বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তবে আজ কেন ?

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ৬ মাস আগে
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

মোঃ নিজাম উদ্দিন  দেশবাসীর নিশ্চয়ই স্মরণে আছে ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারীর কথা ঢাকাকে অবরুদ্ধ করে দেশবাসীকে বিস্মিত করে ঢাকার বকসি বাজারে অস্থায়ী আদলতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি মামলার রায় প্রদান করে বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করা হয়। রায় ঘোষণার দুই দিন পূর্ব থেকে ঢাকা নগরীর সকল আবাসিক হোটেল রেস্তোরাঁ ঢাকার সাথে সকল নৌপথ স্থলপথ রেলপথ বন্ধ করে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হলো সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় সেদিন ছিল পুরো দেশবাসী, কি রায় হয় জানার জন্য সবার দৃষ্টি ছিল টিভি স্কিনের দিকে। অবিশ্বাস্য ভাবে রাজনৈতিক কারণে সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হলো রায় শোনে অশ্রুসজল হলো দেশবাসী, অগণিত মানুষ বিলাপ করে কেঁদেছেন। সেদিন উপহাসের মাত্রা বাড়িয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের মিষ্টি বিতরণও করতে দেখা গেছে, সাথে ছিল তাদের কতো দম্ভোক্তি। ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছায় যা হওয়ার কথা সেদিন তাই হয়েছিল। মামলার রায় ঘোষাণার পূর্বেই সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছিল মামলার রায়ের গতি প্রকৃতি। এতসবের পরেও বিএনপির নেতারা ছিলেন বোকার মতো,সরকার বিএনপির নেতাদের শক্তির পরীক্ষা নিরবে জেনে নিয়েছে, বার বার নেত্রীর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে তাদের মতবল যাচাই করে দেখেছে। যে নেত্রী গণতন্ত্র মুক্তির জন্য অবিরাম সংগ্রাম করেছেন দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছিলেন আপোষহীন,বেগম খালেদা জিয়া সেদিন সরকারের সাথে আপোষ করেননি। ফলশ্রুতিতে যা হওয়ার কথা তাই হলো, বিএনপিকে দূর্বল বা নিশ্চিহ্ন করার মিশন নিয়ে থাকে কারারুদ্ধ করে সরকার, তারা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চকে সফল হলো। রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে অনেক সময় গড়িয়েছে,আওয়ামীলীগ + সরকার তাদের অবস্থান জুলুম নিপীড়ন আর সাজানো নির্বাচনে অনেক বেশি শক্তিশালী করে নিলেন। সকল কৃতিত্ব একজনেরই তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূলের উপর দাড়িয়ে বিএনপি আরো অনেক ভূল করলো সরকারের সাজানো অনেক চকে বিএনপি পা না দিলেও পারতো,বিএনপি একে একে তাদের সকল চক বাস্তবায়নে সুযোগ দিয়ে দিল। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা কিভাবে অপসারিত হলেন বিশ্ববাসী দেখেছে,বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ ছিল বিএনপির জন্য একধরনের নৈতিক পরাজয়। ঐক্যফ্রন্ট শুরুতে যেভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, শেষের উদ্দেশ্য তাদের নিশ্চয়ই ভালো ছিল না। দিন মাস বছর পেরিয়ে আজ দীর্ঘ ২বছর ১ মাস ১৭দিন পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে তাদের বেধে দেওয়া শর্তে জামিনে মুক্ত হলেন। এতো জল গড়িয়ে কেন আজ তার জামিন হলো, সরকার কেন এই দিনটি বেছে নিলেন? রাজনীতির মাঠে সরকার বিগত যে কোন সময়ের চাইতে এখন খুবই নিরাপদ,সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত। সমগ্র পৃথিবী আজ একটি ভাইরাসের সাথে সংগ্রাম করে ক্লান্ত, কেউ শোকাহত কোন কোন জাতি বাকরুদ্ধ। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে থমকে গেছে পুরোবিশ্ব,সবাই নিজেকে নিরাপদ রাখতে গৃহবন্দী,নিরাপদ আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী। লকডাউন সমস্ত পৃথিবী, শ্বাসরোদ্ধকর অবস্থায় ঘরে বসে টিভি স্কিনে সবাই দেখছে করোনাভাইরাসের নিউজ, এমন পরিস্থিতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সংবাদ বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোন টিভি চ্যানেলের শিরোনাম বা কোন সংবাদে স্থান পাবেনা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বেগম খালদা জিয়া আদলতের আদেশে মুক্ত হলে আজ ঢাকার রাজপথে অন্তত বিশ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটতো দেশের বিএনপির অগনিত নেতাকর্মী আনন্দ উচ্ছাসে মেতে উঠতো, সংবাদ হতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। সরকারের জন্য হতো অশনিসংকেত, কিন্তু তা আজ হচ্ছে না। অন্য দিকে গত কিছু দিন থেকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের বেশকিছু মন্ত্রীদের কথা আচরণে দেশবাসী বিক্ষুব্ধ হয়েছিল,গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আলোচনায় সব চাঁপা পড়লো। এক ধরনের জরুরী অবস্থা চলছে দেশে, সেনাবাহিনী দেশের রাস্তায় টহলরত এমন সূবর্ণ সুযোগ কেন হাতছাড়া করতে যাবে সরকার, তাই অতি নিরবে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে মানবিক দায়িত্ববোধের টেবলেট দেশের মানুষকে প্রধানমন্ত্রী খাওয়ালেন। তবুও বলি আলহামদুলিল্লাহ বেগম খালেদা জিয়া আজ মুক্ত । বিচক্ষণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজও তার রাজনীতি খেলায় তিনি জিতে গেলেন। মানবিক না হলেও কঠিন রাজনীতির জন্য,ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,অনেক কঠিনকে আপনি অতি সহজ করতে পারেন বটে। আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল থেকে যখন বাসায় যাচ্ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীদের শ্লোগান শোনে বেগম খালেদা জিয়া নিশ্চয়ই বিরক্ত হয়েছেন দেশবাসীও বিরক্ত হওয়ার কথা। এসব শ্লোগান শ্লোগানের ভাষা আমাদের জন্য সত্যি লজ্জার, বিএনপি নেত্রীর মুক্তির জন্য কিছুই করতে পারেনি উপরন্তু তার অনুপস্থিতিতে দলের অনেক ক্ষতি আমাদের নেতারা করেছেন। দোয়া করি মায়ের মতো নেত্রীকে মহান আল্লাহ যেন সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় দেশবাসীর কল্যাণে কবুল করেন। আমি বিশ্বাস করি সরকারের স্বদিচ্ছায় বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের শূণ্যস্থান পূরন করবেন। মহান আল্লাহ পাকের কুদরতি কদমে নিবেদন করছি মরণব্যাধী করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে বিশ্বের সমস্ত মুসলমান সহ আমাদের আত্মীয় প্রিয়জনকে হেফাজত যেন তিনি করেন,আমিন ইয়ারাব্বাল আলামীন।

২৫.০৩.২০২০ ## , সাবেক চেয়ারম্যান খুরমা (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক। যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।


  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আরও পড়ুন

মাদার ত্যারেসা গোল্ডেন এওর্য়াড অজর্ন কাজী মাও আখলাকুল আম্বিয়া

         গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ...

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবীতে পজিটিভ জেনারেশন অব সোসাইটির মানববন্ধন

         অরাজনৈতিক ও অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক...

সাম্বা উৎসবে মাতোয়ারা হেলসিংকি

         জামান সরকার, হেলসিংক:  ফিনল্যান্ডের রাজধানী...