বানিয়াচঙ্গে কৃমি নিয়ন্ত্রন সপ্তাহের উদ্বোধন

প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

মখলিছ মিয়া,বানিয়াচং থেকে ॥ দেশব্যাপী ২০তম রাউন্ড কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের অংশ হিসেবে গতকাল বানিয়াচঙ্গ উপজেলায় কৃমি নিয়ন্ত্রন সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। বানিয়াচং স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ২ এপ্রিল সোমবার সকাল ১০ টায় মেধাবিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের কৃমিনাশক সেবনের মধ্য দিয়ে কৃমি সপ্তাহের উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ্ধসঢ়;পরান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেধাবিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভানু চন্দ্র চন্দ, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার বানিয়াচং উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মখলিছ মিয়া, স্বাস্থ্য পরিদর্শক শহীদুর রহমান চৌধুরী, এমটি পিটিআই জুবায়ের আহমদ খান, প্রধান সহকারী গোবিন্দ লাল দাস ও সহকারী মুখলেছুর রহমান। বানিয়াচঙ্গ উপজেলায় এবার ওষুধ সেবনকারী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এই সপ্তাহ পালন ও ক্ষুদে ডাক্তারদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী সকল শিশুকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী সকল শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করানো হবে। কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উদযাপন করার লক্ষ্য হচ্ছে- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী সকল (স্কুলগামী, স্কুলবহির্ভূত, স্কুল থেকে ঝরে পড়া) শিশুকে একডোজ কৃমিনাশক ওষুধ বিনামূল্যে সেবন করানো। একই সঙ্গে কৃমির পুনঃসংক্রমণ রোধকল্পে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার সমন্ধে সচেতন করে তোলা। এসব শিশুকে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা শিক্ষা দেয়ার ফলে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। যা ভবিষ্যতে শিশুরা কৃমিসহ অন্যান্য পরজীবীবাহী রোগব্যাধি থেকেও পরিত্রাণ পাবে। ডা.আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ্ধসঢ়;পরান কৃমির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, কৃমি মানুষের পেটে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টিটুকু খেয়ে ফেলে, যার দরুন শিশুরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতায় ভোগে। কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে রক্ত শোষণ করে। ফলে শিশুরা রক্তশূন্যতায় ভোগে। যার দরুন বদহজম, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়। এতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটে। ফলে শিখন ক্ষমতা হ্রাস পায় ও শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় থাকতে বাধাগ্রস্ত হয়। এপেন্ডিসাইটিস এবং অন্ত্রের অন্যান্য জটিলতাও সৃষ্টি করে, যাতে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে। কৃমির অতিশয় সংক্রমণ মৃত্যুর কারণও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, পরিবারের সবাই একত্রে বছরে কমপক্ষে দুইবার (৬ মাস পর পর) কৃমির ওষুধ সেবন করা। খালি পায়ে চলাফেরা না করা এবং পায়খানা ব্যবহারের সময় স্যান্ডেল পরা। পায়খানার পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। হাতের নখ ছোট রাখা আর এজন্য সপ্তাহে একবার নখ কাটা। খাদ্য দ্রব্য ঢেকে রাখা। খোলা বা অপরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়া, ফল-মূল খাওয়ার আগে তা নিরাপদ পানি দ্বারা ধোয়া এবং প্রতিবার খাবার গ্রহণের পূর্বে হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন।

আরও পড়ুন