ভরাট হয়ে গেছে বড়ো আকারের ২০টি খাল : জকিগঞ্জের ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয় না

প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯     আপডেট : ৪ মাস আগে  
  

দেশের উত্তরপূর্ব সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলা এক কালের খাদ্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত ছিলো। এক সময় প্রবাদ ছিলো, ধান বেত আর সুপারী জকিগঞ্জের বেটাগিরী। কিন্তু কালের আবর্তে এখন আর এ প্রবাদের সার্থকতা নেই। অধিকাংশ জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়ায় এখন গোলায় ধান নেই, গোয়ালে গরু নেই।
একসময় জকিগঞ্জ উপজেলার ২ লাখ মানুষের একমাত্র জীবিকা ছিলো কৃষি। কিন্তু বর্তমানে হাওর,খাল,বিল ভরে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় পানি ও সেচের অভাবে জকিগঞ্জের মানুষ এখন আমন,আউশ ও বোরো ফসল থেকে বঞ্চিত। তাছাড়া নদী ভাঙ্গনের কারণে অনেক ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মানুষ এখন ক্রমেই গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে।

জকিগঞ্জ উপজেলা মৎস অফিসার আবু তাহের চৌধুরী জানান, এ উপজেলায় ২ টি হাওর, ৩০ টি খাল এবং ৪ টি বিল রয়েছে। ২ টি হাওর হচ্ছে বালাই হাওর ও মইলাইট হাওর। বিলগুলো হচ্ছে, চাতলা বিল, দুবাই বিল, কাকড়াকুড়ি বিল ও বড়জান বিল। এসব হাওর ও বিল খনন না করায় ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্ঠি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে খালে বাধ নির্মান, খাল-বিলের জায়গা দখল হওয়ায় কালভার্ট নির্মান এসব কারণে চাষাবাদের মানুষ প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না। তাছাড়া বেড়িবাঁধ দেওয়ার কারণে হাওরের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী নদী ও খালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জলমহলগুলো ভরাট হয়ে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুল হক জানান, জকিগঞ্জ উপজেলায় ৩৩ হাজার ২ শ হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। তার মধ্যে আবাদযোগ্য জমি হচ্ছে ২০ হাজার ১ শ ২০ একর। ১৩ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে কোনো চাষাবাদ হয় না। কারণ বিলে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির অভাবে এসব জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না।
অতীতে জকিগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদিত সুপারী থেকে বিপুল অর্থ উপার্জিত হতো। এ উপজেলার সুপারী দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে সুপারী চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া সুপারী বাজারজাত করতে গিয়ে বিজিবির বাধার কারণে কৃষকগনের সুপারী চাষের আগ্রহে ভাটা পড়েছে।

প্রবল বর্ষন ও বাজারজাতের সমস্যা ইত্যাদি কারণে শীতকালীন ফসল না হওয়ায় কৃষকদের চাষাবাদে আগ্রহ নেই। জকিগঞ্জ উপজেলায় ৩০ টি ছোট-বড় খাল রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি খাল ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো হলো খলাছড়া ইউনিয়নের নাস্তব খাল(ভূইয়ারমুড়া),শিকার মাহমুদ খাল, বিরশ্রী ইউনিয়নের তেলি খাল , শাকির খাল, পীরনগর খাল, ডাকি খাল, সুপ্রাকান্দী খাল এসব খাল বন্ধ রয়েছে। বারঠাকুরী ইউনিয়নের রহিমপুরি খাল, মুদ্দা খাল বন্ধ হয়ে গেছে। কাজলশাহ ইউনিয়নের কুড়ি খাল ও রামর খালে ২টি স্লুইচ গেট থাকায় খালে পানি না আসায় চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সেনাপতি খালটি এখন বন্ধ। বারহাল ইউনিয়নে মুরাদখাল,চিকানালা খাল, বিরাই খাল ভরাট হয়ে গেছে। তাছাড়া অনেক খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে খালে পানি থাকে না। অধিকাংশ খাল ভরাট হওয়ার কারণে কৃষিকাজে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো খনন করা প্রয়োজন।
এদিকে, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ চৌধুরী জকিগঞ্জ উপজেলার ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও বিলগুলো খননের জন্য তালিকা তৈরি করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সুত্র দৈনিক জালালাবাদ

আরও পড়ুন



সেলিম আউয়াল ভাই

সাজন আহমদ সাজু যার কাছে...

বিয়ানীবাজারে অটোরিক্সা চালক খুন, আটক ২

পূর্ব বিরোধের জের ধরে বিয়ানীবাজার...

হাতকড়া পরা আসামির সুরমায় লাশ

সিলেটে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক...

মেয়রের অভিযান অসামাজিক কাজে জড়িত ১২ নারী-পুরুষ আটক

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক...