বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন শাবি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেশে প্রথম যাত্রা শুরু করে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উদ্ভাবন, গবেষণা এবং শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের র্শীষ এই বিদ্যাপীঠটি।
উদ্ভাবন ও গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ নভেম্বর শনিবার আরেক সাফল্য যুক্ত হয়েছে শাবি’র ঝুলিতে। শনিবার ঢাকার ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের সবচেয়ে মর্যাদাকর ইভেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (এসিএম আইসিপিসি) প্রতিযোগিতায় ঢাকা সাইটে চ্যাম্পিয়ন হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি।
শাবি’র কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের মওদুদ খান শাহরিয়ার, জুবায়ের আরাফ ও অভিষেক পাল নামে তিন শিক্ষার্থী ‘সাস্ট ডেসিফ্রেডর’ নামে টিম নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায়।
এতে রানার আপ হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের একটি দল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একটি দল। শাবি ও বুয়েটের এই দু’টি দলই ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্তুগালে অনুষ্ঠিতব্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। এদিকে, এ নিয়ে ৭ম বারের মতো ওয়ার্ল্ড ফাইনালে অংশ নেবে বলে জানান, এই দলের কোচ একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক এগিয়েছি, যার ফলশ্রুতিতে ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরেছি। তিনি জানান, এবার আমরা ওয়ার্ল্ড ফাইনালে গিয়ে অন্তত সাউথ এশিয়া রিজিওনে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এই রিজিওনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ এশিয়ার বেশক’টি দেশ প্রতিযোগিতা করবে।
প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সফলতা নিয়ে কথা হয় বিশ^বিদ্যালয়ের এই তিন শিক্ষার্থীর সাথে। ‘সাস্ট ডেসিফ্রেডর’ এর দলনেতা মওদুদ খান শাহরিয়ার বলেন, ‘এ বছরের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৮টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে একমাত্র শাবির দলটি ৬ টি
সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়। ২০১২ সালে প্রথমবার ফাইনালে যাওয়ার পর এ নিয়ে গত ৮ বছরে ৭ম বার মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশ নেবে শাবি। তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকে আমাদের নিজের বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়। আমাদের তিনটি ধাপ অতিক্রম করে ফাইনালে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহের সম্পর্কে তিনি বলেন, কলেজে থাকাকালে নিজের বড় ভাইয়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। ভাইয়ের হাত ধরেই মূলত প্রোগ্রামিং জগতে প্রবেশ করেছি। শাবি’র ভর্তি পরীক্ষায় ১০ম হয়ে প্রোগ্রামিংয়ের আগ্রহ থেকে সিএসই বিভাগে ভর্তি হই। বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অন্তত ২০টি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি এবং একবার দেশের বাইরে গিয়ে দলগতভাবে ৫৬তম হয়েছি।’ পড়ালেখা শেষে গুগল, মাইক্রোসফটে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া সেখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা আছে বলে জানান তিনি।
আরেক সদস্য জুবায়ের আরাফ জানান, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই প্রোগ্রামিংয়ে যুক্ত হয়েছেন তিনি। শাবি’র ভর্তি পরীক্ষায় ৩৭তম হয়ে সিএসই বিভাগে ভর্তি হন। একাডেমিক পড়ালেখার বাইরে প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে তার। এ পর্যন্ত অন্তত ১২টি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। এবারই তার সর্বোচ্চ সাফল্য। গুগলে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বন্ধুত্বপূর্ণ কাজের পরিবেশ এবং কাজ করার অনেক বেশি সুযোগ থাকায় তিনি গুগলে যেতে চান। তবে কাজের ভালো পরিবেশ পেলে দেশেই কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
অন্য আরেক সদস্য অভিষেক পাল বলেন, কলেজে থাকাকালে শখের বসে তিনি প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করতেন। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেই তিনি পূর্ণভাবে প্রোগ্রামিংয়ের সাথে যুক্ত হন। বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৭ম স্থান অর্জন করেছিলেন। এরপরেই পছন্দের বিষয় হিসেবে সিএসই বিভাগে ভর্তি হন। তিনি দেশের মধ্যেই কিছু একটা করতে চান। তবে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য গুগলে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।
প্রোগ্রামিংয়ে যুক্ত হওয়ার জন্য তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, হাইস্কুল লেভেল থেকে প্রোগ্রামিংয়ের কাজ শুরু করলেই ভালো। তবে সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্যাশন (আগ্রহ) থাকা চাই। আগ্রহ সহকারে কাজ করতে হবে। প্রোগ্রামিংকে ফান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আইসিটি বইয়ে থাকা প্রোগ্রামিংয়ে পড়ে থাকলেই হবে না মন্তব্য করে তিনি, অন্যান্য দেশের যারা আমাদের সাথে প্রতিযোগীতায় অংশ নেন তাদের বেশিরভাগ খুবই ছোটোবেলা থেকে প্রোগ্রামিং করে আসছেন। এ বিষয়টা মাথায় রেখেই প্রোগ্রামিং এ জড়িত হওয়ার পরামর্শ দেন তারা। এই তিন শিক্ষার্থী বলেন, প্রোগ্রামিং করতে খুব বেশী একটা টাকা পয়সার দরকার পড়ে না। বিশেষ করে এখন স্কুল কলেজ গুলোতে ল্যাব আছে। সেজন্য প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছা ও ধৈর্যশক্তি। তাহলেই দেখা মেলবে কাক্সিক্ষত সেই স্বপ্নের বাস্তবরূপ।

আরও পড়ুন

এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে জবাবদিহি করার নির্দেশ

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র...

জামায়াতের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ বিএনপি

ঘরেবাইরে সংকটে থাকা বিএনপির সঙ্গে...