বাইক্কা বিলে ভিড় করে হাজারো পরিযায়ী পাখি

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: শীত আসলেই মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিলে ভিড় করে হাজারো পরিযায়ী পাখি। পাখিপ্রেমী আর দর্শনাথীদের স্বর্গ হিজল তমালের সংরক্ষিত এই জলাধার। পিয়ং, গিরি, বেলে, পাতি পান সরালি, ধূসর, লালচে বক, রাজ সরালি, ফুলুরি, লেনজা হাঁস, পলাশি ফিস ঈগল, নল ফুটকিসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখি এসেছে বিলের জলে। সাথে আছে বক, শালিক, বেগুনি কালেম ডাহুকসহ বিভিন্ন প্রজাতির স্থায়ীয় পাখি। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম পাখি এসেছে আড়াইশ একর আয়তনের এই অভয়াশ্রমে। অভিযোগ ওঠেছে শিকারিদের হাতে মারা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।
২০০৩ সালে বাইক্কা বিলকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণার পর পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। পাখিদের আবাস নির্বিঘœ করতে কয়েক বছর ধরে চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ। এতে সুফল মিললেও বিলের আশপাশে বেড়েছে শিকারিদের দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ কম থাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। দিনে দিনে ভরাট হচ্ছে জলাশয়, মানুষের আবাসস্থল গড়ে তোলায় কমছে বিলের আয়তন। এতে আগের তুলনায় কমছে পাখির সংখ্যা। এবছর পরিযায়ী পাখি অন্যবারের তুলনায় এসেছে খুবই কম। পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ না করা গেলে যে সব অতিথি পাখি আনাগোনা করতো তাও বন্ধ হয়ে যাবে।
বাইক্কা বিল ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রণজিৎ দত্ত জনি জানান, প্রতি বছরই বাইক্কা বিলে আসি পাখি দেখতে এবং ছবি তুলতে। যান্ত্রিক যুগে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত পাখির এই অভয়াশ্রম। এবছর অন্যান্য বছরের থেকে ডিফরেন্ট। এবার অতিথি পাখির কোনো ঝাঁক নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সুয়েল জানান, দিনে দিনে বিল ভরাট হচ্ছে, কমছে বিলের আয়তন। নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা, নিয়ম না মেনে তৈরি করা হচ্ছে ফিসারি যার কারণে উদ্ভিদ ও জলজ বৈচিত্র্য নেই। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পর্যটনবান্ধব এই স্থানটিকে নিরাপদ রাখতে পারলে সারা বছর এখানে পাখি থাকবে। এগুলোর দিকে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করার দাবি জানান।
বড় গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের কর্মকর্তা মো: মিন্নাত আলী জানান, এবছর অতিথি পাখি গত কয়েক বছরের তুলনায় কম এসেছে। বন্যার কারণে বিলে শাপলা, শালুক ও শিংরা নেই বললেই চলে। এতে পাখিদের খাবার সংকট ও শীত মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়াকে দুষছেন তিনি। এদিকে হাওর কাওয়াদীঘিতেও প্রতি বছর উষ্ণতার খুঁজে হিমবায়ু প্রবাহিত প্রচন্ড শীতের দেশ থেকে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি দেখা যেতো। এ বছর এদের আনাগোনা কমে গেছে।
হাওরে বিল ইজারাদার আব্দুল বাছিত জানান, রাতের আঁধারে পাখি ধরা চক্র বিষটোপ ও জাল দিয়ে পাখি শিকার করে। যে কারণে পাখিদের আনাগোনা আগের মতো নেই। একই কথা বলেছেন হাওর পারের লিটন মিয়া। সরেজমিনে ওই হাওরে গেলে দেশীয় বক, তিতি, পানকৌরী এসব পাখির দেখা মিলে। রাজনগর উপজেলার মাথিউড়া লেকে এক সময় ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি দেখা গেলেও এ বছর কোনো পাখি এখানে আসেনি।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, আবু মুসা শামসুল মুহিত চৌধুরী জানালেন, বাইক্কা বিলে ফিসারিসহ নানা কারণে মানুষের যত্রতত্র চলাফেরায় পাখিদের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিবেশ বিঘœ হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সোচ্চার রয়েছেন।
মৌলভীবাজারের হাওর বাওর ও বিলকে যথাযথভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাখির আবাসস্থল নিরাপদ করা গেলে বাড়বে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা। নিরাপদ আবাসস্থল পাবে দেশীয় পাখি এমন মত স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের।

আরও পড়ুন