বাবা দিবসে বাবার স্মৃতি

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ২ বছর আগে

আব্দুল মোমিন ইমরান  আজ বাবা দিবস ঘুম থেকে উটে প্রতিদিনের মতো বিছানা শুয়ে শুয়ে মোবাইল ফোনটা হাতে নিলাম। প্রথমেই বলে রাখি এটা রুটিন মাফিক কাজ না তারপরেও প্রতি দিন ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহুত পর্যন্ত একবার হলেও ফেইসবুকে ডুকতে হয়।
আর ঘুম থেকে উটে চোখ বন্ধ তাকা অবস্থয় হাত দিয়ে খুজে শুরু করি মোবাইল ফোনটা বালিশের কোন পাশে আছে। আর প্রতিদিনের মতো মোবাইলটা হাতে নিয়ে প্রথমেই ফেইসবুকে ডুকে রাতে ঘুমানো পরে কি ঘটলো বা না ঘটলো দেশে কিংবা বিশ্বর কোথাও কিছু ঘটলকি না তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে জানা যায়।
এখন আর আগেকার যোগের মতো না। সকালে ঘুম থেকে উঠে চা য়ের টেবিলে বসে পত্রিকা হাতে নিয়ে দেশ ও বিশ্বর খবর জানবেন।
ডিজিটালের যোগে মোবাইলের মাধ্যমে দেশ ততা বিশে^র সংবাদ যেন হাতের মোঠোই। বিদ্রোহি কবি কাজী নজরুই ইসলামের একটি কবিতার লাইন মনে পড়ে গেলো কিবার ভাষায় বলতে গেলে“ বিশ্বজগত দেখবো আমি আপনার হাতের মঠোয় করে”। এইসব কথা না হয় এখন তাক যা লিখতে চাই সেটা নিয়ে না হয় আলোচনা করি।
তো ফেইসবুক ডুকেই দেখি অনেকে বাবা দিবস উপল নিজেদের বাবা কে নিয়ে সুন্দর স্যাটেটা দিয়েছেন। আবার অনেকের বাবা নেই তাই বাবার স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন লিখা লিখেছেন এবং দোয়া কামনা করেছে।
ঘুম থেকে উটে ফেইসবুকের এই সব লেখা দেখে মনটা হঠাত যেন কেমন হয়ে গেলো। তাই কিছুটা সময় বেডে শুয়ে থাকলাম। আর বাবা কে নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করলাম। কিন্তু যতই বাবা কে নিয়ে চিন্তা করি কোনো কিছুই যেন মনে করতে পারতেছি না।
অনেকটা সময় চোখ বন্ধ করে বাবার চেহারাটা কথা মনে করতে চাইলাম তার পরেও যেন তা পারছিলাম না। আমার বাবা কেমন ছিলেন এমনটা যখন ভাব ছিলাম আর চেহারাটা মনে করতে পারছিলাম না বা চোখের সামনে চেহারাটা বেসে উঠছিল না তখন অনেক কষ্ট হচ্ছিল মনের ও জানতেই চোখের কোনে পালি চলে আসিছিল।
তারা হুড়ু করে বিছানা ছেড়ে স্টিল আলমারিটা খুলে বাবার একটা বাধাই করে রাখা ছবি আছে ঔই ছবিটা হাতে নিলাম আর বাবার চেহারার দিকি থাকালম। আরো অনেক বার এই ছবিটা বাসার দেয়ালে টানানো অবস্থা দেখেছি কিন্তু আজ কেন যানি বাবার চেহারাটা ভালো বাবে দেখছি আর ভাবছি আমি না আমার ছোট ভাইয়ের চেহারা বাবার সাথে মিল আছে।
এর আগে কোনো দিন এই সব মাতায় আসেনি দেখলাম আমার ছোট ভাইয়ের চেহারার সাথে বাবার চেহারার অনেকটা মিল আছে।
অনেকটা সময় ছবি টার দিকে থাকিয়ে তাকার পর ছবিটা আলমারিতে রেখে দিলাম। দিয়ে আবার বিছানা গিয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে তাকার বান করে বাবা কে নিয়ে চিন্তা করতে লাগ লাম।
আমার বয়স তখন কথ ছিল তা ঠিক মনে করতে পারছিনা। তবে আমার ভাই যে আমার বছর দেড় বছরের ছোট হবে সেটা বুঝতে পারছি। আমার বাবা নাকি অনেক মজার মানুষ ছিলে বাড়ির চাচা-চাচি আমার আম্মার মুখে ওতোবা এলাকার অনেকের মুখে অনেক বার বাবার পশংসা শুনে ছি।
আমার তেমন একটা মেন আসে না। তবে কিছু কিছু স্মৃতি মনে পড়ে আমার বাবা মাছ ধরতে অনেক পছন্দ করতেন। বর্ষার সময় যখন হতো তিনি কারেন্ট জ¦াল দিয়ে মাছ ধরতে তারা জ¦ালে অনেক মাছ আটকা পড়তো। আমি তখন অনেক ছোট বাবা মাছ নিয়ে যখন বাড়িতে আসতেন আমি বাড়ির কাউকে মাছ দেখতে দিতাম না। মাছ ভরতি খলই নিয়ে পালংয়ের নিচে ডুকে পড়তাম কেউ দেখতে চাইলে কান্না কাটি শুরু করতাম।
অনেকে ইচ্ছে কের আমাকে রাগাতো যাতে আমি গালা গালি দেই। আমি রাগ করে গালাগালি শুরু করতাম তখন বাবা বলতেন লাগিয় না রেবা ইগু আমার হাসিম পুয়া। তখন আরো রাগ হতো বাবার উপর আমি হাসিম না এটা বেভে।
আমার লন্ডনি চাচি উনার কাজের ছেলেকে বলতেন মোল্লার জ¦ালের সামনে আমার জ¦াল পাতাইবে যাতে আমার জ¦ালে মাছ বেশি লাগে তার পরে আব্ববার জ¦ালে মাছ বেশি লাগতো। আব্বা ডং করে বলতেন তুমাদের আল্লাহ হুকনায় আর আমার আল্লাহ পানিতে তাই আমার জ¦ালে মাছ বেশি লাগে।
এলাকার মানুষ জন বাবাকে অনেক সম্মান করতেন আমার বাবা একজন মাওলানা ছিলেন। তিনি ডুবাই খান সাহেব জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন ডুবাই এবং বাংলাদেশের কিছু মাদ্রাসায় পাঠদান করাতে বলে চাচাতো ভাইরা বলেছেন।
এর বাইরে বাবাকে নিয়ে আর তেমন কোনো স্মৃতি মনে পড়ছে না। তবে আমার বাবা মারা যাওয়ার সময়র কিছু স্মৃতি আমার মনে পড়ে আমার বাবা তার ভাইয়ের বাসায় মারা যান। আম্বরখানা সরকারী কলোনী ১০ নম্বর বিল্ডিং থাকতেন আমার চাচা এই বাসায় আমার বাবা শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেন।
মারা যাওয়ার দিন আব্বার অনেক কষ্ট হচ্ছিল চাচা চাচাতো ভ্ইা সহ সবাই মিলে বাবা কে গিরে রেখেছেন আব্বা একটু পর পরই বরফের ছোট ছোট টুকরা খাচ্ছিলেন আর বলছিলেন ওনার ভিতরে অনেক গরম লাগের।
আমি একটু পরপর গিয়ে দেখছি আর এদিক ওদিক হাটা হাটি করছি আমার যেন তখন কোনো ফিলিন্স আসছিলো না নিজের বাবার কষ্ট দেখেও বুঝে ওঠতে পারছিলাম না কোন কিছু।
মনে হয় এর ফাকে আমি একবার ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। তখন গভীর রাতে দেখলা আব্বা বসে বসে বাতরুমে দিকে জাচ্ছেন অযুকারার জন্য তিনি নামাজ পড়বেন। হয়তো তখন সবাই আব্বাকে বলেছেন বাতরুমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই আমার পানি দিচ্ছি আপনে অযুপড়ে নি ন। আব্বা হয়তো সে কথা শুনেন নি। দেখলা আব্বা অযুকরে বাতরুম তেকে বসে বসে হামাগড়ি দিয়ে দিয়ে রুমের বিতরে আসলেন তার দাড়ানো মতো শক্তি তখন ছিলো না । তিনি বসে বসে নফল নামাজ আদায় করলেন।
নামাজ শেষ করে না নামাজের আগে ঠিক মনে করতে পরছিনা মনে হয় নামাজের পরে হবে আব্বা দোয়া করেন সবাইকে নিয়ে আর আমার ”াচার বুকের না মনে হয় কুলে উঠে বসছিলেন ঠিক মনে করতে পারছিনা শুধু একটি কথা বার বার মনে হয় আমার বাবা দোয়া বলে ছিলেন আল্লাহ আমার বউ বাচ্ছাদের তুমার হাউলা করলাম তুমি তারারে দেখিয়া রাখিয়। তখন গড়িতে কয়টা বাজে বলতে পারবো না তবে গভীর রাত হবে সেটা বুঝতে পারছি। আব্বা নামাজ আদায় করে দোয়া কারার কত সময় পরে মারা যান ঠিক বলতে পারবো না। তবে তিনি বার বার বলছিলেন রাত ৩টার দিকে বুধয় তিনি মারা যাবেন ৩টার পরে আর থাকে পাওয়া যাবেনা এই রকম কিছু একটা বলতে শুনে ছি আব্বাকে।
তারপর কি হয়েছিল মনে নাই। তারপর আমি আবার মনে হয় ঘুমিয়ে ছিলাম কিছু সময় পর কান্নার শব্দ শুনে ঘুম ভাঙ্গলো দেখলা আব্বাকে একটা চাদর দিয়ে চৌকির উপর ঢেকে রাখা হয়েছে পাশে বসে আমার চাচাতো ভাই আর মাম কোরআন শরীফ পাঠ করছেন।
আমি একটু পর পর আব্বার কাছে জাই তারা কাপড়টা শরিয়ে দিয়ে আব্বার মুখ টা আমাকে দেখান। তখন আমি বুঝতে পারিনি আমার আব্বা মারা গেছেন বুঝলে হয়তো কান্নকাটি করতাম। কান্না কাটি করেছি কি না তাও আমার মনে পড়ছে না। শুধু একটু পর পর আব্বার লাশটা দেখতে যেতাম।
সকালে দিকে আব্বার লাশ নিয়ে বাড়িতে যাওয়া হলো তখন বর্ষর সময় ছিলো নৌকায় করে আব্বার লাশটা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাড়িতে গিয়ে আমি আর কয়বার আব্বার মুখ দেখেছি মনে করতে পারবো না শুধু যে কেউ আসলে চাচাতো ভাই বা চাচা বলতেন ঔ তার বড় পুয়া আর আরো একটা আছে ছোট অন কই আছে।
বাড়ি গিয়ে আমি চাচাতো ভাই যারা আমার বয়সি ছিলো তাদের সাথে খেলা নিয়ে ব্যস্থ। একটা সময় লাশ নিয়ে যাওয়া হলো সারসপুর বড়বাড়ি কবরস্থা তার পরে কে কে মাঠি দিলেন কারা আসছিলেন কোনো কিছুই আমার স্মৃতিতে নাই। তবে আব্বা মারা যাওয়ার পরে আমি অনেক দিন আব্বার জন কান্না কাটি করতাম মাঠিতে গড়াগড়ি দিয়ে। আমার লন্ডনি চাচা আমাকে কোলে নিয়ে তিনিও কান্না কাটি করতেন তখন আব্বা মারা গেছেন ভাবতে পারতাম না।
আস্তে আস্তে আমি অনেক বড় হলাম আব্বাকে ভুলতে শুরু করলাম। আর তেমন একটা কান্না কাটি করেছি বলে মনে হয় না।
তবে অনেক সময় আমার স্কুলের বন্ধু দের সাথে তাদের বাসায় ঘুরতে গেলে যখন দেখি সে তার বাবার কাছে বায়না ধরেছে টাকার জন্য বা কোনো কিছু কিনে দেওয়ার জন্য যখন পিড়াপিড়ি শুরু করে তখন আমার মনে কেমন যেনো করে।
একবার আমার এক বন্ধুর বাসায় যাই যাওয়ার পর বন্ধুটি তার বাবার সাথে অনেকটা মজাকরে যখন বায়না করছিল তখন আমার আব্বাকে খুব মনে পড়ছিলো হঠাত দেখি আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে চোখটা একটু মুছে বন্ধুকে বল্লাম বাতরুম যাবো বন্ধু বাতরুম টি দেখিয়ে দিলো আমি বাতরুমে ঢুকে পানির কল ছেড়ে দিয়ে আব্বার কথা মনে করে কান্না শুরু করে দিলাম কিছু সময় কান্না করার পর মুখ দুয়ে বাতরুম থেকে বের হলাম যাতে কেউ বুঝতে না পারে আমি কান্না করছিলাম বলে। যাক বাবাকে নিয়ে অনেক কিছু লিখলাম এই প্রথম কোনো লেখায় আমি হাত দিলাম তাও আবার বাবাকে নিয়ে। সবার বাবা মা সারা জীবন সুস্থ তাক ভালো তাক এই কামনা করি।


আরও পড়ুন