বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণই একমাত্র কাম্য-জ্যোতিষ মজুমদার

,
প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ১২ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক
মানুষের মধ্যে যেসমস্ত গুণাবলী রয়েছে শিক্ষা সেগুলোকে বিকশিত করে। তাই শিক্ষা জাতীয় উন্নতি ও প্রগতির প্রধান বাহক। অগ্রসরমান চিন্তা এবং দূরদৃষ্টি নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকালে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত বিষয়গুলোর মধ্যে শিক্ষাকে অবশ্যই তালিকার শীর্ষে স্থান দিতে হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফোরাম ঊঋঅ (ঊফঁপধঃরড়হ ঋড়ৎ অষষ) প্রায় ২৬/২৭ বছর পূর্বে বিশ্বের সব দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘ, ইউনেস্কোসহ প্রায় সব
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় শিক্ষা বিষয়ক সরকারী/ বেসরকারী সংস্থার প্রথম সম্মেলনে নিজ নিজ দেশের জিডিপির শতকরা ৬ (ছয়) ভাগ অথবা জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ (বিশ) ভাগ শিক্ষায় বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হয়, তাও আবার তিনটি মন্ত্রণালয়ে ভাগ করে দেয়া হয়। ফলে বরাদ্দকৃত অর্থটুকুও ভাগাভাগি হয়ে যায় অন্যান্য খাতের সঙ্গে। বর্তমানে পৃথিবীতে শিক্ষাখাতে এত কম বিনিয়োগ করে এমন উদাহরণ আর একটিও নেই।
রাজনীতির বাইরেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষা ও শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে সবচেয়ে বেশী মনোযোগী ছিলেন। পুরো পাকিস্তান আমলে তিনি এদেশের মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে আপোষহীন মৃত্যুঞ্জয়ী লড়াই
পরিচালনা করেন। তিনি যেমন ৬ দফার মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিমের আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন, তেমনি তিনি ছাত্র সমাজের ১১ দাফায় বর্ণিত শিক্ষা জাতীয়করণসহ শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় দায়ীত্বের অধীনে নিয়ে এসে শিক্ষা ও শিক্ষকগণের সমস্যা সমাধান করাকে দেশের সামগ্রিক বিকাশের অপরিহার্য শর্ত বিবেচনায় ১১ দফাকে তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে অন্তর্ভূক্ত করেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘুণে ধরা এই সমাজ ব্যবস্থাকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন। আর সে জন্য তিনি প্রবর্তন করেছিলেন সমাজতন্ত্র অভিমুখী গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার। বেতন মওকুফ, বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ,
গণশিক্ষায় আলাদাভাবে অর্থবরাদ্ধ, নারী শিক্ষায় প্রসার, শিক্ষা কমিশন গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারিসহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তিনি গণমুখী শিক্ষার দিকে জাতিকে ধাবিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সব সময়ই
চেয়েছেন এই দেশের মানুষ যেন খেয়ে পরে সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারে,আত্মমর্যাদা নিয়ে যেন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে। তাই তিনি সদ্য স্বাধীন দেশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও
তিনি এদেশের প্রথম বাজেটেই প্রতিরক্ষা খাত থেকেও শিক্ষাখাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শিক্ষার সার্বজনীন আদর্শ মাথায় রেখে শিক্ষানীতি প্রণীত হওয়ার আগেই যুদ্ধবিধস্ত অর্থনীতির প্রচন্ড চাপের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু এক ঘোষনায় শিক্ষাকে আপামর জনতার কাছে উন্মুক্ত করতে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পুরো প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন। এদেশে গত ৪৮ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে আর কোন সরকার প্রধান শিক্ষার উন্নয়নে এতবড় বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেননি।
শতাব্দীর মহানায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে একটি শিক্ষাদর্শন প্রবর্তন করেছিলেন, যা বর্তমান সময়ে খুবই যুগপোযোগী। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শনের মূলে রয়েছে একটি বৈষম্যহীন আধুনিক বিজ্ঞান মনস্ক, প্রগতিশীল, উৎপাদনমূখী দেশ প্রেমিক জনগোষ্ঠী সৃষ্টিতে শিক্ষাকে অভিযোজিতকরণের দিকনির্দেশনা। রাষ্ট্রাদর্শ বা দেশ পরিচালনার জন্য বঙ্গবন্ধু যেমন রচনা
করেছিলেন গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ-এই চারটি মূলনীতি ভিত্তিক ঐতিহাসিক ৭২- এর সংবিধান, যেখানে শিক্ষাকে মৌলিক নাগরিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, ঠিক তেমনি মানব সম্পদ গড়ে তোলার মহৎ লক্ষ্যে একটি গণমূখী, বিজ্ঞানমনস্ক সেকুলার সর্বজনীন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে অতি দ্রুত প্রণয়ন করেছিলেন দেশের সেসময়ের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডঃ কুদরত-ই- খুদার নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট যাহাতে তাঁর শিক্ষা ভাবনার সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
বিজ্ঞানমনস্ক ও সেকুলার এই শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক রূপ ও দর্শন এর বিস্তৃতি ব্যাখ্যা, শিক্ষকের সমস্যা সমাধানে অর্থায়নের ব্যবস্থাসহ প্রণীত এই রিপোর্টে বাস্তবায়িত হলে এদেশের মানুষের জীবন ও মান পাল্টে যেত। ১৯১৯
সালের স্যাডলার কমিশনের পরে উপ-মহাদেশের কোথাও আর এমন বিস্তৃত অনুপুঙ্খ শিক্ষাবান্ধব রিপোর্ট প্রণীত হয়নি।
ডঃ খুদা কমিশন রিপোর্টের ভূমিকাতেই বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে দেশের সামগ্রিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা একটি সামজিক পুজি বিশেষ বলে জনসাধারণের শিক্ষা
লাভের সঙ্গে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাস ও সূচিত হয়। ডঃ খুদা কমিশন রিপোর্টে যথার্থভাবেই উল্লেখ করেছেন “শিক্ষাব্যবস্থা একটি জাতির আশা- আকাঙ্খ রূপায়ন ও ভবিষ্যতে সমাজ বিনির্মানের হাতিয়ার। সংবিধান ঘোষিত বৈষম্যহীন সমাজ তথা সমাজতন্ত্র বির্নিমানে একটি অসাম্প্রদায়িক , বিজ্ঞান মনস্ক, সর্বজনীন, কল্যাণমুখী ও একই ধারার শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কঠিন ও জটিল কাজের পথ নির্দেশই হল বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শনের মূল ভাবনা। সুতরাং বলা যায় খুদা কমিশনের নীতিমালার আলোকে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণই অর্থনৈতিক মুক্তির একমাত্র পথ। বঙ্গবন্ধু সরকার সেদিনের আর্থিক সংকট ও অসঙ্গতির কথা বিবেচনায় রেখেও মানব সম্পদ উন্নয়নের জরুরী পয়োজনে শিক্ষায় অর্থায়ন প্রসঙ্গে খুদা কমিশনে বলেছেন, “ আমাদের শিক্ষাখাতে ব্যয় অবিলম্বে মোট জাতীয় আয়ের ৫% এ উন্নীত করা দরকার এবং এ ব্যাপারে যত অল্প সময়ে সম্ভব ৭% ব্যয় করা জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়ে গেলে এই কমিশন আর আলোর মুখ দেখেনি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর সামরিক
শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ দুঃশাসনের কারণে আমরা সে-সময়ের আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে অনেক দূরে অধঃপতিত এক অবস্থানে চলে আসি। সে সময় থেকে চলমান এক দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক অর্থনীতির দুঃসহ পরিবেশে
বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-ভাবনা ও দর্শন আজ বলতে গেলে অবাঞ্চিত হয়ে পড়েছে। খুদা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একমুখী বিজ্ঞান মনস্ক, সেকুলার শিক্ষার পরিবর্তে দেশে চালু হয়েছে বহুধাবিভক্ত শিক্ষা পরিকাঠামো। শুধু প্রাথমিক স্তরে
শিক্ষা আজ ইংরেজী মাধ্যম, মাদ্রাসা, ও সাধারণসহ ১০ থেকে ১২ ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একেক স্তরের শিক্ষার্থীদের মনে হয় চিন্তা ভাবনা ও সংস্কৃতিতে যেন ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। এ অবস্থায় আধুনিক চিন্তা ভাবনা ও দেশ প্রেমে
সমৃদ্ধ একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্তা বিকশিত হতে পারেনা এবং এটি বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও দর্শনর পরিপন্থী।
একটি স্বাধীন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বেসরকারি থাকতে পারেনা। বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষাটাও আজ বিশ্বায়িত হয়ে গেছে এবং আমাদেরকে ও তাল মিলিয়ে চলতে হবে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড এডুকেশন সিস্টেমের সঙ্গে। মৌলিক শিক্ষাই আলোর পথ দেখাতে পারে। যেসব দেশ এবং তাদের নাগরিক উন্নত জীবন মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তাদের ইতিহাস সে কথাই বলে। ১৯০৬ থেকে ১৯১১ পর্যন্ত জাপানের সর্বত্র (শহর ও গ্রাম) বাজেটের ৪৩ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হয়। এই দৃঢ ভিত্তি থাকার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর্যুদস্ত জাপান যুদ্ধ শেষ হওয়ার ২০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একটি উন্নতদেশে পরিণত হয়। শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে যেসব দেশ সাম্প্রতিক কালে উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে সেগুলোর মধ্যে রযেছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর এবং চীন। আর এখনও মর্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে নির্বাচনী প্রচারনায়
শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত থাকে।
মানব উন্নয়নের প্রায় সকল সুচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি আজ বৈশ্বিক পর্যায়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রসহ মোট ১২টি
উন্নয়ন সুচকের মধ্যে ১০ টিতেই বাংলাদেশ আজ তার প্রতীবেশী রাষ্ট্রগুলোসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব রাষ্ট্রকেই ছাড়িয়ে গেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য বাংলাদেশকে আজ দারিদ্র বিমোচন
ও অন্তর্ভুক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে অপরাপর দেশগুলোর সামনে।
দুঃখজনক হলেও সত্য বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা জাতীয়করণের অসমাপ্ত কাজ আজও সম্পন্ন হয়নি। আজ ও শিক্ষক সমাজকে শিক্ষা জাতীয়করণের দাবীতে মাঠে নামতে হচ্ছে। হিসাব করে দেখা গেছে সরকার এমপিওভূক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোতে শিক্ষক
কর্মচারীদের বর্তমানে যে বেতন ভাতা ও সুবিধা দিচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে যা ব্যয় করেন তা ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয় সরকার
অধিগ্রহণ করলে সরকারের শিক্ষা জাতীয়করণ করতে আর অতিরিক্ত কোন টাকার প্রয়োজন হবেনা। এ পর্যন্ত আমরা যতগুলো শিক্ষা কমিশন পেয়েছি এসব কমিশনের শিক্ষাবিদগণ শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের পক্ষে বরাবরই মত দিয়েছেন। জনগণ তথা জাতির আশা- আকাঙ্খা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে তৈরী করা হয়েছে” জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০” , সেখানে ও শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয় করণের কথা বলা হয়েছে। দিন বদলের সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল কলা কৌশলীদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ এই মুজিব বর্ষেই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কবি সুমন বণিকের সুবর্ণেসুমন আয়োজনের প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: কবি সুমন...

গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় কাউনিন্সলর প্রার্থী আব্দুল মতিনের গণসংযোগ

        আগামী ৩০ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে...

নাগরিক কমিটির সংবর্ধনা ও মতবিনিময়

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি...

মে দিবসে জাসদ জেলা ও মহানগর শাখার আলোচনা

        মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে জাসদ...