বাবা দিবসের ভাবনা

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাইসির মাহমুদ :

ছোট্টকালে অসুস্থ হলে ডাক্তারে নিয়ে যেতেন বাবা । বাড়ি থেকে মাইল খানেক পথ বাবার কাঁধে বসেই শাহবাজপুর স্টেশনে পৌঁছতে হতো । এরপর মাইল দশেক রাস্তা ট্রেনে চড়ে বড়লেখা স্টেশনে পৌঁছে মিনিট পাঁচেক আবারও বাবার কাঁধে চড়ে হাসপাতাল পৌঁছতাম । ডাক্তার দেখানো শেষ হলে ফের বাবার কাঁধে বসেই বাড়ি ফিরতাম।

বাবা দিবসে আজ সেই স্মৃতিটুকু খুবই মনে পড়ছে । চার দশক আগে যেখানে বাড়ি থেকে স্টেশনে হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিলোনা, তখন ওই বাবার কাঁধই ছিলো একমাত্র ভরসা । আমার মতো অনেকের জীবনেই এমন স্মৃতি আজ অম্লান । এই স্মৃতিগুলোই বাবাকে মনের গহীনে অমর করে রেখেছে। বাবার কথা মনে পড়লেই এসব স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে । তখন নিজের অজান্তেই দু’চোখে জল গড়ায় । মন উজাড় করে প্রার্থনা করি, রাবিরহামহুমা কামা রাব্বা-ইয়ানি সাগিরা। (হে মহান প্রতিপালক, তুমি আমার মা-বাবাকে অনুগ্রহ করো যেভাবে তাঁরা আমাকে ছোট্টকালে অনুগ্রহ করেছিলেন)।

বিলেতে ছেলে মেয়েদেরকে কাঁধে বয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় না । গাড়িতে চড়েই আমরা যাই । জরুরী অবস্থা হলে আমাদের দরজার সামনে অ্যাম্বলেন্স এসে হাজির হয় । তাহলে মৃতু্যর পর ছেলেমেয়েরা আমাদেরকে কীভাবে তাঁদের অন্তরে স্থান দেবে? কী করছি তাদের জন্য- যাতে মৃতু্যর পরও তাদের মাঝে অমর হয়ে থাকতে পারি?

এখানকার ছেলে মেয়েরা বাবার সঙ্গ চায় । তারা চায় তাদের নিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে । এখানে ওখানে কিংবা দেশের বাইরে হলিডেতে যেতে চায় । কিন্তু আমাদের সেই সময় কই? আমাদের তো নিজের জন্যই সময় নেই। কী পেরেশান জীবন। কত ব্যস্ততা।

আজ তারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল। তারা আমাদেরকে কাছে পেতে চায়। কিন্তু আমরা তাদের সময় দিতে পারছি না। তাহলে কাল যখন তাদের ওপর আমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়বো, তখন তারা কেন পাশে থাকবে? মৃত্যুর পর কোন স্মৃতিটুকু তাদের মনের গহীনে আমাদেরকে স্থান দেবে? কোন স্মৃতিটুকু স্মরণ হলে ডুকরে কেঁদে ওঠবে? প্রাণখুলে বলবে, রাবিরহামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা?

বাবা দিবস রোববার বিকেলে জিবরিল ও সারাহকে নিয়ে লোকাল পার্কে সাইক্লিংয়ে গেলাম । এ নতুন কিছু নয় । প্রতি উইকএন্ডেই নিয়মিত যাওয়া হয় । একটু আধটু সময় দেয়ার চেষ্টা করি। তবে এটি তাদেরকে সঙ্গ দেয়ার চেয়ে নিজের স্বার্থেই করি বেশি । স্বার্থটা হলো, কাল যখন তাদের মাঝে থাকবো না, তখন যেনো এই স্মৃতিগুলো তাদের মাঝে আমাকে বাঁচিয়ে রাখে ।

বাবা দিবসে আমাদের বন্ধু-স্বজনদের সকল জীবিত বাবা-মা’র জন্য অনেক শুভকামনা। তারা যেন আমৃত্যু পরিবারের মায়া-মতমতায় থাকেন, সুস্থ জীবনযাপন করেন । যারা পরলোকে চলে গেছেন তাদের কবরকে যেন মহান প্রতিপালক আলোকিত করে রাখেন।

তাইসির মাহমুদ
লন্ডন, ডেগেনহ্যাম
রোববার ২১ জুন ২০২০


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কোম্পানীগঞ্জ যুবলীগের জাতীয় শোকসভা

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: জেলা যুবলীগ...

সংকটে কমললগঞ্জের মনিপুরী তাঁত শিল্প

1        1Shareবিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি...

সৈয়দ আব্দুল মতিনের মৃত্যুতে মাহিদুর রহমানের শোক

         মৌলাভীবাজার জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি...

সিলেট জেলা বিএনপি আহবায়কের অপসারণ দাবী

         সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল...