ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, । ভূমিকম্প হচ্ছে এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার কোন পূর্ভাবাস পাওয়া যায় না । ভূমিকম্প প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। তাই ভূমিকম্পের ক্ষতি থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ১০ রিকটার স্কেলে ভূকিম্প হলেও যাতে কোনো মানুষ না মরে, কোনো ভবন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এইরকম প্রস্তুতি আমাদের নিতে হবে। এটা সম্ভব তা দেখিয়ে দিয়েছে জাপান। জাপান এখন ভূকিম্পসহনীয় দেশে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিলেটে ভূমিকম্প ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসিনের সভাপতিত্বে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সিলেটের জনপ্রতিনিধিগণ, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাগণ, বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবদসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে জাপানি প্রতিষ্ঠান জাইকা আমাদের সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে আমরা ক্ষয়ক্শষতি মোকাবেলায় অনেক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। ফায়ার সার্ভিস ও সশস্ত্রবাহিনীকে অনেক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে আমাদের সতর্ক হতে হবে।

সিলেটে ঘনঘন ভূমিকম্পের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ২৯ এবং ৩০ মে সিলেটে ৫ দফা এবং ৭ জুন আবারও ২ দফা ভূমিকম্প হয় সিলেটে। এতে আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা সিলেট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভূমিকম্প আতঙ্ক দেখা দেয়। দফায় দফায় এই ভূমিকম্পের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এই সভার আয়োজন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এতে সহযোগীতা করে সিলেট জেলা প্রশাসন ও জাইকা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন  সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী,সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজি এমদাদুল ইসলাম, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন, গণপূর্ত অধিদপ্তর ঢাকার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শারমিন রেজা চৌধুরী, শাবি প্রফেসর ড. জহির বিন আলম।