বাবাকে বড় মনে পড়ে

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

জুবেদ আহমদ:
১৯৯১ সালের আজকের দিনে (২ জুলাই) পিতাহারা হয়েছিলাম। তখন দশম শ্রেনীর ছাত্র। দেশ তখন বন্যায় ভাসমান।সকল বোর্ডের এস,এস,সি পরীক্ষা স্হগিত হয়েছিল।নৌকায় চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গোরস্থানে।বন্যা কবলিত হলেও জানাজায় উপস্হিতি কম ছিলনা। সকল স্তরের লোক এসেছেন স্ব স্ব উদ্যোগে।আমার পিতার কোন শত্রু ছিল না কারন দুনিয়ার কোন মোহই ছিলো না।যার দুনিয়ার ভোগ বিলাসের প্রতি মায়া থাকে না তার শত্রু থাকে কি ভাবে?তিনি সকলের সাথে সমান ভাবে মিলে মিশে চলতেন ও দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে যেতেন প্রতিটি ঘরে ঘরে,রাস্তা ঘাটে,খেলার মাঠে।আমার বাবা অত্র এলাকায় পরিচিত অপরিচিত ধনী গরীব উচু নিচু কেউ মারা গেলে বাড়ি থাকলে ছুটে যেতেন পুরুষ মৃত হলে গোসল কাজে শরীক হতেন, জানাজা পর্ব শেষে ফিরতেন।তবে বাড়িতেই থাকা হতো না দ্বীনের কাজে বছরের অর্ধেক অংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটতেন।অমাবস্যার চাঁদের মতো দেখা যেত এই আছেন সেই নেই।জীবনের শেষ সফর মৃত্যুর এক মাস পূর্বে বগুড়া থেকে ফিরলেন অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি পৌছাই দিয়ে গেলেন খাঁন পরিবারের দুই সন্তান যাদেরকে ঐ সময় গ্রামের বেশীর ভাগ অংশ শত্রু ভাবতো এবং তাদের কে এড়িয়ে চলতো কিন্তু আমার বাবার সাথে কি সুন্দর আচরণ ঘরে পৌঁছাই দিয়ে গেলেন, পরবর্তীতে খোঁজ খবর রাখলেন এবং পরিবারের সবাই জানাজায় ও অংশগ্রহণ করলেন। একজন প্রয়াত আল্লাহ উনাকে ও উনার পরিবারের মৃতদের কে জান্নাতের সু-উচ্চ মোকাম দান করি ও। বাবা চলে গেলেন বট বৃক্ষের ছায়া মাথা থেকে সরে গেলো ৯২ সালে এস,এস,সি পরীক্ষা দিয়েই সংসারের যোগান দিতে ব্যবসার প্রতি ঝুকে পড়ি। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চলে। এরপর অনেকটা আচমকা বাংলাদেশ পুলিশে চাকুরী পেয়ে আজ ও আছি সেথায় পরে। আজকের এই দিনে বাবাকে মনে পড়ে তাই কিছু লিখি বাবাকে নিয়ে। পরিশেষে পরম করুনাময় অশেষ দয়ালু মহান রবের কাছে প্রার্থনা আমার বাবা মা সহ সব স্বজন দের কে তোমার জান্নাতের মেহমান হিসাবে কবুল করো। আমিন।

লেখক : বাংলাদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর

পরবর্তী খবর পড়ুন : ডুব সাঁতারে জল তৃষ্ণা

আরও পড়ুন