বড় দুদলেই মতানৈক্য

প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পনগরী ছাতক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সীমান্ত এলাকা দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন সুনামগঞ্জ-৫। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মতানৈক্য বিরাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে।অবশ্য এ আসনের বর্তমান সাংসদ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমদ মিলনের দাবি, একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও দলের নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব-কোন্দল নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলের পক্ষে কাজ করছেন।একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনের এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে সৃষ্টি হয়েছে গ্রুপিং। দল দুটিতেই এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে এক চুল ছাড় দিতে নারাজ।এ আসনে আওয়ামী লীগের এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক। অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন ছাতক পৌরসভার চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী। বিএনপির একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সাংসদ কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন। অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারমান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান।মনোনয়ন নিয়ে কোন্দলে জর্জরিত এ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী অনেকেই। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে বিজয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করার আশা করছেন মুহিবুর রহমান মানিক।আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াস সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি ছাতকে এসে এক জনসভায় ‘এ এলাকায় মানিক আছেন, মানিকই থাকবেন’ এমন ঘোষণায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন মানিক সমর্থক নেতাকর্মীরা।তবে বসে নেই মানিকের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে মাঠে রয়েছেন আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী।যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা আইয়ুব করম আলীও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। তিনি কয়েক বছর ধরে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী টিএইচএম জাহাঙ্গীর সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন, মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান ও জেলা বিএনপির সদস্য শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসেফ আলী।এ আসনে জাতীয় পার্টি বা মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সাংসদ ও জেলা জাপার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম ওহিদ কনা মিয়া ও দোয়ারাবাজার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। নিজ দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান তারা।খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিকউদ্দিন ও সিলেট মহানগর জামায়াতের মজলিশের শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুস সালাম আল মাদানী ২০ দলীয় জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি এলাকায়। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও বিদ্যুতায়ন সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। দলের মনোনয়ন পাব বলে আমি আশাবাদী।শামীম আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘গত নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইব। দীর্ঘদিন ধরে আমি মাঠে আছি, দলের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন।’কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, ‘বিএনপি বড় দল, একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। সব প্রার্থীর সঙ্গেই আমার সুসম্পর্ক। আমি মনোনয়ন চাইব। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমিসহ সবাই তার পক্ষে কাজ করব।’অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ বলেন, জোট-মহাজোট বা এককভাবে হলেও আমি এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। মনোনয়ন পেলে অবশ্যই নির্বাচন করব আমি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

আগামী পাঁচ বছর নগরীতে শুধুই কাজ হবে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট সিটি...

রেড জোন এলাকায় সবাইকে ঘরে ইবাদত করার নির্দেশ

         এক্সপ্রেস ডেক্স ঃ- বাংলাদেশের করোনা...