বেশি প্রাণ কাড়ছে বেপরোয়া গতি

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২১     আপডেট : ১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশে সড়কে মৃত্যু প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুর বড় একটা অংশ হিসাবেই নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পর্যবেক্ষণ বলছে, সড়ক দুর্ঘটনার মূলে রয়েছে যানবাহনের অত্যধিক গতি, চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও সড়কের কাঠামোগত দুর্বলতা। এসব বিষয়ে মনোযোগ দিলে সড়কে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশে দিবসটি পালন করা হবে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি’। ১৯৯৩ সালের এই দিনে বান্দরবানে শুটিংয়ে থাকা স্বামী ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জাহানারা কাঞ্চন। সেই থেকে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করে আসছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’- এই স্লোগান নিয়ে গড়ে তোলেন সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠান- অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) হিসাব বলছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ কমে যাচ্ছে।

এআরআইয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং চালকের বেপরোয়া মনোভাব। মহাসড়কে অপরিকল্পিত গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন, সড়কের পাশে হাটবাজার বসা, চালকের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ইত্যাদি কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে যান চলাচলের সর্বোচ্চ গতি বেঁধে দিয়ে এবং গতি পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে চালকদের ওই নির্দিষ্ট গতি মেনে চলতে বাধ্য করা হলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া চালকদের দক্ষতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে।

বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান আমাদের সময়কে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার জন্য একক কোনো বিষয় দায়ী নয়। আমরা যদি বলি অতিরিক্ত গতিই কারণ; তা হলে ঢাকা শহরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হতো না। আসলে অতিরিক্ত গতি অন্যতম কারণ। চালকের অবহেলা ও প্রশিক্ষণের অভাব তো আছেই। নিয়ম-কানুন না জেনে কেবল স্টিয়ারিংয়ে বসতে পেরেই হয়ে যান চালক। রাস্তা নির্মাণের ত্রুটি, রোড সাইন সর্বত্র না থাকাসহ নানা কারণ আছে সড়ক দুর্ঘটনার। আমরা চাই, সব কারণ বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

সড়ক দুর্ঘটনা রোধসহ পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পরিবহন খাতের শৃঙ্খলাসহ অন্তত ১৯ ধরনের কাজ করে বিআরটিএ; কিন্তু কোনো কাজই যথাযথভাবে করতে পারছে না তারা। এ জন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সক্ষমতার অভাবকে মূল কারণ মনে করেন অনেকে। এ ছাড়া লোকবলের অভাবও আছে।

মাত্র ৮২৩ জন দিয়ে বছরে ৫০ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ ব্যক্তিকে সেবা দিতে হয় বিআরটিএকে। লোকবল বাড়াতে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৮২টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছিল বিআরটিএ; কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাত্র ৩১৫ জনের অনুমোদন দেয়। এর পর অর্থ বিভাগ তা ৯৬ জনে নামিয়ে আনে। এর মধ্যে ৬ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার মানে ৯০ জন নিজস্ব জনবল পাচ্ছে বিআরটিএ। অথচ বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৫০ লাখের কাছাকাছি।

১৯৯০ সালে বিআরটিএর জনবল ছিল ২৯১। তখন সেবা দেওয়া হয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৫ গ্রাহকের। এর পর ২০০০ সালে একই জনবল দিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৯ জন সেবা পান। এর পর ২০১৯ সালে ৮২৩ জনবল দিয়ে সেবা দেওয়া হয় ৫০ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ জনকে।

এদিকে ‘নিরাপদ সড়ক দিবস’ উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলেও নিরাপদ সড়কের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গাফিলতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৬৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আহত হন দেড় শতাধিক মানুষ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আট হাজার ৬৪২ জন। সর্বশেষ ২০২০ সালে মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় পরিবহন বন্ধ থাকলেও ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে ৬ হাজার ৬৮৬ জনের মৃত্যু হয়। আর গত ৬ বছরে ৩১ হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৩ হাজার ৮৫৬ জনের।

২০১১ থেকে ২০২১ সালকে ‘সড়ক নিরাপত্তা দশক’ ঘোষণা করে জাতিসংঘ। এই সময়ের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে যেসব দেশ অনুস্বাক্ষর করেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশও আছে; কিন্তু সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি।সুত্র-আমাদের সময়


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

ধানের শীষের সমর্থনে যুবদলের গণসংযোগ

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি...

ইউরোপ যাওয়ার পথে সিলেটের আব্দুল্লাহ আল মামুনের জানাজা সম্পন্ন

        ইউরোপ যাওয়ার পথে আলজেরিয়ায় মৃত্যুবরণকারী...

আইসিসি ॥ রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার বিচার হবে

        রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে...