বাস্তবতা

,
প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেখ রুহেল: তিন বছর পর সুদূর প্রবাস থেকে দেশে ফিরলো আলভিন রোমান। এবার কাউকে না জানিয়ে সে সোজা একাই দেশে চলে এল। এমনকি বাবা-মা’কেও না! কারণ একটাই উদ্দেশ্য ছিল দেশে এসে সবাইকে সারপ্রাইজ দেয়া। যদিও সে আপ্রাণ চেষ্টা করে প্রতিবছর এইসময় দেশে ফেরার। কোনো কারণে না আসতে চাইলেও দেশ থেকে বন্ধুবান্ধবরা সবাই রিং দিয়ে দেশে আসার জন্যে খুব রিকুয়েস্ট করতে থাকে। তাদের এসব আন্তরিকতা-ভালবাসা উপেক্ষা করে প্রবাসে কি সে থাকতে পারে! যতবার সে দেশে আসে কমপক্ষে চার/পাঁচ জায়গা ঘুরে দেখার জন্যে রুটিনে অন্তর্ভূক্ত থাকে। বাইক ছাড়াও প্রাইভেট পুরানো কার একটা তাদের ছিল। এজন্য দেশে আসলে বন্ধুদের নিয়ে চক্কর দিতে তার কোনো অসুবিধে হত না। কিন্তু গত দু’বছর হয়ত কোনো অসুবিধে থাকায় রীতিমত পূর্বের ন্যায় দেশে আসা আর হয়নি।
যাইহোক তিন চারদিন পর বারান্দায় বসে হঠাৎ একা একা সে ভাবতে থাকে, দেশে আসার কথা যদি আমার বন্ধু-বান্ধব জানতো তবে এতক্ষণে হয়ত তারা বাড়িতে এসে হাজির থাকতো। অথচ না জানার কারণে কেউ এখনো দেখতে আসেনি বরং আসার কথাও না।
তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় বন্ধুদেরকে ফোন দিয়ে ইনভাইট করবে শুক্রবারে তার বাড়িতে দুপুরবেলা খাওয়া দাওয়ার জন্যে। আলভিন রোমান এক এক করে সব বন্ধুবান্ধবকে দাওয়াত দিলে সবাই খুব খুশিতে শুক্রবারে উপস্থিত থাকে। এছাড়া অনেকে আবার হয়ত ভাবছে আলভিন রোমান তো এবার দেখি কাউকে না জানিয়ে দেশে ফিরলো,তার কারণ কি! শুক্রবার দিন খুব ধুমধাম করে আলভিন রোমান বন্ধুদেরকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করলো। বেশ জমিয়ে আড্ডা দিলো সবাই মিলে। অনেকদিন পর তো সবাই একত্রিত হয়েছে। একসময় তার বন্ধু দু’জন আলভিন রোমানকে ডেকে বললো-
আমরা এখন উঠি, তুই তো দেশে আসছিস দেখা হবে,আড্ডা হবে, এরকম কত মজার মজার খাওয়া দাওয়া হবে প্রতিদিন। আজ আমাদের কিছু জরুরী কাজ আছে। তাই আমরা একটু তাড়াহুড়ো করছি বন্ধু।
-ঠিক আছে,আমাকে আরো ১০ মিনিট সময় দেয় তোরা, চলে যাবে সমস্যা নেই বন্ধু।
-হ্যা তা তো অবশ্যই।
তারা সবাই একত্রিত হয়ে আলভিন রোমানকে উদ্দেশ্য করে তারা সবাই বলছে
– বল কি বলবে তুই আলভিন রোমান?
– দেখ তোমরা আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব,তাই আমি ভাবলাম তোদের নিকট বিষয়টি শেয়ার করা উচিত। আমি কিন্তু এবার বিদেশ থেকে একেবারেই চলে আসছি। ভাবছি আর যাব না।একদম ভাল লাগেনা তোদের সকলকে ছেড়ে আমার প্রবাস জীবন। তাছাড়া ভাল লাগা না লাগাটা বর্তমানে অনেক দূরে অবস্থান করছে। বাস্তবতা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে রে,পূর্বের তুলনায় ইদানীং বিদেশের অবস্থা খুবই খারাপ! রীতিমতো ভাল কাজকর্ম মিলছে না। অনেক সময় কষ্ট করে ভাল কাজকর্ম পাবার পরও ভাল পারিশ্রমিক মিলছে না। তাই এখন চিন্তা করলাম তোদের কাছে বিষয়টা খুলে বলি আর তোদের মধ্য থেকে তোরা দুই,তিনজন মিলে যদি আমাকে চার/পাঁচ লক্ষ টাকা ধার দাও তবে খুব শীঘ্রই ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করবো। ইনশাল্লাহ আমি ব্যবসা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোদের টাকা আমি ফিরিয়ে দেবো। যখন আলভিন রোমান কথাগুলো বলছিল তখন তার বন্ধুবান্ধবরা একদম চুপচাপ বসে শুনছিলো। কারো মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছিলো না। সে আবার তাদেরকে বলে দিয়েছে-তোমরা আমাকে টাকা দাও বা না দাও এক সপ্তাহের মধ্যে আমায় নিশ্চিত করে বলে দিও,তোমরা টাকা দিতে পারবে কি না।
এক সপ্তাহ তো দূরের কথা প্রায় দুই সপ্তাহ পূর্ণ হতে চলেছে তারা এখনও কেউ ফোন দিয়ে ভাল মন্দ খোঁজ খবর পর্যন্ত নেয় নি।
সে তখন নিজেই ফোন দেয় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য। অথচ অনেকের ফোন ব্যস্ত দেখাচ্ছে এবং যাদের মোবাইলে রিং ঢুকছে তারা ফোন রিসিভ করছে না। বারবার তাদের ফোনে রিং দিয়ে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সে তখন খুব বিস্মিত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছে- “এই বন্ধুবান্ধব এর জন্য জীবনে কী না করলাম!” এখন আমি মিথ্যে দু:খ,দুর্দশা,আর টাকার কথা বলতেই তারা আমার সাথে পুরোপুরিভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে! সত্যি কথা বলতে গেলে-আমি যেভাবে তাদেরকে বলেছি আসলে আমার এরকম বিন্দুমাত্র কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ আমাকে জীবনে ভালই রেখেছেন, সুখে শান্তিতে রেখেছেন। আমি এই তো আগামী মাসের ২০তারিখ আবার বিদেশ চলে যাচ্ছি। আমি তাদেরকে সুন্দর করে এসব মিথ্যে বলার একমাত্র কারণ ছিল-‘ওরা আমার প্রিয়জন না প্রয়োজন’, এটা বুঝার জন্য বিষয়টি তাদেরকে শেয়ার করেছিলাম…!
প্রভাষক: ইংরেজি বিভাগ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

‘ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা পরিকল্পিত’

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার...

বিশ্বনাথে ওয়ান পাউন্ড হসপিটালের অফিস উদ্বোধন করলেন ইউএনও

9        9Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক ব্রিটিশ চ্যারিটি...

সিলেটে কমরেড সুমন ও সুইট এর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

1        1Shareসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র...