ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী:যেন এক প্রজক্ষিক সেতুবন্ধন

,
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাছুম বিল্লাহ্: প্রায় বার বছর আগের কথা। এক সকালে তাঁর অফিসে আমার ইন্টারভিউ। তাঁর নির্দেশক্রমে স্কলার্স হোম শাহী ঈদগাহ্ শাখায় গনিতের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করলাম। ইন্টারভিউয়ের শেষদিকে আমাকে একটা কথা বললেনÑ‘অনেক পরিশ্রম করতে হবে কিন্ত।’ সেই থেকে পথচলা।
তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.) আমি এরকম কাজপাগল মানুষ কম-ই দেখেছি। যে গুটিকয়েক মানুষ অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতকে এক সঙ্গে বিবেচনায় নিতে পারে তিনি তাদেরই একজন। সামাজিক এবং ব্যক্তিগতভাবে একজন সফল নিবেদিতপ্রান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.), স্কলার্স হোম আজকে যে আকর্ষনীয় অবস্থানে এসেছে, তার পেছনে তাঁর নিবেদন অবিচ্ছেদ্য। রবীন্দ্রনাথ বলেছেনÑ‘জীবনে জীবন যোগ করা না হলে, কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হয় গানের পসরা’।
ব্রিগেডিযার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.) নিজে এবং সাথে আরও অনেকের জীবনকে এক সাথে গেঁথে একটা অকৃত্রিম প্রভা সৃষ্টি করেছেনÑযা স্কলার্স হোমকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
আমিত আগেই বলেছি, তাঁর মত কাজপাগল মানুষ আমি কম-ই দেখেছি। আমার লেখা একটি গদ্য কবিতার কিছু লাইন তাকে নিবেদন করার একটাই সুযোগ্য ব্যপ্তি বলে মনে হচ্ছে। ‘শুক্রবার : দপ্তর বন্ধ, তবুও অফিস করছি সোনালী আগামীর প্রত্যাশায়।’
শিক্ষকতার প্রথম দিকে আমার মাঝে মধ্যে কলেজে আসতে একটু দেরী হত। আমি ভাবতাম বয়স্ক মানুষ : এত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে পারবেননা। এতগুলি বছর হয়ে গেল তাঁর আগে কলেজে যাওয়া অনেকটা দুঃসাধী কাজ। এই চর্চা আমাদের মধ্যে ধীরে ধীরে যে নিয়মানুর্তিতা এসেছে এটা কেবল-ই তাঁর অবদান।
সামরিক বাহিনীতে চাকরি করেছেন, পরে বাংলাদেশ চা বোর্ডেও ছিলেন কিছু দিন। শেষে অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষকতায় আসলেন। জীবনের এই নানামুখী ভ্রমণ তাঁর আরও একটা শিল্প-সত্তাকে কেন্দ্রচ্যুত করতে পারেনি কখনও। আর তার ইচ্ছে তাঁর লেখক মন। তাঁর বেশ কয়েকটি লেখা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে স্মৃতির অলিন্দে (জুন ২০০৩), কালের কথামালা (জুন ২০০৮), আমার জীবন আমার যুদ্ধ (২০১২) সময়, সংকট ও সম্ভাবনা (নভেম্বর ২০১৩) উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় তাঁর অনেক সাহসী লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে, ‘চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাস’, ‘জিম্মি সাধারণ মানুষ’, ‘দেশে কোন জঙ্গি নেই, তবে এরা কারা?’, ‘প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাধ ও বাংলাদেশ’Ñএসব লেখা অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং তাঁর অসীম সাহসিকতার নিদর্শন।
তাঁর আরেকটি বিষয় আমাকে আন্দোলিত করে আর তা হল তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি অকৃত্রিম টান। তাঁর অবসর সময়টাও নিজেকে না দিয়ে, মেয়েদের সাথে সাথে দেখা করার জন্য ছুটেন কখনও কানাডা কখনও ইংল্যান্ড। জীবনের সর্বক্ষেত্রে এরকম নিবেদন অসাধারনÑযা আমাদেরকে আশাবাদী করে তোলে। বাঁচার স্বপ্ন দেখায়।
জীবনের অর্ধেকটা সময় কাটিয়েছি সিলেটে। তারও বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হয়েছে তাঁর সাথে, নিজেকে কখনও অভিভাবকহীন মনে হয়নি। আর যারাই একটু লেখালেখি করেন, তিনি তাদেরকে অনুপ্রেরণা ও সাহস দেন প্রতিনিয়ত। তার চমৎকার উদাহরণ আমাদের সুজিৎদা। শুধুমাত্র ব্রিগেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকীর অনুপ্রেরনায় সুজিৎদায় লেখকসত্তা আজ প্রবাহমান।
আগামী ৯ই মার্চ ২০১৯ তাঁর মহাকাব্যিক জীবনের ৭০বছর পূর্তি হতে চলেছে। জীবনের এই সুদীর্ঘ ভ্রমণের গত একটি যুগ অনেক কাছে থেকে দেখেছি তাকে, এরকম সুনিয়ন্ত্রিত, বিচক্ষণ, দৃরদর্শী ব্যক্তিত্ব বিরল।

প্রভাষক, গনিত বিভাগ, স্কলার্স হোম, শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাস, সিলেট


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : জীবন চলে জীবনের নিয়মে

আরও পড়ুন