বজ্রপাতের নিত্য উৎপাত

,
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২১     আপডেট : ৭ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ্
সারা পৃথিবীর মধ্যে জলবায়ু ও আবহাওয়া পরিবর্তনে দ্বিতীয় স্থান দখলকারী বাংলাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব বেশি উঁচুতে না থাকা সহ ৭০০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা থাকায় আবহমানকাল থেকেই লড়াকু সৈনিকের মতোই বেঁচে থাকে এদেশের মানুষ। নানাবিদ প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগে-দুর্যোগে জীবনহানী থেকে সম্পদহানীর ক্ষতি থেকে নিজেকে নিয়ে পুষিয়ে ওঠতে পারে না বলেই তার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা প্রভাব ফেলে ব্যক্তিগত, ধর্মীয়, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এমনকি বিশ্বময়, তাই বাংলাদেশও বিশ্ব মানচিত্রে দখল নেওয়ার মতো দুর্যোগ প্রধান দেশের তালিকায় ওঠে এসেছে। তাই দুর্যোগের কার্য তালিকায় বাংলাদেশকে নিয়েও গবেষণার খাতা খুলে বসেন বিজ্ঞানীরা। এইতো মাত্র আশির দশককে নিয়ে হিসেব কষলেও আমরা দেখতে পাই-বছর ফি বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখীর সাথে ঘুরে ঘুরে আসা বজ্রপাতের সংখ্যা খুব কমই ছিলো বাংলাদেশে। কিন্তু যতো দিন যাচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট গ্রীণ হাউজ গ্যাসের ফলে পৃথিবীর উষ্ণায়ন প্রভাবে বেড়ে যাওয়া দুর্যোগের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের। বাংলা বৈশাখ মাস এবং এপ্রিল থেকে মে মাসে উত্তর-পশ্চিম দিকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর সাথেই একসূত্রে গাঁথা হয়ে আছে বৃষ্টিসমেত সংঘটিত বজ্রপাতের লাগামহীন পদচারণ। যাকে ২০১৬ সালের আগেও দুর্যোগের তালিকায় স্থান না দিলেও এর বাড়বাড়ন্তে উক্ত বছরেই ১৯ জুলাই থেকে দুর্যোগের তালিকায় স্থান করে দেওয়া হয়েছে। তাইতো বিষয়টির প্রাধান্য বিবেচনায় উক্ত লেখায় আদ্যোপান্ত আলোচনার প্রয়াস নিয়েছি মাত্র।

দিনকে নিয়ে দিন গত হলেও আশির দশকের মে মাস এলে গড়ে বজ্রপাত হতো ৯ দিন। অথচ আশির দশক পেরিয়ে এসেই মাত্র ক’বছরের ব্যবধানে ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৭২ টিতে। এর মধ্যে ২০১১ সালে ৯৭৮টি। ২০১২ সালে ১২১০টি। ২০১৩ সালে ১৪১৫টি। ২০১৪ সালে ৯৫১টি ও ২০১৫ সালে ১২১৮টি। ৫ মে ২০১৮ সালের দৈনিক প্রথম আলোর একটি চিত্রে জানা যায়-২০১০ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেন-১২৩ জন মানুষের মধ্যে পুরুষ ৮৫, মহিলা ২০ ও শিশু ১৬ জন। ২০১১ সালে ১৭৯ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ১২০, মহিলা ২৮ ও শিশু ৩১ জন। ২০১২ সালে ৩০১ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ১৯০, মহিলা ৫০ ও শিশু ৬১ জন। ২০১৩ সালে ২৮৫ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ১৭৭, মহিলা ৫৩ ও শিশু ৫৫ জন। ২০১৪ সালে ২১০ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ১৪৩, মহিলা ২৮ ও শিশু ৩৯ জন। ২০১৫ সালে ২৭৪ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ১৮৪, মহিলা ৩৬ ও শিশু ৫৪ জন। ২০১৬ সালে ৩৫১ জন্য মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ২২০, মহিলা ৫১ ও শিশু ৭৯ জন। ২০১৭ সালে ৩০৬ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ২০১ মহিলা ৪৬ ও শিশু ৫৫ জন। ২০১৮ সালে ৭৬ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৫৭, মহিলা ৮ ও শিশু ছিলো ৭৬ জন। একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় ছিলো ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে ২০২০ সালের দিকে দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও এপ্রিল ২০২০ এর ২০ দিনের রেকর্ড অনুযায়ি বজ্রপাতে প্রাণহানী ছিলো ৫৭ জন ও গত বছরের পুরো এপ্রিল মাসে প্রাণহানীর সংখ্যা দেখা গেছে ২১ জনের মধ্যে ছিলো। তার অন্যতম কারণ হিসেবে ভাবা যেতে পারে কঠোর লকডাউন ও সাধারণ ছুটি থাকায় লোকজনের ঘরমুখিতা। তবে সংখ্যার দিক দিয়ে দেখতে গেলে আমরা সমীক্ষায় দেখতে পাই-২০১১ সালে ৯৭৮টি। ২০১২ সালে ১২১০টি। ২০১৩ সালে ১৪১৫টি। ২০১৪ সালে ৯৫১টি ও ২০১৫ সালে ১২১৮টি সংঘটিত বজ্রপাতের সংখ্যা। বিগত ২০০০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতিবছর ১৫১ দিনে ৪৬৮টি বজ্রপাত হয়েছে। যা ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত গড়ে ১৪৫ দিনে ৪৩৯টি বজ্রপাত অপেক্ষা বেশি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, বুয়েট, দুর্যোগ ফোরাম, গণমাধ্যমের তথ্য ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হিসাব বলছে-২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ যা বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বাংলাদেশেই বেশি।

প্রতিবছর সারা বিশ্বের ঘটে যাওয়া বজ্রপাতের মধ্যে এক চতুর্থাংশই ঘটে থাকে বাংলাদেশে। রাজধানীর আগারগাঁওস্থিত আবহাওয়া কেন্দ্রের বিজ্ঞানী জনাব আবদুল মান্নান বলছেনÑসার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বজ্রপাতের সংখ্যা ও প্রাণহানীর দিক দিয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। তাইতো, বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে ইদানীং ডেথ জোন হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ তাপমাত্রা যখন ১ ডিগ্রি বেড়ে যায় তখন বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১২ শতাংশে। অতএব এ থেকেই আমরা ধরে নিতে পারি জলবায়ু পরিবর্তন, বৃক্ষকর্তনসহ যেভাবে উষ্ণায়ন বাড়ছে সেইহারে এর থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ কমে আসছে বাংলাদেশের। আমরা ক্রমশ এক অনিশ্চিত মাত্রার দিকে ধাবিত হচ্ছি। কী শহর। কী গ্রামে।

কেন হচ্ছে, বজ্রপাত? উত্তর অনুসন্ধানে জানা যায়-বায়ুমন্ডলের অস্থিরতা বৃদ্ধিই এর অন্যতম প্রধান কারণ। আর এই বায়ুমন্ডলের অস্থিরতা ব্যাহত থাকে বলেই কিউমুলাস মেঘ উল্লম্বভাবে মেঘের অবস্থান ভূ-পৃষ্ঠ ৯০০০ মিটার পর্যন্ত বিশাল আকৃতির পর্বতের মতো কিউমুলোনিম্বাস নামক মেঘ গঠন করে বজ্র ঝড়ের সৃষ্টি করে। ‘গ্রীষ্মের উষ্ণ ও আর্দ্র দিনে উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে যখন উপরে উঠতে থাকে এবং দ্রুত ঠান্ডা হয়ে গাঢ় কৃষ্ণবর্ণের বজ্রমেঘ উৎপন্ন করে’ যা উল্লম্বভাবে প্রায় ৮ কি.মি দীর্ঘ এবং ৫ কি.মি পর্যন্ত প্রস্থে থাকে। সাধারণত একেকটি পৃথক বজ্রঝড় নিয়ে একটি সম্মিলিত বজ্রপাতের সৃষ্টি হয় যা প্রায় ৩০ কি.মি পর্যন্ত প্রস্থ ও ৫ ঘন্টা থেকে অধিক সময় স্থায়ী হতে পারে। এমনকি এমনও দেখা যায় একক বজ্রঝড়ও ৫০ কি.মি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়ে একটি অতিকায় বজ্রঝড়ের রূপ নিতে পারে। যাকে আমরা সাধারণত ঝড় বলে অভিহিত করতে পারি না। সাধারণত ঝড়ের সাথে এর পার্থক্য নির্ণিত হলে দেখা যায়, এই ঝড়ের সাথেই বিদ্যুৎ চমকায় ও বজ্রঝড় হয়। যা বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অনন্য এক অশনি সংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলেন-ঘন ঘন বজ্রমেঘ সৃষ্টির কারণেই বেড়েছে বজ্রপাত। কেড়ে নিচ্ছে জীবন। ক্ষতির দরোজায় ঘন ঘন কড়া নেড়ে যাচ্ছে বজ্রপাতের আধিক্ষতা। এমনিতেই বিভিন্ন সময়ে দেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেমন জানমালের ক্ষতি হয়েছে। বেড়েছে অর্থনীতির ক্ষতির খতিয়ান। যা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বপ্ন থেকে বাংলাদেশকে তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে দিনকে দিন। যা ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় মানুষের জীবন ও সম্মানজনক জীবিকা অর্জনের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলেন-ঘন ঘন বজ্রমেঘ সৃষ্টির কারণেই বেড়েছে বজ্রপাত। ৫. সমরেন্দ্র কর্মকার শুনাচ্ছেন-গ্রীষ্মকালে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাতাস গরম হয়ে ওঠে। সাথে জলীয়বাষ্পও উপরে ওঠে। আর তখন মেঘের ভেতর যতো বেশি পরিমাণ জলীয়বাষ্প ঢুকে ততোবেশি উষ্ণমেঘের সৃষ্টি হয়। ফলে ঠিক সে সময় আপড্রাফ এবং ডাউনড্রাফ বাতাস চলতে শুরু করে, যাকে বলা হয়ে থাকে বজ্রমেঘ। আর এ বজ্রমেঘের উপরের অংশে পজেটিভ ও নিচের ও মধ্য অংশে তৈরি হয়ে নেগেটিভ বিদ্যুৎ। আর পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘের-ভেতরের বিদ্যুৎ আধারে দূরত্ব বেড়ে গেলে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই অত্র অঞ্চল ভারসাম্যে ফেরার চেষ্টা করে। আর তখনই শুরু হয়ে যায় পজেটিভ এবং নেগেটিভ মেঘ থেকে বিদ্যুৎ আদান প্রদান। এবং সেই পজেটিভ ও নেগেটিভ ও নেগেটিভ বিদ্যুৎ সঞ্চালনের শুরু থেকেই বজ্রের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় বজ্রপাত। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘ একত্র হলে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের কারণে বাতাসের তাপমাত্রা ২০ হাজার ডিগ্রী থেকে ৩০ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে গিয়ে মেঘের ভেতরে থাকা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের সম্প্রসারণ ঘটে। শুরু হয় গ্যাসের কম্পন। আর সেই কম্পনের কারণে মেঘের গর্জনের সৃষ্টি হয়। এবং বজ্র সৃষ্টি হয়ে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে বলে জানান এ আবহাওয়াবিদ। শুধু তাই নয়, বজ্রপাতের সংখ্যাকে বিস্তৃতির দিকে ধাবিত করে বলা যায়। বজ্রপাত মূলত চার্জ বা আধান। আয়নিত জলকণার ফলে ঘটে। তবে জলকণার আয়নিত হওয়ার কারণকে নিয়ে বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেন না। তারা বলেন-‘পানি যখন বাষ্প হয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন মেঘের নিচের দিকে ভারী অংশের সাথে জলীয় বাষ্পের সংঘর্ষ হওয়ায় অনেক জলকণার ইলেকট্রন ত্যাগকৃত হয়ে ধনাত্মক চার্জ এ পরিণত হয় এবং অনেক জলকণা সে ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জে পরিণত হয়।’ অন্যদিকে ‘ডিসচার্জ প্রক্রিয়া ৩ ভাগে হয়ে থাকে। যথা- ক্স একই মেঘের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ এর মধ্যে। ক্স একটি মেঘের ধনাত্মক চার্জ এর সাথে অন্য মেঘের ঋণাত্মক আবার অন্য মেঘের ধনাত্মক চার্জ এর সাথে ওই মেঘের ঋণাত্মক চার্জ এর মধ্যে। ক্স মেঘের পজেটিভ আধানের ও ভূমির মধ্যে। একে ক্লাউড টু গ্রাউন্ড ডিসচার্জিং বলে। এ চার্জিত জলীয়বাষ্প মেঘে পরিণত হলে বিপুল পরিমাণ স্থির তড়িৎ উৎপন্ন হয়। এ সময় অপেক্ষাকৃত হালকা ধনাত্মক আধান মেঘের উপরে এবং অপেক্ষাকৃত ভারী ঋণাত্মক চার্জ নিচে অবস্থান করে। মেঘের এই বিপরীত চার্জের পরিমাণ যথেষ্ট হলে ডিসচার্জ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ডিসচার্জিং এর ফলে বাতাসের মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক স্পার্ক প্রবাহিত হয়। এ বৈদ্যুতিক স্পার্ক এর প্রবাহ-ই বজ্রপাত। কিন্তু সব বজ্র ভূ-পৃষ্ঠে পড়ে না। শুধু ক্লাউড টু গ্রাউন্ড ডিসচার্জিং এর ফলে সৃষ্ট বজ্র-ই ভূ-পৃষ্ঠে পড়ে। বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী এটা ঠিক। তবে মেঘে থাকা স্থির তড়িৎ প্রায় ১০ মিলিয়ন ভোল্ট পর্যন্ত শক্তি উৎপন্ন করে, যা বাতাসের একটি অংশকে আয়নিত করে। এই আয়নিত পরিবাহী অংশ দিয়ে চার্জ প্রবাহিত হয়।’ আর এ জন্য আকাশ ভরে যখন বজ্রপাতের সময় হয় তখন আলোর ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে ধরিত্রির খন্ডাংশ। তার অন্যতম কারণ ‘মূলত সরু চ্যানেলের আয়নিত পরমাণু থেকে বিকীর্ণ শক্তির তীব্র আলোকছটা। এই সরু আয়নিত ও বিদ্যুৎ পরিবাহী চ্যানেল তৈরির সময় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ২৭০০০০প এবং চাপ প্রায় ১০-১০০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিন্তু এই পুরো ঘটনাটি ঘটে এক সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ে। এ পরিবর্তন আশপাশের বাতাসকে প্রচন্ড গতিতে বিস্ফোরণের মতো সম্প্রসারিত করে। এর ফলে প্রবল শব্দ উৎপন্ন হয়। এই শব্দকেই আমরা বজ্রপাতের শব্দ হিসেবে শুনি। … ভূমি থেকে ৩ মাইল দূরত্বের বজ্রপাত ১ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন জুল শক্তি উৎপন্ন করে। বৈদ্যুতিক শক্তি পরিমাপক একক ‘কিলোওয়াট/আওয়ার’। এ হিসেবে এ শক্তি ২৭৮৪০ ‘কিলোওয়াট/আওয়ার’।
আবার পানিচক্রের নিয়ম অনুযায়িÑজলাধারের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মেঘের আকারে আশ্রিত হয় আকাশের উদরে। যাকে বজ্রপাতের ব্যাটারি নামে ডাকা হয়। তাই বজ্রপাতের জন্য দায়ী মেঘ বৈদ্যুতিক চার্জের আধারের মতোই আচরণ করে থাকে। যার উপরের অংশ পজেটিভ ও নিচের অংশ নেগেটিভ চার্জে চার্জিত থাকে। পানিচক্রে জলকণা যখন ক্রমশ ঊর্ধ্বাকাশে উঠতে থাকে তখন তারা মেঘের নিচের দিকে বেশি ঘনীভূত বৃষ্টি বা তুষারকণার সাথে সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়। যার ফলে উপরের দিকে উঠতে থাকে অনেক বাষ্পকণা বেশ কিছু ইলেকট্রন হারায়। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো মেঘের তলদেশে জমা হয় এবং ইলেকট্রন হারানো পজেটিভ চার্জিত বাষ্পকণা মেঘের একেবারে উপর পৃষ্ঠে চলে যায়। যার ফলশ্রুতিতে মেঘগুলো শক্তিশালী ধারক বা ক্যাপাসিটর এর বৈশিষ্ট্য লাভ করে। মেঘের দুই স্তরে চার্জ তারতম্যের কারণে সেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে তৈরি হয়। এই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের শক্তি মেঘে সঞ্চিত চার্জের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। এভাবে বাষ্পকণা ও মেঘে সংঘর্ষ চলতে চলতে মেঘের উপরে এবং নিচে যথাক্রমে পজেটিভ ও নেগেটিভ চার্জের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে এতোটা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে যে তার বিকর্ষণে পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থানরত ইলেকট্রনগুলো ভূ-পৃষ্ঠের আরো গভীরে চলে যায়। ফলাফল স্বরূপ ওই নির্দিষ্ট এলাকার ভূ-পৃষ্ঠ শক্তিশালী পজেটিভ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এখন বজ্রপাতের জন্য শুধু যা প্রয়োজন তা হল বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য সামান্য একটু বাহক বা কন্ডাক্টর। কিন্তু আমরা জানি, বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী তাহলে বজ্রপাত কিভাবে হবে? মেঘের বিপুল শক্তিশালী বিদ্যুৎক্ষেত্র তার চারপাশের বাতাসের অপরিবাহী ধর্মকে নষ্ট করে দেয়। যাকে বলে উরবষবপঃৎরপ ইৎবধশফড়হি। মেঘে অবস্থিত বিদ্যুৎক্ষেত্র যখন যথেষ্ট শক্তিশালী হয় (প্রতি ইঞ্চিতে প্রায় ১০০০০ ভোল্ট) তখন তার আশপাশের বাতাস পজেটিভ এবং নেগেটিভ চার্জে বিভক্ত হয়ে যায়। এই আয়োনিত বাতাস প্লাজমা নামেও পরিচিত। বাতাস আয়োনিত হয়ে মেঘ এবং ভূ-পৃষ্ঠের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের পথ বা শর্ট সার্কিট তৈরি করে দেয় এবং বজ্রপাত ঘটায়।’-(অসমাপ্ত)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কিপ্টা দর্শন

        এম, আশরাফ আলী লালকৃষ্ণের মিষ্টির...

সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সংবর্ধনা

        সিলেটস এক্সপ্রেস ডেস্ক : গণপ্রজাতন্ত্রী...

সমাজ উন্নয়নে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পেলেন শেখ আফিয়া খানম

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক আন্তর্জাতিক নারী...

হৃদয়ের কালিতে লেখা

        বাছিত ইবনে হাবীব : একটি...