ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) জুবায়ের সিদ্দীকী‘র দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত : ২৫ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ৫ মাস আগে

স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ বিশিষ্ট লেখক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) জুবায়ের সিদ্দীকী’ জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ ২৫ মার্চ বুধবার বাদ যোহর শাহী ঈদগাহ জামে মসজিদে(ঈদগাহ ময়দানের উত্তর পাশে) জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। করোনা ভাইরাসের প্রভাব থাকার পরও শত শত মানুষ জানাযার নামাজে অংশগ্রহন করেন।
নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন মরহুমের ভগ্নিপতি মিরাবাজার জামেয়ার সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুর হান্নান। সেনাবাহিনীর পতাকায় আচ্ছাদিত কফিনে জানাযা শেষে সেনাবাহিনীর লেঃ নাফিসের নেতৃত্বে একটি চৌকষ দল গার্ড অব অর্নার প্রদান করে। পরে লেঃ নাফিস সেনাবাহিনীর পতাকা তার ছোটভাই শামীম সিদ্দিকীর কাছে হস্তান্তর করেন।

স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ বিশিষ্ট লেখক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) জুবায়ের সিদ্দীকী আজ (২৫ মার্চ) ভোর রাতে ঢাকা সিএমএইচ এ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ কন্যা, ৪ ভাই, ৫ বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি শাহী ঈদগাহস্ত বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে তাঁকে সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেয়া হয়।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। ভোর রাতে সেখানেই তাঁর ইন্তেকাল হয়।
উল্লেখ্যঃ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন চৌকস অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)জুবায়ের সিদ্দিকী ৯ মার্চ,১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে বালাগঞ্জ উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম শাহ তজম্মুল আলী সিদ্দিকী সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দূর্গাকুমার পাঠশালার প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে দি এইডেট হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেট এম.সি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে রেগুলার কমিশন অফিসার পদে পিএমএ কাকুলে যোগদান করেন।১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে আর্টিলারি কোরে যোগ দেন।তিনি মিরপুর স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি, চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিইউ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রি লাভ করেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের সেনাবাহিনীর চাকরি জীবনে তিনি প্রথমে অভিবক্ত পাকিস্তানে এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরি করেন।১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর সিলেটের স্কলারর্সহোম কলেজের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আমৃত্যু তিনিএ কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সিলেটের বর্তমান সভাপতি,এছাড়া লায়ন্স ক্লাব অব সিলেটের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেটের সাবেক সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সমসাময়িক বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার একজন নিয়মিত কলামিস্ট ছিলেন। তাঁর লিখিত চারটি বই ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে স্মৃতির অলিন্দে,কালের কথামালা, আমার জীবন আমার যুদ্ধ,সময় সংকট ও সম্ভাবনা। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটবাসী হারিয়েছে একজন সজ্জন ভদ্রলোককে।পরিশেষে মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

আরও পড়ুন

দান-সদকার গুরুত্ব

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে...

মানুষের জন্য কাজ করলে সমাজ দেশ উপকৃত হয়

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সু-শাসনের জন্য...

ভালোবাসার দৃষ্টান্ত দেখালেন সোহাদ রব চৌধুরী

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি...

ভোলাগঞ্জে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের কালাইরাগে অবৈধ...