ভালো লেখক হতে হলে জীবনকে গভীর ভাবে অনুভব করতে হবে

প্রকাশিত : ১২ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  • 162
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    162
    Shares

তাসলিমা খানম বীথি: প্রতিটি মানুষের বেড়ে ওঠার পেছনে একটি গল্প থাকে। যে গল্পের প্রতিটি পরতে পরতে গেঁথে থাকে আনন্দ-বেদনা, ফেলে আসা সোনালী দিনের কথা। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের মোকাবেলা করে চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে তাকে। হেরে যাবার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখেননি, বেঁচে থাকার জন্য তাকে লড়াই করতে হয়েছে। জীবন সংগ্রামের সেই অকুতোভয় সফল সৈনিক হলেন ব্রিগ্রেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.)।

কবি হেলাল হাফিজের কবিতার ভাষায় -‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার’। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা রাখতে না রাখতেই যিনি ষৈনিক জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন, তিনি হলেন লেখক ব্রিগেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.)। জীবনের রোমাঞ্চকর, বৈচিত্রময় আর ভয়ংকর মুহুর্তের কথা বলতে গিয়ে কখনো আনন্দে চোখ দুটি চিকচিক করছিলো আবার কখনো আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকীর (অব.) ভাষায়- শেষ সেল্যুটটা দিয়ে সেনাপ্রধানের কক্ষ থেকে নীরবে প্রস্থান করলাম। আমার স্টাফ কারের ড্রাইভারকে বললাম গাড়িতে যে ব্রিগেডিয়ার হিসেবে একটি তারকা লাগানো ছিল সেটি ঢেকে ফেলতে। মেসে ফিরে এসে দেখলাম আমার স্ত্রী রুমের দরজায়ই অপেক্ষারত, তার চোখ অশ্রুতে ভিজে আছে। দীর্ঘদিনের সুখদুঃখ, অসংখ্য বন্ধুবান্ধব আর কত শত স্মৃতি আমরা এক সঙ্গে ভাগাভাগি করেছি। আজ সেই দীর্ঘ সামরিক জীবনের অবসান হল। আমার সন্তানেরা কেউ সঙ্গে ছিল না। তাই এই করুণ দৃশ্য তাদের দেখতে হয়নি। এত বছর পর শেষবারের মত আমার গা থেকে সামরিক পোশাক চিরদিনের জন্য ছাড়তে হল। দীর্ঘ ৩২ বছর চাকরির বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা স্মৃতি অনুভূতি নিয়ে অবসর গ্রহন করতে হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.) একজন শিক্ষক, লেখক ও কলামিস্ট। বালাগঞ্জের পাঁচপাড়া গ্রামে ১৯৪৯ সালে ৯ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শাহ তজম্মুল আলী সিদ্দিকী, মা মরিয়ামুন্নেছা চৌধুরী। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। লেখক জুবায়ের সিদ্দিকী ও স্ত্রী ইয়াসমিন জুবায়ের ৩ কন্যা সন্তানের সফল জনক। তিন মেয়েই প্রবাসী। বড় মেয়ে তাইফা জুবায়ের, কানাডা প্রবাসী। মেঝো মেয়ে তাসনিম জুবায়ের যুক্তরাজ্য ও ছোট মেয়ে সাইনা জুবায়ের কানাডায় অধ্যয়নরত।
বাঙালি সব খাবারই তার পছন্দ তবে গরুর মাংস আর খাসির মাংস খেতে অপছন্দ করেন তিনি। ভ্রমণ করা তার একটি প্রিয় শখ। তাই সুযোগ পেলেই ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন লেখক জুবায়ের সিদ্দিকী।

দু’পাশে গাঢ় সবুজ গাছের সার বাঁধা স্কলার্সহোম কলেজের প্রবেশ পথ পেরিয়ে অধ্যক্ষ জুবায়ের স্যারের রুমে ঢুকে সালাম দিতেই তিনি হাসি দিয়ে বললেন বসো। গেস্টদের সাথে কথা শেষ করে আমার সাথে আলাপ করবেন এ বলেই চা খেতে বললেন। রুমটি বেশ বড়সড়ো। রুমের ভেতর টেবিলে উপরে বই, কলম, মনিটর, ক্রেস্টের সেলফ, পাশেই কয়েকটি চেয়ার দিয়ে একটি আলাদা টেবিল, সোফা, ফুলের টব সাজানো গোছানো ছিমছাম শান্ত পরিবেশ। দেখলেই ভালো লাগবে। স্যারের সাথে কথা বলার ফাঁকেই কলেজের একজন শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবক ঢুকলেন আর বললেন মেয়েটি অসুস্থ, ছুটি লাগবে। জুবায়ের স্যার বললেন মেয়েকে ভালো ডাক্তার দেখান। ঘনঘন অসুস্থ হয়ে ছুটি নিলে পড়াশোনা ভালো করতে পারবে না। স্যারের আন্তরিকতা, বিনয়, অমায়িক চমৎকার আচরণ যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

অধ্যক্ষ জুবায়ের সিদ্দিকী সত্তর বছর র্স্পশ করলেও এখনো তিনি সতেজ সজীব, প্রাণবন্ত। তারুণ্যদীপ্ত নিয়ে বীর সৈনিকের মত কর্মক্ষেত্রে পদচারণা করছেন। শিক্ষকতার মহৎ পেশার সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখে আলো দিয়ে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ জুবায়ের সিদ্দিকী।
বিদায় নেবার আগে তিনি বলছিলেন আমার আফসোস নেই। আমার অনেক সহপাঠীর চেয়ে অনেক ভালো আছি।
বর্তমানে তিনি র্স্কলাসহোম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত এবং ১৭৪ ফোকাস সেক্টর এ বালুচর সিলেট নগরীতে বসবাস করছেন।

সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস ডট কম-এর পক্ষ থেকে ব্রিগেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকী (অবঃ)’র সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করা হয়, ৫ মার্চ ২০১৯ সিলেট স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজ শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন সিলেট এক্সপ্রেস-এর স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথি এবং আলোকচিত্র ধারণ করেন সাব্বির আহমদ।

বীথি: আপনার জীবনের শুরুর দিকটা জানতে চাচ্ছিলাম। কিভাবে একজন জুবায়ের সিদ্দিকী থেকে জেনারেল হলেন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: শুরুটা গ্রাম থেকেই হয়েছে। বাবার হাত ধরে শহরে আসা। বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। সিলেট শহরে দূর্গাকুমার পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় আমার। দি এইডেড হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে এমসিতে ভর্তি হই। আমাদের পরিবারে অভাব অনটন ছিলো। তাই এসএসসি পাশ করেই চাকরির চেষ্টা করছিলাম। আমার বয়স তখন কম থাকায় চাকরি হচ্ছিলো না। ১৯৬৬ সাল। একদিন এমসির দিঘিরপাড়ে বন্ধুর সাথে ঘুরছিলাম। ওই সময় সেনাবাহিনীর কমিশন্ড র‌্যাঙ্কে অফিসার পদে একেবারে অপ্রস্তুত ভাবে ইন্টারভিউ দিয়ে নির্বাচিত হই আমরা দুই বন্ধু। ১৯৬৭ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলাম।

বীথি: সৈনিক জীবনের প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধকালিন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা বলেন যেটি আপনি সৈনিক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বিশেষ কোন ঘটনা মনে পড়ে কি?
জুবায়ের সিদ্দিকী: প্রথম দিকে খুব কষ্ট ছিলো। কারন ৯ মাইল দৌড়াতে হতো তখন আমি শারিরীকভাবে এতটা ফিট না থাকায় দৌড়াতে পারতাম না। পরে প্রতিজ্ঞা করি দৌড়ানো আমাকে পারতেই হবে। আমার কোর্সে ২২০ জন ক্যাডেট ছিলেন। যুদ্ধের ময়দানে বন্দুকসহ প্রয়োজনী সব কিছু ব্যাগে করে পিঠে নিয়ে দৌড়াতে হতো। আমার ওজন ১০৫ থাকায় সেই সময় অনেক কঠিন মনে হতো। পরে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়।

বীথি: কবে থেকে শিক্ষকতা শুরু করেছেন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: আমার শিক্ষকতা শুরু হয় ২০০০ সালে। ২০০২ পহেলা সেপ্টেম্বর র্স্কলাসহোম এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেই।

বীথি: সৈনিক জীবন থেকে শিক্ষকতা জীবনে কীভাবে আসলেন? সৈনিক জীবন ও শিক্ষকতার জীবনের মধ্যে কি ধরনের পার্থক্য অনুভব করেন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: একটা সময় মানুষ অবসরে যায়। আমি আগেই ভেবে রেখেছিলাম যখন অবসর নেবো তখন শিক্ষকতাকে বেছে নেবো। কারন আমি ভাবতাম, শিক্ষকতার মাধ্যমে ২/১ একজন ছাত্রছাত্রীকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। তাছাড়া আমার পরিবারের সবাই শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন। তাই ৫২ বছর বয়সে একজন ব্রিগেডিয়ার হিসেবে অবসর নেওয়ার পর আমি শিক্ষকতা শুরু করি। সৈনিক জীবন আর শিক্ষকতার জীবনের মধ্যে পার্থক্য বেশি নেই। শৃংঙ্খলা সৈনিক জীবনে অতি প্রয়োজনীয় এবং শিক্ষক হিসেবে শৃংঙ্খলা আরো অনেক প্রয়োজনীয়। দ্বিতীয়ত সৈনিক জীবনে যেমন আদেশ-নির্দেশ মেনে চলতে হয়। তেমনি শিক্ষকতা জীবনেও এসব মেনে চলতে হয়। সৈনিক জীবনে সবকিছু শৃংঙ্খলার মধ্যে থাকতে হয়। তবে শিক্ষক জীবন একটি ব্যতিক্রম। এটি ধীরে ধীরে মেনে নিতে হয়। তবে দু’জায়গাই আন্তরিকতা প্রয়োজন।

বীথি : শেষ সেল্যুটটা দিয়ে সেনাপ্রধানের কক্ষ থেকে নিরবে প্রস্থান করলেন, দীর্ঘ সামরিক জীবনের অবসানে শেষবারের মত আপনার গা থেকে যখন সামরিক পোশাক চিরদিনের জন্য ছাড়তে হলো তখনকার আপনার হৃদয়ে কী ঘটছিলো?
জুবায়ের সিদ্দিকী: সেনাজীবনের দীর্ঘ ৩২ বছরের জীবন থেকে বেরিয়ে আসা অতি কষ্টের। খুবই কষ্টের ছিলো। তবে এটি মেনে নিয়েছি যে এক সময় না একসময় বের হয়ে আসতেই হবে। প্রচন্ড খারাপ লেগেছিলো তখন।

বীথি: দীর্ঘ ৩২ বছরের সেনাজীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা থেকে ভয়ংকর অথবা আনন্দের একটি ঘটনার কথা বলেন, যা এখনো আপনাকে তাড়িত করে?
জুবায়ের সিদ্দিকী: (কিছুটা আবেগজড়িত কন্ঠে) ভয়ংকর একটি ঘটনা বলতে পারি। স্বাধীনতার পরে যখন পাকিস্তানীরা আমাদের বন্দি করে ফেললো। তখন দূর্গে প্রায় ২০০ জন ছিলো। বন্দী জীবন থেকে মাটির নিচ দিয়ে সুরঙ করে ১০/১২ জন পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু দূভার্গ্যবশত ধরা পড়ে যাই। যেভাবে অত্যাচার করেছিলো খুবই ভয়ংকর ছিলো সেই মুর্হুত। এটি আমার জীবনে ভয়ংকর একটি ঘটনা। সবচেয়ে সুখের ছিলো যখন পাকিস্তানি বন্দি শিবির থেকে মুক্তি পেয়ে মাতৃভূমিতে পা রাখলাম সেই মুর্হুত ছিলো সবচেয়ে আনন্দের।

বীথি: দীর্ঘ ৩২ বছর পর সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে যখন অবসর নিলেন তখন কী মনে হয়েছে যে সৈনিক হিসেবে আপনার আরো দায়িত্ব রয়েছে। যা এখনো শেষ হয়নি। তখন কী চেয়েছিলেন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: আমার অনেক অপূর্ণতা ছিলো। আরো অনেক কিছু করার ছিলো। একটি সৈনিক বা অফিসারদের প্রশিক্ষনে জন্য কাজ করতে পারতাম, নিজের অভিজ্ঞতা, মেধাকে কাজে লাগাতে পারতাম কিন্তু সুযোগ হয়নি তখন। সেইসময় অনেক কর্মক্ষম ছিলাম তাই মনে হয়েছিলো আরো কাজ করতে পারতাম।

বীথি: আপনার সময়ে একজন উর্ধ্বতন অথবা অধস্থন সৈনিকের কথা বলুন যাদেরকে দেখে আপনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন? যারা আপনার জীবনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে জেনারেল কে এম আব্দুল ওয়াহেদের আন্ডারে অনেক কাজ করেছি। প্রতিবারেই তার কাছ থেকে শিখেছি, অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করতেন।

বীথি: আমরা জানি আপনি লেখালেখির সাথে জড়িত রয়েছেন। লেখার জগতে কিভাবে আসলেন। এ পর্যন্ত ক’টি বই বেরিয়েছে।
জুবায়ের সিদ্দিকী: আমার চারটি বই বের হয়েছে। এর পিছনে সেলিম আউয়ালের অবদান রয়েছে। আমি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে যখন যেতাম তার সাথে দেখা হতো, কথা হতো। আমার লেখা পত্রিকায় বের হতো। সেলিম আউয়াল আমাকে উৎসাহ দিতো। ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিত লিখতাম। সমসমায়িক বিষয় লিখতাম। পরে লেখালেখিতে অনিয়মিত হয়ে গেছি।

বীথি: শৈশব কৈশোর কোথায় কেটেছে? শৈশবের স্মরণীয় কোন স্মৃতির কথা বলুন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: ১৯৫৮ সালের দিকে আইয়ুব খানের সময়ের কথা বলছি। সেইসময় খুব কড়াকড়ি ছিলো। তখন আমি প্রাইমারিতে পড়ি। স্কুলে যাবার সময় দেখতাম সব রিকশা লাইন ধরে যেতো। মানুষেরা শর্ট হাতা কাপড় পরতে পারতো না। লম্বা হাতা পরতো। যাদের মাথার চুল লম্বা ছিলো তাদেরকে ধরে আর্মিরা নাপিতের কাছে নিয়ে চুল কেটে দিতো। অনেক স্মৃতি আছে তবে সব মনে নেই।

বীথি: আপনি একাধারে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, শিক্ষক, লেখকÑএর মধ্যে কোন পরিচয়টি আপনাকে গর্বিত করে?
জুবায়ের সিদ্দিকী: ছাত্রছাত্রীরা ভালো ফলাফল করছে, প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তাই এখন শিক্ষক হিসেবে গর্বিত মনে হয়।

বীথি: আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের একটি সুযোগ থাকার পরও আপনি দেশে চলে আসেন। কেন প্রবাসজীবনে বেছে নিলেন না?
জুবায়ের সিদ্দিকী: আমার তিন মেয়ে, কোনো ছেলে নেই। মেয়েরাই বলল, বাবা আর কত কাজ করবে চলো এবার দেশে যাই। মেয়েদের কথা আর দেশের জন্য, সিলেটের জন্যে আমার আলাদা একটা টানÑএইসব কারনেই দেশে চলা আসা।

বীথি: বাংলাদেশ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
জুবায়ের সিদ্দিকী: আমি চাই বাংলাদেশ শান্তির দেশ হোক। মানুষের শান্তির আবাস হোক বাংলাদেশ।

বীথি: স্কুলার্সহোম শিক্ষ প্রতিষ্ঠানে আপনি র্দীঘদিন থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করছেন। অধ্যক্ষ হিসেবে কতটুকু সফল মনে করেন।
জুবায়ের সিদ্দিকী: সব মানুষই সফল মনে করেন। তবে আমার মনে হয় অনেক শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করছে, কেউ ফেল করছে না। তাই একজন অধ্যক্ষ হিসেবে সফল মনে হয়।

বীথি: অবসরে কী করেন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: অবসরে বই পড়ি, পত্রিকা পড়ি আর গান শুনি। কৃষ্ণকলি’র গান শুনতে খুব ভালো লাগে। তবে আধুনিক গানও ভালো লাগে।

বীথি: আপনি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তার মধ্যে কোন দেশটি ভ্রমনে স্মৃতি আজো মনে পরে?
জুবায়ের সিদ্দিকী: ৮০ সালের দিকে আমরা একটি কোর্স থেকে শ্রীলংকা গিয়েছিলাম। সেই দেশের পাহাড়-পর্বত প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই চমৎকার। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে শ্রীলংকার মানুষেরা প্রত্যেকেই ইংরেজিতে কথা বলতেন। আমাদের কথা বলতে সুবিধা ছিলো।

বীথি: প্রিয় লেখক ? যার লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: প্রিয় লেখক কবি মুফাজ্জল করিম। আমি অনুপ্রাণিত হই কবি মুফাজ্জল করিমের লেখায়। তিনি আমার আদর্শ ব্যক্তি। তার লেখা কবিতা পড়ি, বই পড়ি। তিনি আমার শিক্ষক।

বীথি: ভালো লেখক বা শিক্ষক হতে হলে কি গুণ থাকা উচিত বলে মনে করেন?
জুবায়ের সিদ্দিকী: ভালো লেখক হতে হলে জীবন সর্ম্পকে ধারনা থাকতে হবে। জীবনকে গভীরভাবে অনুভব করতে হবে। জীবনকে গভীরভাবে অনুভব করতে পারলে লেখা বাস্তববাদী হয়।

বীথি: তরুণ প্রজন্মর প্রতি আপনার পরামর্শ কি থাকবে?
জুবায়ের সিদ্দিকী: সুশৃংঙখল, দেশ, জাতি এবং পরিবারের জন্য তরুণ প্রজন্মকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলতে হবে।

বীথি: সিলেট এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
জুবায়ের সিদ্দিকী: তোমাকে ও সিলেট এক্সপ্রেসকে ধন্যবাদ।


  • 162
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    162
    Shares

পরবর্তী খবর পড়ুন : সৈনিক থেকে শিক্ষাবিদ

আরও পড়ুন

বই আলোচনা: কামরুল আলমের শিশুতোষ ছড়ার বই-ছোটোদের ছুটি

         আহমদ জুয়েল: কামরুল আলম বর্তমান...

স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন চলার পথ বের করতে হবে

         এম. গৌছ আহমদ চৌধুরী জীবন...

গোলাপগঞ্জে আ.লীগ সভাপতির বাড়িতে ডাকাতি

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেটের...

প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান প্রেমিকাকে মারধরের অভিযোগ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : দীর্ঘদিনের প্রেম,...