...

বীরাঙ্গনা কাঁকন বিবি আর নেই

বীরাঙ্গনা কাঁকন বিবি আর নেই।...