ভোটের মাঠে মরণ কামড়

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হাটবাজার,পাড়া মহল্লা। শেষ সময়ে প্রার্থীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোট চেয়ে র্নিঘুম গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের আমেজে রাত-দিন যেন সবই সমান হয়ে পড়েছে। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা এ সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টসহ ৮জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদার (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি ও বিরোধী দলীয় হুইপ আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন (লাঙ্গল), বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জমিয়ত নেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়জুল মুনির চেীধুরী (সিংহ), ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত এম এ মতিন চৌধুরী (মিনার), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত মো. শহিদ আহমদ চৌধুরী (হারিকেন), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. নুরুল আমিন (হাত পাখা), গণ ফোরাম মনোনীত মো. বাহার উদ্দিন আল রাজী (উদীয়মান সূর্য) প্রতীক নিয়ে। এবারের নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনটিতে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন জোট থেকে একক প্রার্থী থাকার কথা থাকলেও নানা নাটকীয়তা শেষে আওয়ামী লীগের ড. হাফিজ আহমদ মজুমদার ও জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের সাথে লড়ছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়জুল মুনির চৌধুরী। ২৩ দলীয় জোট থেকে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের থাকেলও বিদ্রোহী প্রার্থী গণফোরামের বাহার উদ্দিন আল রাজী উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এরপরও আওয়ামীলীগ ও বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কবল থেকে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। কিন্তু আসন ছাড়তে অনড় জাতীয় পার্টি।
সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামীলীগ প্রার্থী ড. হাফিজ মজুমদার ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম উদ্দিন এ আসনের বর্তমান ও অতীতের এমপি থাকায় অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। সাধারণ মানুষের কাছেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আওয়ামীলীগ প্রার্থী ড. হাফিজ আহমদ মজুমদার ব্যক্তি হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়। তিনি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটসহ বৃহত্তর সিলেটে তার প্রতিষ্ঠিত হাফিজ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্ট দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। স্বাস্থ্য সেবায়ও ভূমিকা রয়েছে তার। বিগত সময়ে সংসদ সদস্য থাকাকালে যে উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন এ জন্য সকল মহলেই তিনি প্রশংসিত। ব্যক্তি হাফিজ আহমদ মজুমদারকে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ভালোবাসেন। হাওর এলাকাসহ অনুন্নত এলাকায় মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে শিক্ষার আলো বিস্তারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন ড. হাফিজ আহমদ মজুমদার। নৌকা প্রতীকের ইমেজ ও হাফিজ মজুমদারের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামীলীগ এ আসনটি উদ্ধারে ভোটের মাঠে মরণ কামড় দিয়েছে। এদিকে, সেলিম উদ্দিন বিগত ৫ বছর এমপি থাকাকালে অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করেছেন। প্রভাব বিস্তার করে কাউকে কখনও ক্ষতিগ্রস্ত করেননি। এ জন্য সাধারণ মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে জাতীয় পার্টির বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। উন্নয়ন, ব্যক্তি জনপ্রিয়তা ও দলীয় ভোটকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টি এ আসনটি ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ। এ আসনে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কয়েকবার নির্বাচন করেছেন। নির্বাচিত হতে না পারলেও ইসলামপন্থী দলের নেতা হিসেবে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে জমিয়তের নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ ধর্মভিরু হিসেবে ইসলামী দলের প্রার্থীর প্রতি তাদের দুর্বলতা রয়েছে। ১৯৯১ সালে এ আসন থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল হক উজিরপুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর বাইরেও বিএনপি ও জোটের শরিকদলের ভোট ব্যাংক আছে। এ ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়ে তিনি বিজয়ী হতে প্রাণপন চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিগত সময়ে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ইসলামপন্থী দলের প্রার্থীরা সম্মানজনক ভোট পেয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে থাকবেন।
ভোটের মাঠ ঘুরে জানাগেছে, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নিয়ে দল ও জোটের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও শেষ সময়ে অনেকটা কেটে গেছে। সম্প্রতি সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনয়ন বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির, মনোনয়ন বঞ্চিত আইনজীবী মোস্তাক আহমদ তাদের অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী সভা করে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এতে নেতাকর্মীরা নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টিতেও ঐক্য গড়ে উঠেছে। মনোনয়ন বঞ্চিত শাব্বির আহমদ লাঙল মার্কাকে বিজয়ী করতে সেলিম উদ্দিনকে নিয়ে ভোটের মাঠে দিনরাত কাটাচ্ছেন। মনোনয়ন বঞ্চিত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শিল্পপতি এম জাকির হোসেইনও লাঙল মার্কাকে বিজয়ী করতে লন্ডন থেকে তার অনুসারী নেতাকর্মীদেরকে মাঠে নামতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর পক্ষে বিএনপিসহ ইসলামী দলের নেতাকর্মীরা বিভেদ ভুলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের দলীয় কোন্দল অনেকটা কেটে যাওয়ায় ভোটারদের ধারণা শেষ পর্যন্ত ভোটযুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামীলীগের হাফিজ আহমদ মজুমদার, জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন ও বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কাঁকড়া ও মাকড়সা

         এম, আশরাফ আলী: সুন্দরবনের গভীরে...

গোয়াইনঘাটে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

         বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রী...

সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবার এর মতবিনিময় ড. মোমেনকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান

         আওমীলীগের আমলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল...

সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব সফলে নির্বাহী পরিষদের সভা

         সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব সফলে নির্বাহী...