ভোটাধিকার প্রয়োগের শরয়ী দৃষ্টিকোণ

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুহিউল ইসলাম মাহিম চৌধুরী: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের একমাত্র মাধ্যম হলো ভোট।। দেশের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।।
ভোট হলো মুলতঃ তিনটি বিষয়ের সমষ্টি –
♦ স্বাক্ষ প্রদান । অাপনি কোন প্রার্থীকে ভোট প্রদান করার মধ্য দিয়ে এই ঘোষণা দিলেন যে,লোকটি ভাল,সৎ অামানতদার এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ।
♦ সুপারিশ – যেহেতু লোকটি অাপনার বিবেচনায় উপরোক্ত গুনাবলীসম্পন্ন সেহেতু অাপনার ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের কাছে এই সুপারিশ করলেন যে,তাকে নির্বাচিত করলে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে তিনি ভুমিকা রাখবেন ।।
♦ প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব সমর্পণ-উপরোল্লিখিত গুনাবলীর অালোকে অাপনার একটি ভোট প্রদান করে অাপনার পক্ষ থেকে অাপনি তাঁকে প্রতিনিধিত্বের দায়ীত্ব অর্পন করলেন।।।
এবার অাসুন অাপনি যাকে ভাল বলে স্বাক্ষী দিলেন তাকে কিসের ভিত্তিতে স্বাক্ষ দিলেন ।
নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অাপনি যাকে ভাল বলে স্বাক্ষ দিলেন ★তিনি কী নিয়মিত নামাজ পড়েন?
★তিনি কী সত্যিকার অর্থে অামানতদার?
★তিনি কী নীতি এবং নৈতিকতার প্রশ্নে উত্তির্ণ?
মনে রাখবেন, অাল্লাহ কিন্তু অাপনাকে সত্য স্বাক্ষ প্রদানের জন্য অাদেশ করেছেন।। অার সত্যকে গোপন করতে নিষেধ করেছেন।। অাল্লাহ বলেন,”তোমরা কখনো স্বাক্ষ গোপন করবেনা , যে স্বাক্ষ গোপন করে তার মন পাপের কালিমাযুক্ত।।”( সুরা বাকারা)
সুতরাং, হিসেব মিলিয়ে দেখুন অাপনি কী সত্য স্বাক্ষ দিয়েছেন নাকি মিথ্যে স্বাক্ষ দিয়েছেন।।
ভুলে যাবেননা অাপনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য যার ব্যাপারে সুপারিশ করলেন তাঁর প্রত্যেকটি ভাল কাজের যেমন উত্তম প্রতিদান অাপনি পাবেন তেমনি তাঁর মন্দ কাজের ভাগও অাপনাকে নিতে হবে ।। খোদাভীরুতা,সততা,যোগ্যতা ও অামানতদারীর প্রশ্নে উত্তির্ণ নয় এমন ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নেতৃত্বে এনে তার পাপের বোঝা অাপনি বইতে যাবেন কেন?।

নবী কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেন- যখন কোন অযোগ্য ব্যক্তির কাছে সরকারি বা প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পন করা হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষা করো। কারণ তখন কল্যাণের আশা করা অবান্তর।।। (হাদীসে অযোগ্য বলতে যার ভেতরে দ্বীনি জ্ঞান নাই তাঁকেই বুঝানো হয়েছে)

যদি কোন ব্যক্তি মুসলিম সমাজে কোন দায়িত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পদ পায় এবং সে যদি কোন লোককে রাষ্ট্রীয় কোন পদে যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও সততার মাপকাঠিতে বিচার না করে আঞ্চলিকতা, আত্মীয়তা, তোষামোদ, স্বার্থ ইত্যাদির খাতিরে নিয়োজিত, নির্বাচিত বা মনোনীত করে। অথচ সে জানে যে তার চেয়ে যোগ্য ও কুরআন সুন্নাহর অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ঐ এলাকায় বিদ্যমান রয়েছে, তাহলে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাঃ এবং পুরা মুসলিম জাতির সাথে গাদ্দারী করলো।

হযরত শেখ সাদী রহঃ বলেন- খোদাভীরু লোকদেরকে নির্বাচিত করো, তারাই দেশ ও জাতির কল্যাণকামী।।

সুতরাং,অাসুন অামরা সৎ,যোগ্য এবং তাক্বওয়াবান লোকদেরকে নির্বাচিত করি ।
একান্ত যদি প্রার্থীদের মধ্যে কারো কাছেই উপরোক্ত গুনাবলীগুলো পাওয়া না যায় তাহলে তোলনামুলক তাক্বওয়ার অধিক কাছাকাছি ব্যক্তিকে অাপনার রায় প্রদান করুন । কারন অাপনার স্বাক্ষ বা রায় প্রদানের ব্যাপারে ক্বেয়ামাতের দিন অবশ্যই অাপনাকে জবাবদিহি করতে হবে ।।।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন