মণিপুরী নৃত্য শুধু সিলেটের নয় এটা দেশের গৌরব

প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০১৯     আপডেট : ৯ মাস আগে  
  

আব্দুস সোবহান ইমন : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মুনিপুরীদের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক-এতিহ্যিক- সাংস্কৃতিক তথা ধর্মীয় ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। মনিপুরী নৃত্য শুধু সিলেট নয় সারা বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত। তাই আমাদের সবার উচিত বর্তমান প্রজন্মকে এতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী প্রজন্মের সাথে সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখা।
একাডেমি ফর মনিপুরী কালচার এন্ড আর্টস-এর আয়োজনে এবং সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সহযোগিতায় আয়োজিত মনিপুরী নৃত্য কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর রিকাবী বাজারস্থ কাজী নজরুল অডিটরিয়ামে একাডেমি ফর মনিপুরী কালচার এন্ড আর্টসের সভাপতি দিগেন সিংহের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমি ফর মনিপুরী কালচার এন্ড আর্টস-এর সাধারণ সম্পাদক শান্তনা দেবী।
সংস্কৃতিকর্মী রবিকিরণ সিংহ রাজেশের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন-এর সহকারী হাই কমিশনার এল. কৃষ্ণমূর্তি, সিলেট চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, বাংলাদেশ মনিপুরী সাহিত্য সংসদের সভাপতি এ কে শেরাম, ছায়ানট ঢাকা’র মনিপুরী নৃত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শর্মিলা বন্দোপাধ্যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক তামান্না রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিটন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রশিক্ষক থোকচম ইবেমুবী ও কৈশাম যাদু সিংহের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন সংস্কৃতিকর্মী রবিকিরণ সিংহ রাজেশ। অনুষ্ঠানের শেষে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ-অতিথিবৃন্দ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, সিলেটে মনিপুরী নৃত্যের বিকাশে সকলের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। তাতে করে আমাদের সিলেটের সাংস্কৃতিক ধারা আগামীতে আরো এগিয়ে যাবে। মনিপুরী নৃত্যের কালচার ও এতিহ্য রক্ষার্থে নৃত্যশিক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে ভালো প্রশিক্ষণ ধারা গড়ে উঠতে পারে তার জন্য নৃত্য প্রশিক্ষক তৈরি করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এল. কৃষ্ণমূর্তি বলেন, সিলেটের মানুষ সংস্কৃতি প্রেমিক। সকলের মধ্যে সাংস্কৃতিক মনোভাব অপরিসীম। নৃত্যের প্রতি যেমন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ রয়েছে তেমনি মনিপুরী কালচারের প্রতিও সকলের আগ্রহ রয়েছে। সিলেট তথা সারা বাংলাদেশে এ নৃত্য তুলে ধরতে হবে। উৎসাহ নিয়ে নৃত্য প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আগামীতে মনিপুরী নৃত্যের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মনিপুরীদের অতুলনীয় ভূমিকা রাখছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেমন বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে ঠিক তেমনিভাবে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সহযোগিতার মাধ্যমে সিলেট তথা সারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
বক্তারা আরো বলেন, ভারতীয় এ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মনিপুরী কালচার সিলেট সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন