ভারত-বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো. আব্দুল বাছিত: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদের ভাষা-সংস্কৃতির সাথে বাংলাদেশের মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। এই পারস্পরিক সম্পর্ক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধনকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এর জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি এবং গবেষণায় এগিয়ে আসতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। আজকের এই সম্মেলন ভারত-বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের অবদানের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের ভাষা-সংস্কৃতির মধ্যে মেলবন্ধনকে চিন্তায় সম্পৃক্ত করে এগিয়ে যেতে হবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ভাইস চ্যান্সেলরদের প্রথম আন্তর্জাতিক কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার সকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের ভাইস চ্যান্সেলর এবং সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরদের অংশগ্রহণকে ইনটেলেক্চুয়াল পাওয়ার হাউস মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুদিনের। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বিদ্যমান। আজকের এই কনভেনশন চিন্তা-চেতনা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায়-গবেষণায় একীভূত করে দিয়েছে। একটি শান্তি এবং সমৃদ্ধির ভবিষ্যত গড়তে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার উন্মুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ তৈরীর জন্য ভাইস চ্যান্সেলরদের প্রতি আহবান জানান। শাবিপ্রবির আই আই সিটির প্রভাষক কাজী ইশতিয়াক মাহমুদ ও ইইই বিভাগের প্রভাষক নুরেন জাবিন শুচির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, মেঘালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রফেসর মাহবুবুল হক, আসাম গোহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মৃদুল হাজারিকা। বক্তব্য রাখেন কনভেনশন আয়োজক কমিটির আহবায়ক স্কুল অব এপ্লাইড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ডিন প্রফেসর ড. আবুল মুকিদ মুহাম্মদ মুকাদ্দেস, সদস্য সচিব সিএসই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. জহিরুল ইসলাম। এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী এবং বিশেষ অতিথিবৃন্দকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি এবং গবেষণা-উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক মানুষ তৈরী হয়। আজকের এই কনভেনশন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করবে। গবেষণার নতুন নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। আলোকিত ও চিন্তাশীল মানুষ তৈরী করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক সাথে কাজ করবে। আজকের এই কনভেনশন মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠান পরবর্তীতে ভাইস চ্যান্সেলরদের সম্মেলন শুরু হয় । সম্মেলনে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদেরকে দেখলে ভিন্ন মনে হয় না। আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা ও মনমানসিকতা একই ধরনের। রাজনৈতিক কারণে আমরা আলাদা দেশে ভাগ হয়ে বাস করতে পারি, কিন্তু চিন্তাগতভাবে আমরা একই। আমি চাই এই সম্মেলনের মাধ্যমে এই দুই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার একটি দ্বার উন্মোচিত হউক। অধ্যাপক ড. মৃদুল হাজারীকা বলেন, শাবিপ্রবি এটি শুরু করেছে। আমরা চাই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে এমন আরও সম্মেলন হোক। এ ধরনের সম্মেলনের ফলে জ্ঞান, মতামত, উদ্ভাবন নিজেদের মধ্যে বিনিময় করা যাবে।
শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সাংস্কৃতিকসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে একটি সংযোগ তৈরি হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে একটি সেতুবন্ধুন তৈরি করা হবে, যাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অন্যতম একটি পথ তৈরি হয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি বিশেষ কোনো বিষয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের মাঝে তা শেয়ার করা যেতে পারে।
ইন্টারনেশনাল কনভেনশন অব ভাইস চ্যান্সেলর’স (আইসিভিসি-২০১৯) শিরোনামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে প্রথম এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল প্রদেশগুলোর ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চ্যান্সেলর ও ১৫ জন ভাইস চ্যান্সেলর অংশগ্রহণ করেছেন। ‌‌’দ্য কনভেনশন’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান সম্মেলনে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ভারত এবং বাংলাদেশ তথা সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরবৃন্দ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা-গবেষণা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আধুনিক যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ তৈরীতে কর্মপদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন। ‘কমিউনিকেশন, কনসেনশাস ও কলাবরেশন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিশ্বায়নে আধুনিক মানবশক্তির গড়ে তুলার আশাবাদ ব্যক্ত করে এ পর্বে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, আসাম গোহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মৃদুল হাজারিকা, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর বিনোদ কুমার জেইন, আসাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ধীরাজ বোরা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. মতিউর রহমান হাওলাদার, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মো. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, আসাম কট্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ভাবেশ চন্দ্র গোস্বামী, মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর কে আর এস সামবাসিবো রাও, রাজীব গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়, অরুনাচল প্রদেশ-এর ভিসি প্রফেসর সাকেত কুশওয়াহা, মেঘালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মাহবুবুল হক, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর ভিসি প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, আসাম জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় ও জুডিশিয়াল একাডেমি-এর ভিসি প্রফেসর ড. জে এস পাটিল, মনিপুর কেন্দ্রীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এম. প্রেমজিত সিংহ, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিলেট-এর ভিসি প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মো. শহীদ উল্লাহ তালুকদার, আসাম মহাপুরুষা শ্রীমান্ত শংকরাদেবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর কে কে ডেকা, মিজোরাম জাতীয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-এর ডিরেক্টর প্রফেসর রজত গুপ্ত, মনিপুর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ডিরেক্টর প্রফেসর ড. গৌতম সূত্রধর, আসাম ইনস্টিটিউট অব এডভান্সড স্টাডি ইন সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ডিরেক্টর প্রফেসর এন সি তালুকদার, মেঘালয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ভিসি প্রফেসর পি কে গোস্বামী, মেঘালয় মার্টিন লুথার ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির ভিসি ভিনসেন্ট টি ডারলং। সম্মেলন পরবর্তী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও কনভেনশন আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনের ঘোষণা দেন। শেষ পর্যায়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিশাল এই কনভেনশনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীছাড়া অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের সাথে চার জেলা বিএনপির মতবিনিময়

         রান্তরীন বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম...

জৈন্তাপুরে নয়াগাঙ নদী ভাঙন হুমকির মুখে বাউরভাগ- কান্দি-কাটাখাল রাস্তা

1        1Shareনূরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর থেকে :জৈন্তাপুর...