বিমানের সংকট কাটলেও প্রবাসীদের যাত্রার অনুমতি নেই

প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বৈশ্বিক কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গত ৪ জুলাই থেকে ফ্লাইট চালু হয়। ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে এরই মধ্যে অনেকের ভিসার মেয়াদ চলে গেছে। কারও মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। তবু কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারছেন না। বছরের শুরুতে যেসব প্রবাসী শ্রমিক দেশে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন, করোনায় তারা আটকা পড়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ শ্রমিকের সংখ্যা হবে সাড়ে চার লাখ। বিপুল পরিমাণ মানুষ বিদেশ যেতে চাইছেন। গত কদিন টিকিট সংকট ছিল। এখন দেখা দিয়েছে যাত্রার অনুমতির অভাব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন গতকাল বলেছেন, করোনার কারণে বিদেশে অনেক প্রবাসী সমস্যায় রয়েছেন। সংকট কিছুটা কেটে যাওয়ায় আটকা পড়া প্রবাসীরা ফিরতে শুরু করেছেন। তবে কয়েকটি দেশ নতুন নতুন আইন জারি করে কিছুটা সমস্যা করছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার নতুন আইন করেছে,

শুধু ভিসার মেয়াদ থাকলেই প্রবাসীরা ফিরে যেতে পারবেন না। এজন্য প্রয়োজন হবে কফিলের গ্রিন সিগন্যাল। নতুন এই আইনের কারণে কিছু প্রবাসীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিসার মেয়াদ থাকার পরও তারা সে দেশে যেতে পারছেন না। তবে এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কাজ চলছে। গতকাল দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী প্রতিকৃতি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের অবস্থা এত খারাপ থাকবে না। ভিসার মেয়াদ নিয়ে তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিনা খরচে ভিসা অটোমেটিক রিনিউ হবে।

এদিকে গতকাল বিকালে কথা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোকাব্বির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এত দিন টিকিট সংকট ছিল। এখন তা নেই। বরং রয়েছে অনুমতির অভাব। আবুধাবিতে এমপ্লয়মেন্ট ভিসাধারীদের যেতে বারণ করা হয়েছে। কারণ তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। দুবাই, লন্ডনসহ কোনো গন্তব্যেই টিকিটের সংকট নেই।

অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অফিস কাউন্টার ভাঙচুর প্রসঙ্গে বিমানের এমডি বলেন, সেটি ঘটেছে আবুধাবির ক্ষেত্রে। দুবাইয়ে রেজিস্ট্রেশন করে যেতে হয় তাই সে রকম সমস্যা হয়নি। আবুধাবির ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা না থাকায় সবাই একসঙ্গে টিকিট কাটতে চেয়েছেন। কিন্তু দেখা গেল, ইমিগ্রেশন থেকে যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ রকম ফেরত পাঠালে যাত্রীর পাশাপাশি বিমানেরও লোকসান।

জানা গেছে, যাত্রীর তুলনায় ফ্লাইট কম থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে টিকিটের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছিল। দুবাই ও আবুধাবির টিকিটের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ছিল হাহাকার। দুবাই ও আবুধাবি প্রবাসীরা সে দেশের সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ফিরে যাওয়া শুরু করেছেন; কিন্তু টিকিট সংকট ছিল ভয়াবহ রকমের। প্রবাসীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ঘুরেও তারা টিকিট পাচ্ছেন না। বাড়তি ভাড়া দিয়েও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে নতুন টিকিট দিচ্ছে না। এমনকি অন্য এয়ারলাইন্সের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আবুধাবির ইমিগ্রেশন থেকে ফিরে এসেছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে বিমান চলাচল এখনো বন্ধ। সৌদি আরবে এখনো ফ্লাইট চালু হয়নি। যেসব দেশ চালু করেছে, তারাও নানা রকম বিধিনিষেধ জারি করেছে। ওয়ার্ক পারমিট না থাকলে কোনো যাত্রীকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। আরব আমিরাত ফ্লাইটের আসন ২৪০টি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এই নির্দেশনার কারণে বিমানের বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজে ৪১৯ জন ও বোয়িং- ৭৮৭-৮ এ ২৭১ জন যাত্রী পরিবহনের সুযোগ থাকলেও তা করা যাচ্ছে না। এটি ছিল টিকিট সংকটের অন্যতম কারণ।

গত কদিন অভিযোগ উঠেছে, যাত্রীরা বিমান অফিসে গিয়ে টিকিট না পেলেও দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিলে মেলে টিকিট। কয়েক দিন ধরে ৩৮ হাজার টাকার টিকিট বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়। এদের সঙ্গে বিমানের মার্কেটিং বিভাগের একটি অসাধু চক্র জড়িত। কোনো যাত্রী টিকিটের জন্য বিমানের অফিসগুলোয় গেলে তাকে বলা হয়- টিকিট নেই। বাংলাদেশ বিমানের টিকিট না পেয়ে চট্টগ্রামে ভাঙচুরের পরিপ্রেক্ষিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ঢাকা-দুবাই ও ঢাকা-আবুধাবি রুটে যেসব যাত্রী আগে ফিরতি টিকিট করার পরও করোনার কারণে তখন যেতে পারেননি, আগে তাদের টিকিট দেওয়া হবে। ফিরতি টিকিট রি-ইস্যু সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল নতুন করে টিকিট বিক্রি শুরু করা হবে। তবে এ নোটিশের কার্যকারিতা আর নেই। নতুন করে নোটিশ দিয়ে মঙ্গলবার বিমান বলেছে, এমপ্লয়মেন্ট ভিসাধারী যাত্রীদের বর্তমানে আবুধাবিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এই ভিসায় দেশ থেকে আর কোনো যাত্রী পরিবহন করবে না। একই সঙ্গে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইটের বদলে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান।

বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার জানান, আপাতত আবুধাবিগামী এমপ্লয়মেন্ট ভিসাধারী যাত্রীদের গ্রহণ করছে না সংযুক্ত আরব অমিরাত। তাই এ ধরনের যাত্রীদের পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। একই কারণে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসতে আগ্রহী যাত্রীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ছয়টির পরিবর্তে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ভবিষ্যতে আবুধাবি কর্তৃপক্ষ এমপ্লয়মেন্ট ভিসাধারীদের গ্রহণে সম্মত হলে বিমান পুনরায় যাত্রী পরিবহন শুরু করবে।

এদিকে আবুধাবি থেকে ৬৮ জন প্রবাসী শ্রমিককে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই প্রবাসীরা যেসব কোম্পানি ও এজেন্সির মাধ্যমে আবুধাবিতে গিয়েছিলেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আমিরাত সরকার বাতিল করে দেয়। আবুধাবি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ভেতরে ঢুকতেই দেয়নি। তারা গত সোমবার সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। আবুধাবিতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এর পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

সূত্র জানায়, অনেক সময় যে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অধীনে কর্মীরা কাজ করেন, তারা কর্মীদের ফেরত নিতে না চাইলে সে দেশের ইমিগ্রেশনকে আগেই জানিয়ে দেয়। ফলে ইমিগ্রেশন আর তাদের প্রবেশ করতে দেয় না। বিমান ও এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ একই ফ্লাইটে যাওয়া ১৯ যাত্রী ঠিকই আবুধাবিতে প্রবেশ করতে পেরেছেন। বাকিদের সে দেশের ইমিগ্রেশন প্রবেশ করতে না দিলে এয়ারলাইনসের দায় নেই বলে মনে করছেন বিমান কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি তদন্তের ওপর ছেড়ে দেন।

এদিকে যাত্রীসেবা বৃদ্ধি নিয়ে গতকাল বিকালে বৈঠক করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। অনলাইন বৈঠকে মন্ত্রণালয়, বিমান, বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে বিমানের সাম্প্রতিক টিকিট সংকটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কাজলশাহ দিঘির পানি পরিস্কারের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

         সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের...

সিলেট বিভাগে আরো ১২ জন করোনায় আক্রান্ত

         সিলেট বিভাগে আরো ১২ জন...

জৈন্তায় গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১

         জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়া বাজারে একটি...