ব্রুনাই গিয়ে লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন বিশ্বনাথের কনু মিয়া

প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯     আপডেট : ৬ মাস আগে  
  

বিশ্বনাথ থেকে এমদাদুর রহমান মিলাদ ঃ অস্বচ্ছল পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ব্রুনাই গিয়ে লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন বিশ্বনাথের কনু মিয়া। কনু মিয়া (৩৫) বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের গোবিন্দনগর (বিলপার) গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রুনাইয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান কনু মিয়া। গুরুতর আহত হয়ে সে দেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য কনু মিয়াকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচারও করা হয়। এরপরও তার শেষ রক্ষা হয়নি। ফলে ১৮ সেপ্টেবর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই হাসপাতালেই মৃত্যুবরণ করেন নির্মাণ শ্রমিক কনু। মারা যাওয়ার এক সাপ্তাহ পর গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে মালেশিয়ান বিমানের একটি ফ্লাইটে তিন সন্তানের জনক কনু মিয়ার লাশ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে।
জানা গেছে, তিন ভাই ও দুই বোন নিয়ে ছিল কনু মিয়াদের পরিবার। আর ভাইদের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন কনু মিয়া। অস্বচ্ছল পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ধারদেনা করে প্রায় ১০ মাস পূর্বে ব্রুনাইয়ে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন কনু মিয়া। আর ফিরলেন লাশ হয়ে। দেখা হলো না মাত্র ১৮ দিন পূর্বে জন্মগ্রহন করা ছোট মেয়ে ফাতেমার মুখ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কনু মিয়ার মরদেহ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম। পরিবারের সকলের কান্নাকাটিতে ভারী হয়ে উঠে আশপাশ। লাশ দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার লোকজন। পরিবারের সদস্যদেরকে শান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন পাড়া-প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনরা। সন্তান হারা বৃদ্ধা মা সমছু বিবি ও স্বামী হারা লাভলী বেগম কান্না করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কনু মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ফাতেমা বেগমের বয়স মাত্র ১৮দিন। বড় ছেলে লাবিব ও বড় মেয়ে খাদিজা শুধু সবার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে। তারা এখনও ঠিক বুঝতে পারছে না, তাদের প্রিয় বাবা যে তাদেরকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে কনু মিয়া স্ত্রী লাভলী বেগম জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে ছিলেন তার স্বামী কনু মিয়া। কিন্তু সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে কনু মিয়া চলে গেছেন না ফেরার দেশে। স্বামী এভাবে লাশ হয়ে দেশে আসবেন তিনি কখনও কল্পনা করেন নি।
কনু মিয়ার চাচাতো ভাই ও খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ সিরাজ মিয়া বলেন, তার চাচাতো ভাই কনু মিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ব্রুনাইয়ে যাওয়ার পর সেখানের একটি তিন তলা ভবন থেকে পড়ে আহত হন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। গত বুধবার মধ্যরাতে কনু মিয়ার লাশ দেশে আসার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার লাশ গ্রহণ করেন।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় গোবিন্দনগর (বিলপার) গ্রামের পূর্বের মাঠে অনুষ্ঠিত কনু মিয়ার জানাজার নামাজে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

আরও পড়ুন



দুই কলেজছাত্রীর ফাঁদ

অনলাইনে ফাঁদ পেতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের...

সিলেট প্রেসক্লাবে পরিকল্পনা মন্ত্রীর সংবর্ধনা আজ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট প্রেসক্লাবের...