বাংলাদেশে কোটা পদ্ধতি সংস্কার সময়ের দাবি

,
প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল:

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হচ্ছে কোটাপদ্ধতি। দেশের অধিকাংশ মানুষ কোটা পদ্ধতি সংস্কারের পক্ষে। সবার মুখে একই কথা, কোটা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবনা করার দিন এসেছে। বর্ধিত জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে কোটা পদ্ধতির পরিবর্তন, পরিমার্জন এখন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের মেধাবীদের সুযোগ করে দিতে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাব মর্যাদা রক্ষা করতে মেধাবীদের সুযোগ দেয়া আবশ্যক। কোটা দিয়ে যারা সহজে সুযোগ পেয়েছে বা পাচ্ছে, তারা প্রায়ই অযোগ্য ও কম মেধাসম্পন্ন। তারা যদি সত্যিকার অর্থে মেধাবী হয়ে থাকে, তবে তাদের তো কোটা পদ্ধতির আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে সারাদেশে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা তাদের দাবীর অংশ হিসাবে ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হন তিন আন্দোলনকারী। এরপর আরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছেÑসরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।
বর্তমানে কার কোটা কত
ছাত্রজীবন শেষ করে যাঁরা কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, তাঁদের কারও কাছে ‘কোটা’ স্বস্তির বিষয়। আবার কারও কাছে তা আতঙ্ক। কোটা এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যা নিয়ে আলোচনা করাটা কখনো কখনো বিব্রতকর। আবার এ নিয়ে কথা না বলাও এক ধরনের সুবিধাবাদিতা। এ দেশের তরুণ সমাজ চায়, কোটাব্যবস্থা নিয়ে জোরদার আলোচনা হোক। সত্যিকারের একটা বিহিত হোক। বর্তমানে সরকারি চাকরির জন্য সংরক্ষিত কোটার পরিমাণ শতকরা ৫৬ ভাগ। চাকরিতে বাকি ৪৪ ভাগ নেওয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শতকরা ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ ভাগ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের অনগ্রসর শ্রেণিকে সুবিধা দিয়ে সমতা বিধানের লক্ষ্যে কোটার প্রবর্তন করা হয়। তবে সেই সময় কোটার হার ছিল ভিন্ন। ১৯৭২ সালে ২০ শতাংশ মেধা, ৪০ শতাংশ জেলা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা আর ১০ শতাংশ যুদ্ধবিধ্বস্ত নারী কোটা ছিল। ১৯৭৬-এ তা পরিবর্তন করে মেধা ৪০ আর জেলা কোটা ২০ শতাংশ করা হয়। ১৯৮৫-তে মেধা ৪৫, নারী ১০ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা ৫ শতাংশ করা হয়। প্রথম থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ ছিল। পরে এ কোটার সুযোগ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরবর্তী সময়ে নাতি-নাতনিদেরও দেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে সরাসরি নিয়োগে জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি কোটা পুননির্ধারণ করা হয়? সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলাওয়ারি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে যে কোটা পদ্ধতি আছে তা হচ্ছে নির্বাহী আদেশে প্রবর্তিত একটি প্রক্রিয়া। ১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর {(ইডি/আরআই/আর-৭৩/৭২-১০৯(৫০০)} তৎকালীন সংস্থাপন বিভাগের সচিব এম এম জামানের স্বাক্ষরে স্বাধীনতার পর দেশের সব অঞ্চলের জনগণকে সরকারি চাকরিতে অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে চাকরিতে নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। আদেশের শুরুতেই বলা হয়েছে, সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে জেলাভিত্তিক এ কোটা নির্ধারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই আদেশেই মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদান ও ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে তাদের জনজীবনে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০ শতাংশ কোটা দিয়ে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। তেমনিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত নারীদের জন্যও ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করে চাকরিতে নিয়োগের বিধান রাখা হয়। বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে এই কোটা পদ্ধতি নিয়ে চার দশক ধরেই আপত্তি উঠে আসছে। জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন পে ও সার্ভিস কমিশনের একজন সদস্য বাদে সবাই সরকারি নিয়োগে কোটা পদ্ধতির বিরোধিতা করেন। কোটার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এম এম জামান প্রচলিত কোটাগুলো প্রথম ১০ বছর বহাল রেখে ১৯৮৭ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরে ধীরে ধীরে কমিয়ে দশম বছরে তা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ২৫৭ ধরনের কোটা আছে, যা ঐতিহাসিক এবং বিশ্বে বিরল ঘটনা।
বিভিন্ন দেশের কোটা পদ্ধতি সম্পর্কে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনগ্রসর গোষ্ঠীর অগ্রসরতার জন্য উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে কিছু সংরক্ষিত আসন থাকে। বাংলাদেশেও রয়েছে তেমন কিছু সংরক্ষিত আসন বা কোটা। বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%, নারী কোটা ১০%, জেলা কোটা ১০%, উপজাতি কোটা ৫%, প্রতিবন্ধী কোটা ১% নিয়ে মোট ৫৬% সরকারি চাকরি হয় কোটার মাধ্যমে। বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে বর্তমানে ৫৬ শতাংশ কোটা থাকার কারণে কম যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষদের চাকরি হচ্ছে বেশি। এতে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল হওয়ার সুযোগ পায়। দীর্ঘদিন ধরে কোটা সংখ্যা কমানো নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও কোনো সরকার কোটা পদ্ধতির সংস্কার করেনি। দীর্ঘদিনের দাবি থেকে সেটি ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। বেশ কিছুদিন যাবৎ কোটাপদ্ধতির সংস্কার চেয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। বাংলাদেশের কোটাপদ্ধতি নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা তাহলে জানা যাক বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো কোটাপদ্ধতি কত শতাংশ ও কিভাবে সেটি প্রয়োগ হয়। নিম্নে এ সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো :
ভারত
বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা রয়েছে। ভারতে মোট ৪ ধরণের কোটা রয়েছে; উপজাতি কোটা, বিভিন্ন জাত ভিত্তিক কোটা, অন্যান্য অনগ্রসরদের জন্য কোটা এবং বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু কোটা। উপজাতি কোটা ৭.৫ শতাংশ, জাতভিত্তিক কোটা ১৫ শতাংশ এবং সংখ্যালঘু ও অন্যান্য অনগ্রসরদের জন্য ২৭ শতাংশ কোটা ভারতে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান। তবে মোট ৪৯.৫ শতাংশ কোটা থাকলেও ভারতে কোটার জন্য রয়েছে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা। একটি পরিবারের মাত্র একজনই কোটা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে এবং যদি কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য কোটা গ্রহণ করে তবে সে চাকরিতে কোটা সুবিধা পাবে না।
পাকিস্তান
পাকিস্তানের কোটা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যার ভিত্তিতে। বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যা উপর নির্ভর করে সেই অনুপাতে কোটা সুবিধা প্রদান করা হয় পাকিস্তানে। পাকিস্তানের কোটা পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যৌক্তিক পরিমাণ মানুষ যেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। পাকিস্তানে সরকারি চাকরিতে সমগ্র দেশ থেকে মাত্র ৭.৫ শতাংশ চাকরি মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞাতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। বাকি ৯২.৫ শতাংশ চাকরি বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত। সরকারি চাকরি সবচেয়ে বেশি কোটা বরাদ্ধ রয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের জন্য। পাঞ্জাবের ৫০ শতাংশ, সিন্ধ প্রদেশের জন্য ১৯ শতাংশ, খাইবার-পাখতুনওয়ার জন্য রয়েছে ১১.৫ শতাংশ, বালুচিস্তানের জন্য ৬ শতাংশ আর গিলটের জন্য রয়েছে ৪% আর আজাদ কাশ্মীরের জন্য ২ শতাংশ।
মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার বর্তমান জনসংখ্যা ৩ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার। মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৫০.১ শতাংশ মালয়, ২২.৬ শতাংশ চাইনিজ, ৬.৭ শতাংশ ভারতীয়, ১১.৮ শতাংশ স্বদেশজাত এবং ৮.৮ শতাংশ অন্যান্য। ধর্মীয় দিক থেকে মোট ৬০.১ শতাংশ মুসলিম, ১৯.৮ শতাংশ বৌদ্ধ, ৯.২ শতাংশ খ্রিস্টান, ৬.২ শতাংশ হিন্দু এবং ৩.৪ শতাংশ অন্যান্য। মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জাতিগত কোটার মোট ৫৫ শতাংশ সুবিধা পেয়ে থাকে মালয় জনগোষ্ঠী। উচ্চশিক্ষা, চাকরি, স্বল্পমূল্যে বাসস্থানসহ সকল ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ ভোগ করে মালয় জনগোষ্ঠী বাকি ৪০% সুবিধা ভোগ করে অন্যান্য জনগোষ্ঠী। তবে চাকরির ক্ষেত্রে গোষ্ঠীগত সুবিধা মিললেও মেধার পরিচয় দিয়েই প্রবেশ করতে হয়। সরকারি অর্থায়নে যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত সেখানে মোট সিটের মোট ১৯ শতাংশ পায় চাইনিজরা এবং ৪ শতাংশ ভারতীয় বংশোদ্ভুত জনগোষ্ঠী। বাদ বাকি সকল সিট পায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয় জনগোষ্ঠী, যারা ভূমিপুত্র নামেও পরিচিত।
কানাডা
উন্নত রাষ্ট্র কানাডায়ও রয়েছে কোটা। তবে সে কোটা প্রয়োগ হয় প্রকৃত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীদের জন্য। কানাডায় মূলত চারটি শ্রেণীর জন্য কোটা প্রযোজ্য। চারটি শ্রেণী হচ্ছে নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু। চারটি শ্রেণীর মোট কত শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা সুস্পষ্ট ভাবে কানাডার এমপ্লয়মেন্ট ইকুইটি অ্যাক্টে নির্দিষ্ট ভাবে বলা না হলেও সেটা কখনোই মেধার চেয়ে বেশি নয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্তদেশগুলো ২০১২ সালে এক পরিকল্পনা গ্রহণ করে যার মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে নন-এক্সিকিউটিভ চাকরিগুলোতে যেন ৪০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
কোটা পদ্ধতি সংস্কার প্রয়োজন
কোটা পদ্ধতি বিলুপ্তির দাবীতে এখন অনেকেই সোচ্চার। আমি নিজেও এর পক্ষে। কারণ এখন কোটার কারণে সাধারণ মেধাবী ছেলেমেয়েরা কতটা বঞ্চনার শিকার, একটু খেয়াল করলেই বোঝা সম্ভব। যেমন: প্রতিবন্ধী কোটা : ১%, জেলা কোটা : ১০%, উপজাতি কোটা : ৫%, মহিলা কোটা : ১০%, মুক্তিযোদ্ধা কোটা: ৩০%, মোট কোটা : ৫৬%। সাধারণ ছেলেমেয়েদের জন্য বাকী থাকে ৪৪%। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ২৫৭টি কোটা আছে। পৃথিবীর কোন দেশেই এমন উদ্ভট নিয়ম নেই। এমনিতেই আমাদের দেশে চাকরীর অপর্যাপ্ততা আছে। তার উপর কোটার কারণে মেধাবীদের সুযোগ অবধারিতভাবে সঙ্কুচিত হবার ফলে তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ফলে তারা আন্দোলনমুখী হচ্ছে, যা খুবই যৌক্তিক। ১৩% মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা বরাদ্দ ৩০%! মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য কোটা ছিল। আবেগের কারণে সেটার দরকারও ছিল। কিন্তু নাতি-নাতনীদের জন্য কেন? আর চাকরীতে তাদের বয়স ৩২ বছর কেন? এটা প্রহসন! এটা জাতিকে মেধাশূন্য করার পাঁয়তারা! এদেশের গুটিকতক মানুষ ছাড়া সবাই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে কম-বেশি সবার আত্মত্যাগ আছে। কিন্তু যাঁরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের বেশিরভাগই সার্টিফিকেট নেননি। ফলে তাঁরা কোন সুবিধাও পাননি। তাই আমি মনে করি, এখন আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁদের ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখাতে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রয়োজনে ‘মুক্তিযোদ্ধা ভাতা’ বাড়ানো যেতে পারে। অনেকে উপজাতি কোটা রাখার পক্ষে বলেছেন। আমি মনে করি, উপজাতি ছেলেমেয়েরা এখন অনেক সচেতন। তারা শিক্ষার গুরুত্ব বোঝে। তারা যথেষ্ট মেধাবী। আমি মনে করি, তাদেরকে কোটা সুবিধা দেয়া মানে তাদের মেধাকে অসম্মান করা। আমার ধারণা, তারা এখন কোটা ছাড়াই সবখানে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করে নিজেদের জায়গা করে নেবার মত সক্ষম। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসনের তুলনায় অতিরিক্ত ভর্তিচ্ছুদের চাপ আছে। তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ছেলেমেয়েদের জন্য কোটা বরাদ্দ আছে। আছে খেলোয়াড়, উপজাতি, মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী কোটাও। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েদের জন্যও পোষ্য কোটা আছে। পৃথিবীর কোথাও অনির্দিষ্ট কালের জন্য কোটা পদ্ধতি চালু নেই। কোটা মানেই দুর্বলকে সুবিধা দিতে গিয়ে প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করা। এটা ভয়াবহ রকমের অনুচিত। তাই আমি অবিলম্বে সব রকম কোটা তুলে দিয়ে সবার জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করার পক্ষে জোর দাবী জানাচ্ছি।
লেখক : প্রাবন্ধিক, প্রকাশক ও সংগঠক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

লিডিং ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

         উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে লিডিং...

বিমানবন্দরে লন্ডন আ’লীগের আইন সম্পাদক এনামকে সংবর্ধনা

         বিশ্ব স্বজন ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা ও...

বিমানের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট ৭ দিনের জন্য স্থগিত

         করোনাভাইরাস সংক্রামণ রোধ এবং বিভিন্ন...

আদর্শ স্ত্রীর গুণাবলি সম্পর্কে আল-কোরআন ও হাদিস

1        1Shareআল্লাহ তায়ালা হজরত আদম (আ.)...