ভেতরে শরীর পোড়া মানুষের আত্মচিৎকার, বাইরে স্বজনদের আহাজারি

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আজ শনিবার। বেলা পৌনে ১১টা। রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভেতর থেকে শোনা যাচ্ছিলো ও মারে, ও বাবা রে, উহ, আহা শব্দ। সেই গোঙানির শব্দ।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন শরীর পোড়া মানুষগুলো। শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় মুখ থেকে স্পষ্ট শব্দও বের হচ্ছে না অনেকের। বিছানার পাশেই বসে রোগীদের বারবার সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্বজনরা।

চিকিৎসক-নার্স সবাই ব্যস্ত। এক রোগীর কাছ থেকে অন্য রোগীর কাছে ছুটছেন তারা। আর বার্ন ইউনিটের বাইরে চিৎকার করে কেঁদে গড়াগড়ি খাচ্ছেন আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষের স্বজনরা। তাদের বুক ফাটা আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে বার্ন ইউনিটের আকাশ-বাতাস।

এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখে কান্না থামাতে পারছেন না অন্য রোগীদের দেখতে আসা দর্শনার্থী এবং সাধারণ মানুষেরাও।

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এসির বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১২ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

কথা হয় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া জামাল (৪০) উদ্দিনের ছোট ভাই জাকিরের সঙ্গে। তিনি দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমার বড় ভাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি ছিলেন। আল্লাহ কেন এভাবে কঠিন মৃত্যু দিলেন তার? এই দুর্ঘনার দায়ভার কার। আমার ভাইয়ের মৃত্যু বিচার চাই।’

পাশেই ছিলেন সালাম ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তি। তিনি দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘গ্যাসের লিকের কথা বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এই মানুষগুলোর মৃত্যু হচ্ছে, তাদের পরিবারের দায়িত্বের ভার নেবে কে? মুসল্লিদের মধ্যে অনেকে আছেন দিন মজুর, গরীব। তাদের পরিবারগুলো এখন পথে বসে যাবে।’

শনিবার সকালে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা.পার্থ শঙ্কর পাল জানান, নারায়ণগঞ্জে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। বাকি ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অর্ধ-শতাধিক মুসল্লি আহত হন। দুর্ঘটনায় মসজিদটির ইমাম আবদুল মালেক (৬০) এবং মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনও (৫০) আহত হয়েছেন।

মসজিদে এসি বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন বলেন, ‘মসজিদের মেঝের নিচ দিয়ে গ্যাসের লাইন গেছে। পানি দেওয়ার সময় বুদ বুদ করে গ্যাস বের হচ্ছিল। বিস্ফোরণে অনেক মা সূত্র: আমাদেরসময়


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : কী ঘটেছিল ওই মসজিদে

আরও পড়ুন

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মাওলানা শাহীনুর পাশা মনোনয়নপত্র জমা

         সালেহ আহমদ হৃদয়, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি...

বিত্তবানদের সহায়তায় বাঁচতে চায় ৫বছরের শিশু সৃজন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : বিত্তবানদের সহায়তা...