বিশ্বাসীরা কখনো হতাশ হয় না

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: মানুষের জীবন এক অদ্ভুত কখনো হাসি কখনো কান্না কখনো কষ্ট এইগুলি নিয়ে আমার পৃথিবীতে বেঁচে আছি!হাসি কান্নার যৌথ বন্ধনেই মানুষের জীবন বাঁধা।কখনো হাসি কখনো কান্না–এরই নাম জীবন।হাসি ছাড়া যেমন একটা জীবন কল্পনা করা যায়না তেমনি কান্না ছাড়াও জীবন হয়না।এই হাসি আর কান্নার সাথে অপর দুটি অনুভূতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত আছে,তা হচ্ছে সুখ আর দুঃখ।স্বাভাবিক ভাবে বলতে গেলে মানুষ সুখে হাসে আর দুঃখ মানুষকে কাঁদায়।মানুষের জীবন হাসি, কান্না,দুঃখ, বেদনা নিয়ে তৈরী।মানুষের জীবন সুখ দিয়ে কেটে যায় না বা সব সময় মানুষ সুখে থাকতে পারেন।অনেক সময় সুখের মাঝে দুঃখ হঠাৎ করে চলে আসে।যার একমাত্র ফল হলো চোখের পানি। সব সময় আবার দুঃখ থাকেনা মানুষের জীবনে।দুঃখের মাঝে হঠাৎ করে মেলে যায় সুখের দেখা।এই সুখ, দুঃখের খেলা নিয়ে মানুষের জীবন।কিন্তু মাঝে মাঝে মানুষ সুখেও কাঁদে।আনন্দে অশ্রু বন্যা হয়।
আবার দুঃখ পেতে পেতে মানুষ একসময় হাসতে শুরু করে।সেই হাসির সুরে কান্নার সুর নিবিড়ভাবে মিশে থাকে।সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।কখনো পরীক্ষা হিসেবে,কখনো কর্মের ফল হিসেবে।
হাসির দিনগুলোতে দুঃখ আর আসবেনা এমনটি ভেবে আয়েশে লিপ্ত হওয়া যেমন ভুল তেমনি কান্নার দিনগুলোতে ধৈর্য্য হারিয়ে হতাশায় লিপ্ত হওয়াটা আরো বড় ভুল।এই পৃথিবীতেই জীবনের শেষ নয়।মৃত্যু হওয়ার পর অনন্তকালের নতুন একটা জীবন শুরু হবে সেই জীবনে সুখে থেকে হাসতে পারাটাই সফলতা।সে জীবনের হাসি কখনো ফুরাবেনা।আবার সে জীবনের দুঃখ কান্না বড়ই নির্মম কঠিন।যা সহ্য করার ক্ষমতা না থাকলেও সইতে হবে নিজের কৃতকর্মের কারণে।

জীবনে সফল হওয়ার অর্থ কী? জেনে নিন!

আমরা মানুষ বর্তমানে প্রতিযোগিতা করে থাকি একে অন্যের সাথে, কে কার থেকে বেশি সম্পদশালী হব। কারণ জীবনে সফল হওয়ার মানে বলতে আমরা বুঝে থাকি সেটেলমেন্ট, টাকা, ক্ষমতা, সম্পদ ইত্যাদি অর্জন করা। আবার অনেকে মনে করেন শুধু টাকা নয় শিক্ষিত হওয়া ও সম্মান এর পাত্র হওয়াও সফলতার অংশ বটে। আর তাই সারা জীবন আমরা বেহুঁশ হয়ে এসব কিছুর পিছনে ছুটছি সফলতা অর্জনের জন্য। যাইহোক এবার আপনাদের কে অবাক করার মত কিছু ব্যাপারে জানাব যা জানা একান্ত প্রয়োজন….!

খুব গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুনতো, যে জীবন এর সফলতার কথা আপনি ভাবছেন সেটা কী আসলে আপনার জীবন? উত্তরঃ অবশ্যই না, কেননা জীবন সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল ইজ্জত আল্লাহর দান এবং আমরা সৃষ্টির সেরা তথা ‘আশরাফুল মাখলুকাত’। আমরা অত্যন্ত বুদ্ধিমানও বটে। তাহলে আমাদের আগে ভাবা প্রয়োজন, আমাদের কে সেই জীবন দানের পিছনে আল্লাহর অবশ্যই কোন মহান উদ্দেশ্য রয়েছে। কারন আমরা চতুষ্পদ প্রাণী নই যে খাব, ঘুমাব, বংশ বৃদ্ধি করব, যা খুশি তাই করব আর তাতেই আমরা আল্লাহর সেরা সৃষ্টির দাবী করব এবং ইচ্ছামত জীবনের সফলতা নির্ধারণ করব। মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন শুধু মাত্র তার ইবাদত করার জন্য। এটাই আল্লাহর মূল উদ্দেশ্য যা পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফে অনেকবার বলা হয়েছে। আর আমাদের ভাগ্য (তগদীর) তিনি অনেক আগেই নির্ধারণ করেছেন, এমনকি আমরা দুনিয়ায় জন্মগ্রহন করারও বহু আগে তা নির্ধারিত হয়েছে। সুতরাং বুঝা সহজ যে আমরা শত চেষ্টা করেও সেই নির্ধারিত ভাগ্যের বেশি অর্থ-সম্পদ, বিদ্যা, সম্মান, ইত্যাদি অর্জন করতে পারব না (উল্লেখ্য রাসুল (সা.) বলেছেন, “দুআ ছাড়া অন্য কিছু তগদীর রদ্দ বা খন্ডন করতে পারেনা এবং নেক আমল ছাড়া অন্য কিছু আয়ু বৃদ্ধি করতে পারেনা”-তিরমিযী ২১৩৯, সহীহুল যামে ৭৬৮৭)। তাহলে আমাদের এখন লজ্জা পাওয়ার কথা কারণ আমরা যাকে সফলতা ভেবেছি সেটাতো সফলতা নয় বরং যে প্রতিযোগিতা করছি সেটাও অর্থহীন, কারন আপনার ভাগ্যে যা আছে তা আপনার কাছে পৌঁছানো হবে, বিন্দুমাত্রও কম-বেশি করা হবেনা। আর তগদীরে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অংশ। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, “কোন বান্দাহই মুমিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত না সে তগদীর ও তার ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনবে। এমনকি তার নিশ্চিত বিশ্বাস থাকতে হবে যে, যা কিছুই ঘটেছে তা কিছুতেই অঘটিত থাকত না এবং যা কিছু ঘটে নাই তা কখনো তাকে স্পর্শ করবে না”-সহীহ সহীহাহ ২৪৩৯ঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)।

তার মানে এটা স্পষ্ট যে, মহান আল্লাহর ইচ্ছা পূরন করতে পারাই জীবনের মূল সফলতা, অথচ আমরা ভুলের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি। তাই এখন থেকে আর কখনো অর্থ-সম্পদ অর্জনে প্রয়োজনের বেশি সময় দিবেন না, কারন আপনার টা আপনি অল্পতেই পেয়ে যাবেন। এবং অসৎ প্রতিযোগিতাও করবেন না যদি বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন কারন মৃত্যুর পর আপনি খালি হাতেই ফিরে যাবেন আল্লাহতাআলার কাছে। সুতরাং দয়াময় আল্লাহ ও তার মহান হাবীব রহমতাল্লিল আলামিন হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর দেখানো সত্যের পথে নিজেকে নিয়োজিত করে আল্লাহর মুমিন বান্দা হিসেবে ঈমান নিয়ে মৃত্যু বরন করাই জীবনের একমাত্র ও সঠিক সফলতা!!!
ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না :

ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে কোন লাভ নেই এতে শুধুমাত্র পেরেশানি। কারণ ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে!

”আল্লাহর আদেশ আসবেই,সুতরাং তোমরা এর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড় না।”
(সুরা নাহল: আয়াত-১)

যা এখনো ঘটেনি তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হবেন না। আপনি কি ফল পাকার আগে তা ছিড়ে ফেলাকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেন? আজকে আগামী দিনের কোনো বাস্তবতা নেই, তাই তা গুরুত্বহীন। অতএব, আপনি তা নিয়ে ব্যস্ত হবেন কেন? ভবিষ্যৎ বিপর্যয় সম্বন্ধে কেন আপনার আশঙ্কা থাকতেই হবে? ভবিষ্যৎ দুর্বিপাকের দুর্ভাবনা নিয়ে আপনাকে কেন বিভোর থাকতেই হবে? বিশেষ করে যখন আপনি জানেন না যে, আগামী দিনের মুখটাই দেখতে পারবেন কিনা?

যে গুরুত্বপূর্র বিষয়টি জানতে হবে তা এই, আগামী দিন অদৃশ্য জগতের এমন এক সেতু যা আপনাদের সামনে না আসা পর্যন্ত আমরা তা অতিক্রম করতে পারি না। কে জানে, হয়তোবা আমরা কখনো সে সেতুর কাছে না-ও পৌঁছতে পারি, অথবা আমরা সেটার কাছে পৌঁছার পূর্বেই তা ধ্বসে যেতে পারে, অথবা আমরা হয়তো সে সেতুতে পৌঁছে তা নিরাপদে পার হব। ভবিষ্যতের আশঙ্কায় অধীর হওয়া ধর্মকে অবজ্ঞা করার মতো ; কারণ, ঐ আশঙ্কা এজগতের সাথে আমাদের এক দীর্ঘকালীন সম্পর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। যে সম্পর্ককে একজন প্রকৃত মুমিন পরিহার করে।এ পৃথিবীর বহু লোকই ভবিষ্যৎ দরিদ্র্য, ক্ষুধা, পীড়া ও দুর্যোগ ভয়ে অযৌক্তিকভাবে ভীত। এ ধরনের চিন্তা ভাবনা শয়তানের ধোঁকা মাত্র।
”শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় ও অশ্লীল কাজ করার আদেশ করে অথচ আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।” (সুরা বাকারা: আয়াত-২৬৮)

অনেকেই এমন আছে, তারা নিজেদেরকে অাগামী দিনের ক্ষুধার্ত ভেবে, একমাস পরের রোগী ভেবে অথবা একশ বছর পর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এই কল্পিত ভয়ে কান্না করে। যে ব্যক্তি জানে না কখন সে মারা যাবে (অথচ আমাদের সবাইকে মরতে হবে) যে ব্যক্তির কাছে মিত্যুর সময়ের কোনো ইঙ্গিত নেই -সে ব্যক্তির উচিত নয় নিজেকে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনায় নিমগ্ন রাখা।যেহেতু আপনি আজকের কর্ম নিয়ে ব্যস্ত তাই ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা পরিহার করুন। এ পৃথিবীর ভাবী কল্পিতদৃশ্য নিয়ে অযৌক্তিকভাবে দুশ্চিন্তায় নিয়োজিত হওয়া থেকে সাবধান হোন।
মনবিজ্ঞানে হতাশাকে নেতিবাচক আবেগ বলা হয় । শুধু মনবিজ্ঞানেই নয় রাসূল (সা.) বলেছেন, “হতাশ হওয়া কুফরী” । ছোট বেলা থেকে বই পুস্তকে পড়তাম ও বড়দের কাছে শুনতাম, “হতাশ হইও না, হতাশ হওয়া ভাল নয়”। কেন হতাশাকে “না” বলা হয়? আসুন হতাশার মনবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন করার চেষ্টা করি ।আসলে না জানার কারনে অনেক সময় অপত্যাশিত কিছু ঘটলেই আমরা হতাশ হয়ে ভাগ্যকে দোষ দিতে থাকি । এটা চরম বোকামী । কারন জীবনে কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয় । দুঃখও স্থায়ী নয় । রাতের পর যেমন দিনের আগমন অবধারিত তেমনি দুঃখের পর সুখের আগমন অবধারিত । দোয়া অব্যাহত রাখতে হবে । কারনে রাসূল (সা.) বলেছেন, “মুমিনের দোয়া কখনই বৃথা যায় না । তিন ভাবে সেটা পূরন করা হয়, এক-সাথে সাথে সেটা পূরন করা হয়, দুই- এর বিনিময়ে তার কোন বড় বিপদ-মসিবত দূর করা হয়, তিন- তা কয়েকগুন বাড়িয়ে আখেরাতের জন্য রেখে দেয়া হয়” ।
মানুষ যা আশা করে বা স্বপ্ন দেখে তা যদি না ঘটে বা না পায় তখন মানুষের যে নেতিবাচক মানুসিক অবস্থা হয় তাকে হতাশা বলে । মানুষ মাত্রই চাহিদা থাকবে । আর এই চাহিদার সবটুকু কখনই পূরন হবে না । আর যখন পূরন না হবে তখন তার মধ্যে হতাশার আগমন খুবই স্বাভাবিক । এই স্বাভাবিক বিষয়টাকে কেন “না” বলা হয়? কেন হতাশাকে প্রশ্রয় দিতে এত বাঁধ সাধা হয়? কারন অবশ্যই আছে । এবং সেই কারন খুবই যুক্তিসঙ্গত ।
.
মানুষ যখন হতাশাগ্রস্থ হয় তখন তার স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ব্যত্যয় ঘটে । যেমন হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তির ক্ষুধা কমে যায়, খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে যায়, কোন কাজ একাগ্রচিত্রে করতে পারে না ফলে কোন কাজেই তেমন অগ্রগতি আসে না । কোনো কাজ করতে তার ভালও লাগে না । কারো সাথে ভালকরে কথা বলতে ইচ্ছে করে না । রাতে ভাল ঘুম হয় না । নামাজে মনোযোগ থাকে না । কোন ধর্ম-কর্মে মন বসে না । পড়াশোনায় মনযোগ থাকে না । কোন গঠনমূলক বা সৃজনশীল কাজ তার দ্বারা একেবারেই হয় না । ফলে তার চেহারার লাব্ন্য কমে যায়, চোখের নিচে কালি পড়ে, চুল ঝড়ে যায়, অকালে চুল দাড়ি পেকে যায়, তাছাড়া বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, হাই ব্লাড প্রেশার, হার্টের রোগ সহ নানা ধরনের বড় বড় রোগ শরীরে বাসা বাধে । এই ব্যত্যয়ের ফলে মানুষ ডিপ্রেশন, সিজোফ্রেনিয়ার মত মানুষিক রোগে আক্রান্ত হয় এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আত্মহননের দিকে উদ্ভুদ্ধ করে । ক্রিমিনাল সাইকোলজি আমাদের বলে মানুষের আত্মহননের পেছনে অন্যতম প্রধান কারন হল হাতাশা । অর্থাৎ মানুষ প্রথমে কোন কারনে চরম হতাশ হয় তারপর আত্মহনন করে। বিষয়গুলো সাজালে অনেকটা এমন হয়, প্রত্যাশ→ অপ্রাপ্তি→ হতাশা→ আত্মহনন ।
.
দুর্বল মনের এবং আত্মবিশ্বাসহীন মানুষরা বেশি হতাশাগ্রস্থ হয় । আপনি যদি মুসলিম হন তবে অবশ্যই আপনি ভাগ্যে বিশ্বাস করবেন । আর ভাগ্য বিশ্বাসের মূল কথা হল, ভাগ্যের ভাল ও মন্দ আল্লাহ নির্ধারন করেন । মহান আল্লাহ কখনই তার নেক বান্দার জন্য মন্দটা নির্ধারন করবেন না । স্থুল দৃষ্টিতে অনেক কিছু আমাদের কাছে মন্দ বলে মনে হয় । কিন্তু আমরা হয়তো জানি না এই মন্দের পেছনেই লুকিয়ে আছে প্রভুত কল্যান । এ প্রেক্ষিতে একটা সত্য ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে ।লোকটা ছিল যথেষ্ঠ দ্বীনদার । কুয়েত চাকরী করে । বেতন আশি হাজার টাকা । এক মাসের জন্য দেশে ছুটি কাটাতে এসেছে । ছুটি শেষে যেদিন চলে যাবে সেদিন বিমান বন্দরে যাওয়ার পথে দীর্ঘ জ্যামে আটকা পড়ে । এক ঘন্টার পথ তার চার ঘন্টা লেগে যায় । ফলে সে তার নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করে । এদিকে কালকের মধ্যে অফিসে এটেন করতে না পারলে তার চাকরীটা থাকবে না । খোজ নিয়ে জানতে পারে আগামী তিন দিন কুয়েতগামী আর কোন ফ্লাইট নেই । এমন এক বাস্তবতায় সে চরম হতাশ হয়ে পড়ে । সে মনে মনে আল্লাহর উপর অসুন্তুষ্ট হয় । কাঁদতে কাঁদতে ভাগ্যকে দোষ দিতে থাকে । চরম হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে টেক্সির রেডিওতে ব্রেকিং নিউজে শুনতে পায়, বেলা বারটায় কুয়েতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বিমানটা যান্ত্রিক গোলযোগের কারনে বিদ্ধস্ত হয় । এবং সব যাত্রী অন দ্যা স্পট নিহত হয় । এই নিউজটা শোনার পর সে বারবার আল্লাহকে ধন্যবাদ দিতে থাকে । বিপুল আনন্দে হাসতে হাসতে নিজের ভাগ্যের উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে থাকে । আর বলতে থাকে আমার ভাগ্যটা কত ভালো ! আজ যদি আমিও ঐ প্লেনে থাকতাম তবে আমিও হয়তো নিহত হতাম । বেচে থাকলে চাকরী বহু পাওয়া যাবে । কিন্তু জীবনটাই চলে গেলে চাকরীর কি মূল্য থাকবে ? এই মানুষটা কিছুক্ষন আগেই না জানার কারনে নিজের ভাগ্যকে তিরস্কার করে হতাশ হয়ে গিয়েছিল সেই মানুষটাই আবার কিছুক্ষন পর সেই ভাগ্যকেই সকৃতজ্ঞে ধন্যবাদ দিতে থাকে ।মহান আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা যেটাকে খারাপ মনে কর হতে পারে সেটা তোমাদের জন্য ভাল, আবার তোমরা যেটাকে ভাল মনে কর হতে পারে সেটা তোমাদের জন্য খারাপ । বস্তুত আল্লাহই প্রকৃত বিষয়টা জানেন আর তোমার জানো না” (সূরা বাকারা/২১৬)।সুতরাং মুমিন কোন ভাবেই হতাশ হতে পারে না।

আরও পড়ুন



কমলগঞ্জে মহিলার মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ণ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ...

স্পিকার আয়াছ মিয়ার ২৫ হাজার টাকা অনুদান

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বিশ্বনাথ থানা...

জগন্নাথপুরের আহবাব হোসেইন সর্বাধিক ভোট পেয়ে বৃটেনে কাউন্সিলর নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচনে...

বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা চিকিৎসকদের

শিক্ষানবীশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসককে ধর্ষণের হুমকি...