বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০১৯     আপডেট : ৫ মাস আগে  
  

দিনভর অবিরাম বর্ষণে গতকাল মঙ্গলবার সিলেটের জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলায় বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে নাকাল ছিলেন নগরবাসী।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে রিক্সা চলাচল অনেকটা কমে যাওয়ায় স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বৃষ্টির কারণে দুর্গাপূজার বেচাকেনাও কমে যায়। সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
নগরবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকেই সিলেটের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন । এরপর শুরু হয় থেমে থেমে বৃষ্টি। এক পর্যায়ে মুষলধারে অবিরাম বর্ষণ শুরু হয়। বর্ষণ অব্যাহত ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত। বৃষ্টির কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী, অফিস-আদালত ফেরত কর্মজীবী পুরুষ মহিলা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। অনেকেই রিক্সা না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাসা-বাড়িতে পৌঁছেন। সন্ধ্যার পর বৃষ্টি কমতে থাকে। তবে, হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।
দিনভর মুষলধারে বৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের লন্ডনী রোড থেকে মদিনা মার্কেট এলাকা একেবারে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এ সময় সড়কের উভয় পাশে দু’শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এমনকি ইঞ্জিনে পানি ঢুকে প্রাইভেট গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরবাইক বিকল হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, ভারি বর্ষণে নগরীর দাঁড়িয়াপাড়া, জামতলা, চৌহাট্টা সড়ক ও জনপথ অফিসের সামনের রাস্তা, হাওয়াপাড়া, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, ছড়ারপাড়, পুরানলেন, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, ভাতালিয়া, যতরপুর, উপশহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সন্ধ্যার পর ভারি বর্ষণ কম হওয়াতে ধীরে ধীরে সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করে।
পাঠানটুলার সিএনজি অটোরিকসা চালক আবিদ হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে যাত্রী পাওয়া গেলেও রাস্তায় পানি উঠার কারণে যানবাহন চালনার প্রতি ছিল আমাদের অনীহা। আবার যাত্রীদের অনুরোধে যেতে চাইলেও পথিমধ্যে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে।’ রিকশাচালক ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘রাস্তায় পানি উঠলে গর্ত দেখা যায় না। যাত্রীদের নিয়ে গেলে অনেক কষ্ট করতে হয়। কিন্তু তারা আমাদের ভাড়া বেশি দেয় না। কোন কোন সময় গর্তে পড়ে রিক্সার রিং ভেঙে যায়। এ কারণে আমরা বৃষ্টি হলেই রিক্সা নিয়ে বের হই না।’ তবে বৃষ্টির কারণে রিক্সা ও অটোরিক্সার চালকরা বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
যোগাযোগ করা হলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মদিনা মার্কেট এলাকায় সড়কে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। আমরা এ সড়কের ড্রেন বড় করার জন্য ৬ মাস আগে কাজ ধরেছি। এই ড্রেন লন্ডনী রোডের মুখ হতে মদিনা মার্কেট হয়ে ধোপাছড়া পর্যন্ত যাবে। তিনি বলেন, এই সড়কে জলাবদ্ধতার খবর পেয়েই সিটির লোকজন পাঠিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে সড়ক থেকে দ্রুত পানি নেমেছে। তিনি বলেন, নগরীর অনেক স্থানে ড্রেনের কাজ চলছে। তা শেষ হলে আশা করি আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

আরও পড়ুন