বদর দিবস: ইসলামের প্রথম যুদ্ধ

,
প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০১৯     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো:শামসুল ইসলাম সাদিক
আজ ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ঐতিহাসিক সশস্ত্র যুদ্ধ যা মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যেকার দ্বিতীয় হিজরীতে ( ৬২৪ খৃঃ ১১ই মার্চ শুক্রবার ) সংগঠিত হয়। প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে ১৭ রমজান সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ। কুরআনে এ যুদ্ধকে বলা হয়েছে ইয়াওমূল ফুরক্বান বা ফয়সালাকারী দিন হিসেবে। এ যুদ্ধে মুসলমানরা সংখ্যায় অনেক কম থাকা সত্ত্বেও মক্কার কাফির পরা শক্তিকে পরাজিত করেন, যার মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য ঘটে। এ কারণে বদরের যুদ্ধকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী যুদ্ধ বলে অভিহিত করা হয়। মুসলমানদের ঈমানী তেজদীপ্ত শক্তির কাছে কুফরীর বাতিল শক্তির সূচনীয় পরাজয়ের মাধ্যমে সেদিন বদর প্রান্তরে রচিত হয়েছিল ইসলাম ও মুসলমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক বিজয়। অনুপম আদর্শের মহামানব রাসুলে পাক (সা:) মাত্র ১ বছর ৬ মাস ২৭ দিনে মদিনায় হিজরতের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কুরায়েশরা রাসুলে পাক (সা:)-কে মদিনা থেকে বের করে দেবার জন্য আহপ্রাণ চেষ্টা চালায়। যেমনভাবে তারা ইতিপূর্বে হাবশায় হিজরতকারী মুসলমানদের সেখান থেকে বের করে দেবার গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু রাসুলে পাক (সা:)-এর ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। বদর যুেদ্ধর প্রাক্ষালে কুরায়েশ নেতারা মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের নিকটে পত্র প্রেরণ করে, কিন্তু সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। অপর দিকে রাসুলে পাক (সা:)-মদিনায় আগমনের ফলে তার নেতৃত্ব লাভের সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় সে ছিল দারুনভাবে ক্ষুব্ধ। রাসুলে পাক (সা:)- প্রতি মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের এই ক্ষোভটাকেই কুরায়েশরা কাজে লাগাতে এবং নিম্নোক্ত কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়ে তার নিকটে পত্র প্রেরণ করে। তোমরা আমাদের লোকটিকে (রাসুলে পাক (সা:) আশ্রয় দিয়েছ। এজন্য আমরা আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, হয় তোমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তাকে মদিনা থেকে বের করে দিবে নতুবা আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে যুদ্ধ করব এবং তোমাদের যোদ্ধাদের হত্যা করব ও মহিলাদের হালাল করে নেব। এই পত্র পেয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই দ্রুত তার দলবল নিয়ে গোপনে বৈঠ বসল। সেখানে রাসুলে পাক (সা:)-গিয়ে বলেন, ‘তোমরা কি তোমাদের সন্তান ও ভাইদের সাথে (মুসলমানদের সাথে) যুদ্ধ করতে চাও’? রাসুলে পাক (সা:)-মুখে এ বক্তব্য শুনে বৈঠক ভেঙ্গে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। আওস গোত্রের নেতা সা‘দ বিন মু‘আয (রা:) ওমরাহ করার জন্য মক্কায় যান ও কুরায়েশ নেতা উমাইয়া বিন খালাফের অতিথি হন। উমাইয়ার ব্যবস্থাপনায় দুপুরে নিরিবিলি ত্বাওয়াফ করতে দেখে আবু জাহল তাকে ধমকের সুরে বলে, তোমাকে দেখছি মক্কায় বড় নিরাপদে ত্বাওয়াফ করছ। অথচ তোমরা বেদ্বীনগুলোকে আশ্রয় দিয়েছ! আল্লাহর কসম! যদি তুমি আবু ছাফওয়ানের (উমাইয়া বিন খালাফের) সাথে না থাকতে, তবে নিরাপদে ফিরে যেতে পারতে না’। একথা শুনে সা‘দ চীৎকার দিয়ে বলে ওঠেন, তুমি আমাকে এখানে বাধা হয়ে দাঁড়ালে আমি তোমার জন্য এর চেয়ে কঠিন বাধা হয়ে দাড়াবো- আর সেটা হ’ল মদিনা হয়ে তোমাদের ব্যবসায়ের রাস্তা বন্ধ হবে। কুরায়েশ নেতারা ইহুদীদের সাথে গোপনে ঐক্যমত পোশন করলো। অত:পর মুহাজিরগণের নিকটে হুমকি পাঠালো যে, ‘মক্কা থেকে তোমরা নিরাপদে ইয়াছরিবে পালিয়ে যেতে পেরেছ বলে অহংকারে ফেটে পড়ো না। ওখানে গিয়েই আমরা তোমাদের ধ্বংস করে দেবার ক্ষমতা রাখি’। তাদের এই হুমকি কেবল ফাঁকা বুলি ছিল না। বরং তারা তৎপর ছিল মুহাজিরগণের সর্বনাশ করার জন্য। কুরায়েশদের অপতৎপরতা ও প্রকাশ্যে হামলা সমূহ মুকাবিলার জন্য আল্লাহ এরশাদ করেন-‘যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হ’ল ঐ লোকদের। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, একারণে যে, তারা অত্যাচারিত হয়েছে। আর তাদেরকে সাহায্য করার ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমতাবান’ (সুরা-হজ্জ: আয়াত-৩৯)। পরবর্তীতে ১ম হিজরীর রমজান মাস থেকে কুরায়েশদের হামলা প্রতিরোধে মদিনার বাইরে নিয়মিত সশস্ত্র টহল অভিযান সমূহ প্রেরিত হতে থাকে। একবছর অব্যাহত থাকে। অত:পর ২য় হিজরীর শা‘বানে নাখলা যুদ্ধের পর বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে জিহাদ ফরয হয়। বদর যুদ্ধের পর ইসলামের বিজয় ধ্বনি ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র আরবে বিশ্বে, তখন বেজে উঠেছিল দাম্ভিক শক্তির পতনঘন্টা।
হিজরতের পর রাসুল (সা:) মদিনায় একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করেন এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে মদিনার অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীগুলোর সাথে একটি শান্তি ও সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এদিকে কুরাইশগণ নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছিল মদিনায় নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এমনকি মদিনায় আক্রমন করারও তারা পরিকল্পনা করেছিল। রাসুল (সা:)- সিরিয়া ফেরত মক্কার ব্যবসায়ী কাফেলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও তাদের পুরো খবরাখবর সংগ্রহের জন্য তালহা বিন উবায়দুল্লাহ ও সাঈদ বিন যায়েদ (রা:)-কে প্রেরণ করেন। তারা ‘হাওরা’ নামক স্থানে পৌঁছে জানতে পারেন যে, আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে বিরাট এক ব্যবসায়ী কাফেলা সত্বর ঐ স্থান অতিক্রম করবে; যাতে রয়েছে এক হাজার উট বোঝাই কমপক্ষে ৫০,০০০ স্বর্ণমুদ্রার মাল-সম্পদ এবং তাদের প্রহরায় রয়েছে আমর ইবনুল আছ সহ মাত্র ৪০ জন সশস্ত্র সৈন্য। উল্লেখ্য যে, এই বাণিজ্যে মক্কার সকল নারী-পুরুষ অংশীদার ছিল। তারা দ্রুত মদীনায় ফিরে এসে রাসুল (সা:)-কে এই খবর দেন। রাসুল (সা:)-চিন্তা করলেন যে, এই বিপুল মাল-সম্পদ মক্কায় পৌঁছে গেলে তার প্রায় সবই ব্যবহার করা হবে মদিনায় মুহাজিরগণকে ধ্বংস করার কাজে। মোটেই তিনি কালক্ষেপন না করে বদর গিরিপথে আবু সুফিয়ানকে বাঁধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
একদল মুসলিম মুজাহিদ রাসুল (সা:)-এর নেতৃত্বে মদীনা থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ হবে বলে মুসলমানদের কেউই চিন্তা করেন নি এবং সে জন্য প্রস্তুতিও ছিল না। কিন্তু কুরাইশ কাফিরদের শীর্ষস্থানীয় নেতা আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলার ওপর মুসলমানদের হামলার প্রস্তুতির খবর জানতে পেরে সেই খবর মক্কার কাফিরদের জানালে অনেক কাফির নেতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ফলে তারা একটি সুসংগঠিত যুদ্ধের আয়োজন করে এবং মুসলমানরাও রাসুল (সা:)-এর নেতৃত্বে কাফিরদের মোকাবেলা করতে বাধ্য হন। এ উদ্দেশ্যে রাসুল (সা:) দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসে ৩১৩,১৪ বা ১৭ জন ক্ষুদ সৈন্য বাহিনী নিয়ে মদিনা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে বদর গিরিপথের দিকে যাত্রা করলেন। এর মধ্যে ৮২, ৮৩ বা ৮৬ জন ছিলেন মুহাজির এবং বাকীগণ ছিলেন আনছার। আনছারগণের মধ্যে ৬১ জন ছিলেন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন ছিলেন খাযরাজের। বি’রে সুক্বইয়া নামক স্থানে এসে রাসুল (সা:)- ক্বায়েস ইবনু আবী ছা‘ছা‘কে সংখ্যা গণনা করতে বললেন। সংখ্যা জানতে পেরে রাসুল (সা:)- খুশি হয়ে বললেন, তালূতের সৈন্য সংখ্যাও তাই ছিল। এটা বিজয়ের লক্ষণ। তিন শতাধিক লোকের এই বাহিনীতে মাত্র ২টি ঘোড়া ছিল যুবায়ের ইবনুল আওয়াম এবং মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদের এবং ৭০টি উট ছিল। যাতে দু’তিন জন করে পালাক্রমে সওয়ার হয়ে চলতে হ’ত। রাসুল (সা:)- আলী ও মারছাদ বিন আবী মারছাদ গানাভীর জন্য একটি উট বরাদ্দ ছিল। যাতে পায়ে হাঁটার পালা আসলে রাসুল (সা:)- নিজেও হাঁটতেন। এ সময় মদিনায় আমীর নিযুক্ত হন অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রা:)। পরে ‘রাওহা’ নামক স্থানে পৌঁছে আবু লুবাবা ইবনু আবদিল মুনযিরকে ‘আমীর’ নিযুক্ত করে পাঠানো হয়। অপর পক্ষে কাফেলার পতাকা বহনের দায়িত্ব দেওয়া হয় মদিনার প্রথম দাঈ মুসআব বিন উমায়েরকে। ইতিপূর্বেকার সকল পতাকার ন্যায় আজকের এ পতাকাও ছিল শ্বেত বর্ণের। ডান বাহুর সেনাপতি নিযুক্ত হন যুবায়ের ইবনুল ‘আওয়াম এবং বাম বাহুর জন্য মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা:)। পুরা বাহিনীতে এ দু’জনেরই মাত্র দু’টি ঘোড়া ছিল। আর পশ্চাদ্ভাগের সেনাপতি নিযুক্ত হন ক্বায়েস ইবনু আবী ছা‘ছা‘আহ (রা:)। এতদ্ব্যতীত মুহাজিরগণের পতাকা বাহক হন আলী (রা:) এবং আনছারগণের সা‘দ ইবনু মু‘আয (রা:)। আর সার্বিক কম্যান্ডের দায়িত্বে থাকেন স্বয়ং রাসুল (সা:)। এ দিকে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানকে সাহায্য করার জন্য অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিশাল এক বাহিনী প্রেরণ করলো । বাহিনীর সাথে ছিল মক্কার শীর্ষস্থানীয় উমাইয়া বিন খলফ, আবুজেহেল, উৎবা, শায়বা, আবুল বুখতারী, হিশাম, হাকিম বিন হাজম প্রমুখসহ একহাজার সৈন্য। সাহাবায়ে কেরাম একদিকে ছিলেন রিক্ত হস্ত, খাদ্য-রসদ ও অস্ত্র-শস্ত্র ছিল অপ্রতুল, শত্রু বাহিনী ছিল নিজেদের থেকে তিনগুণের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে এ যুদ্ধ ছিল সাহাবায়ে কেরামের নিজেদের গোত্রীয় লোকদের বিরুদ্ধে। এ কারণে রাসুল (সা:)- সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। হযরত আব ুবকর ও ওমর (রা:) তাদের মূল্যবান পরামর্শ দান করলেন। আনসার সাহাবী সাআদ বিন মাআজ (রা:) নিজেকে দ্বীনের পথে উৎসর্গ করে এক দীর্ঘ ভাষণ দিলেন-‘ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা:)! আমরা আপনার উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার সত্যতা স্বীকার করেছি এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনার আনিত দ্বীন সম্পূর্ণ সত্য। হে আল্লাহর রাসুল (সা:)! আপনি মদিনা থেকে বের হয়েছেন এক ইচ্ছা নিয়ে, কিন্তু আল্লাহ এখন অন্য পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এখন আপনার যা মর্জি হয় করতে পারেন। আমরা সর্বাবস্থায় আপনার সাথে আছি। আল্লাহর কসম! আমরা আপনাকে ঐরূপ বলব না, যেরূপ বনু ইস্রাঈল তাদের নবী মূসা (আ:)-কে বলেছিল যে, ‘তুমি ও তোমার রব যাও যুদ্ধ করগে! আমরা এখানে বসে রইলাম’ (সূরা:মায়েদাহ,আয়াত-২৪)। আপনি আমাদের কে যা ইচ্ছা তা নির্দেশ দেন, আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আপনি আমাদেরকে মহাসমুদ্রে ঝাপ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও আমরা মহাসমুদ্রে ঝাপ দিতে প্রস্তুত। আমাদের মধ্য থেকে কেউ পিছনে থাকবেনা’ (যুরকানী ১ম খন্ড)।
এরূপ বক্তব্য শুনে রাসুল (সা:)-খুশি হলেন এবং আল্লাহ পাক সাহাবাদের এসব বক্তব্যের উপর সন্তুষ্ট হয়ে বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের ফায়সালা করে দিলেন। রাসুল (সা:)- আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করলেন, ‘হে রাব্বে কারিম! তোমার ওয়াদা পূর্ণ কর-এই কুরাইশ বাহিনী নিতান্ত অহংকার ও দাম্ভিকতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে, ওরা আপনার বিরোধীতা করছে। হে আল্লাহ! তোমার ওয়াদা পূর্ণ কর, আমাদের বিজয় দান কর’ (সিরাতে ইবনে হিশাম)। রাব্বে কারিম রাসুল (সা:)- দোয়া কবুল করলেন, আল্লাহও তাঁর রাসুলের প্রতি অকুন্ঠ আনুগত্যশীল, শহীদি দরজায় উজ্জীবিত মুসলিম বাহিনীর প্রতি আসমানী সাহায্যের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে গেল। বৃষ্টির মাধ্যমে মহান রব বদরের বালুকাময় স্থানকে শক্ত করে দিলেন। অন্যদিকে মুসলমানগণ নিজ নিজ পাত্রে পানি সংরক্ষণ করে নিলেন, ফলে বিরাট সংকট থেকে মুক্তি পেল মুসলিম বাহিনী। ১৭ রমজান যুদ্ধ শুরু হলে ‘হয়ত শহীদ নয়ত গাজী’ মুসলিম বাহিনীর সামনে এই সমান সুমহান দুটি পথ। মুসলমানদের আন্তরিকতা ও ঈমানী শক্তির কারণে আল্লাহ বদর প্রান্তরে পাঁচ হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে মুসলমানদের সাহায্য করলেন।
কুরাইশের শক্তিশালী তিন নেতা উতবা, শাইবা ও ওয়ালিদ নিহত হলো মুসলিম বাহিনীর আমীর হামজা, আলী এবং উবায়দা (রা:) এর হাতে। দুই যুবক মাআজ এবং মুআওয়াজের হাতে নিহত হলো কুরাইশ নেতা আবু জেহেল। আরেক নেতা উমাইয়া বিন খালফ সূচনীয়ভাবে মৃত্যুবরণ করল তার এক সময়ের কৃতদাস হযরত বিলাল (রা:) এর হাতে। এভাবে একের পর এক কুরাইশ বাহিনীর অনেক নেতা মৃত্যুমুখে পতিত হলো এবং মুসলিম বাহিনীর বিজয় পতাকা উড্ডীন হলো বদর প্রান্তরে। মুসলমানদের মধ্যে শহীদ হলেন ১৪ জন এবং কাফের বাহিনীর মৃত্যুবরণ করলো ৭০ জন এবং বন্দী হলো আরো ৭০ জন। ৩১৩ জনের ক্ষুদ্র বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়েছিল মক্কার একহাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী। সে সময়ের তুলনায় আজ মুসলমানদের শক্তি সামর্থ ও জনসংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু তার পরও সারা বিশ্বে মুসলনারা ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সহ ইসলাম বিদ্ধেষীদের হাতে মার খাচ্ছে। ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাশ্মির ও আমাদের প্রতিবেশি মিয়ানমারের আরাকানের দিকে তাকালে মনে হয় যেন মুসলমানরাই একমাত্র সেই জাতি যাদের জীবন, সম্পদ, ঘরবাড়ি এবং তাদের মা বোনদের ইজ্জতের কোন দাম নেই। যেভাবে ইচ্ছা কাফের মুশরিকেরা মুসলমানদের মারতে পারে, তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের সম্পদ দখল করতে পারে, তাদের মা-বোনদের ইজ্জত আবরু যত ইচ্ছা লুন্ঠন করতে পারে। কাফের মুশরিকেরা মুসলিম নিধনের মহড়া দেয়, ইসরাঈলী হায়েনারা ফিলিস্তিনের মা-বোনদের বুকে উপর দাঁড়িয়ে নৃত্য করে, পিতার সামনে মেয়ের ইজ্জত লুন্ঠন করে, মিয়ানমারের বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করে অথচ মুসলিম নেতারা এই সব জুলুমে নিরব ভূমিকা রাখছেন। বদর প্রান্তরে মুসলমানদের মাঝে যে ঈমানী শক্তি, ঐক্যও মমত্ববোধ, একনিষ্ঠতা ছিল, সাহাবীগণ ছিলেন কুফুর শিরকের বিরুদ্ধে নির্ভিক সৈনিক । কিন্তু আজ মুসলিম বিশ্বে তা নেই। আছে শুধু দ্বন্ধ-কলহ, ক্ষমতার লোভ, বিলাসিতা ইত্যাদি। বিশ্বের কোন একটি দেশে ইসালামপন্থীদের ঐক্য নেই। এজন্য মুসলিম বিশ্বের এই অবস্থা। আল্লাহর সাহায্যও রহমত থেকে আমরা বঞ্চিত। যদি আজ বদরের বিজয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি এবং সাহাবায়ে কেরামের ঈমানী চেতনা ও আদর্শে উজ্জীবিত হতে পারি, তাহলে আজও পৃথিবীতে ইসলামের পতাকা উড্ডিন থাকবে। পৃথিবীর কোন পরা শক্তি মুসলমানদের ধমিয়ে রাখতে পারবে না।
লেখক : শিক্ষার্থী
এম.সি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ – সিলেট।
মোবাইল নং- ০১৭২৫৭২৪৫০৮


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

শান্তির পৃথিবী

        নাসিম আহমদ লস্কর: আমরা স্বপ্ন...

মোবাইল ফোন ভিজে গেলে যা করা উচিত

        চলছে বর্ষাকাল। ছাতা ছাড়া বাইরে...