ফ্রান্সে সফল ব্যবসায়ী মুজিব, এগিয়ে যেতে চান বহুদূর

প্রকাশিত : ১২ মার্চ, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এনায়েত হোসেন সোহেল, প্যারিস, ফ্রান্স থেকে :-
নিজের ইচ্ছা শক্তি, সততা আর উদ্যমতার মধ্য দিয়ে মুজিবুর রহমান সেজু জয় করেছেন প্রবাস জীবন। কর্মের সন্ধানে ১৯৯৭ সালে ফ্রান্স প্রবাসী হিসেবে নিজের নাম লেখান । একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে নিজের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে তিনি গড়ে তুলেছেন ফ্রান্স ও স্পেনে ৭টি একক  ও যৌথ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ।
প্রবাসে এত স্বল্প সময়ে বৃত্ত থেকে সফল হওয়ার গল্প খুব কমই চোখে পড়ে। গুটি কয়েকজনের মধ্যে তিনি পৌঁছে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের দেশ ফ্রান্সে অনেক চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে স্ব- মহিমায় নিজেকে প্রতিষ্টিত করেছেন একজন ব্যবসায়ী হিসেবে।
মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখছেন এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোকে আরও বড় করে তোলার। পাশাপাশি বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের।
মুজিবুর রহমান বললেন, প্রথম যখন ফ্রান্সে আসি তখন খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। তবে আমার লক্ষ্য ছিল কর্মচারী থেকে মালিক হব। সে লক্ষ্যেই কাজ করেছি নিরলস ভাবে। এক পর্যায়ে যে রেষ্টুরেন্টে কাজ করতাম সেই রেষ্ঠুরেন্ট ইয়াসমিন কিনে নেই। সেই যে শুরু আজ অব্দি সেই রেষ্ঠুরেন্টসহ ৭ টি প্রতিষ্ঠান করতে পেরেছি।
মুজিবুর রহমান সেজুর জন্ম ১৯৭৫ সালের ২ মে। সিলেটের গোলাপগঞ্জের লক্ষীপাশা ইউনিয়নের শ্রীভহর গ্রামের সুনাহর আলী ও  ছয়দুন নেসার ছয় সন্তানের মধ্যে পঞ্চম তিনি।
১৯৮৪ সালে নূরানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী ,শাহজালাল হাই স্কুল গোলাপগঞ্জ থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন। পরে গোলাপগঞ্জের এমসি একাডেমিতে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হোন। এরপর আর বেশিদূর এগুতে পারেননি। জীবনকে ভালো একটা পজিশনে নিয়ে যাবার লক্ষে ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে দেশ ত্যাগ করেন। স্পেন হয়ে চলে আসেন ফ্রান্সে। ফ্রান্সে আসার পর এখানকার বাংলাদেশিদের অবস্থা, কাগজ  বা  কাজের বা ভাষাগত সমস্যা তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। জীবনের লক্ষ্য স্তির করেন কাজ করতে হবে।ব্যবসায়ী হতে হবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথম অবস্থায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মুজিব । এরপর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সেই রেষ্টুরেন্ট ইয়াসমিন দুজন সহযোগী নিয়ে কিনে নেন। এরপর অদম্য স্পৃহা , সততা আর ধর্য্য নিয়ে চালিয়ে যান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি।প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগ করেন। শ্রমিকদের সহযোগিতা ও নিজের কর্ম স্পৃহার কারণে সাফল্য আসতে থাকে। উন্নতি করতে থাকেন দিন দিন।পেছনে থাকাতে হয়নি আর তাঁকে।
একপর্যায়ে মুজিবুর রহমান ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করতে থাকেন। ধীরে ধীরে এক এক করে একক ও যৌথভাবে প্যারিস ও ইলদো ফ্রান্স এবং স্পেনের বিভিন্ন স্থানে ৭টি প্রতিষ্টান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্টান গুলো হলো রেষ্ঠুরেন্ট ইয়াসমিন (প্যারিস দশ) ,রেষ্টুরেন্ট পন্ডীচারী (প্যারিস দশ) ,লা রোজ দো কাশ্মীর,(প্যারিস পাঁচ),নিউ পন্ডিচেরী রেষ্টুরেন্ট (বোলোন বেলিন কোর্ট), আফ্রিকান কুইন কসমেটিক্স, (প্যারিস দশ) ও ফুড এন্ড ড্রিঙ্কস মাদ্রিদ জিরো পয়েন্ট স্পেন, এবং ফুড এন্ড ড্রিঙ্কস ২ কায়েক্রুজ , স্পেন।
এ সকল প্রতিষ্টান গুলোতে অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের চাইতে বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগ দেন বেশি। বর্তমানে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশী শ্রমিক এ সকল প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। বেশিরভাগই শ্রমিক এ সকল প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বা এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বদলৌতে কাগজ করার সুযোগ পান। আর এসকল শ্রমিকদের প্রতি মাসেই প্রায় ৭০/৮০ হাজার ইউরো তাদের সেলারি প্রদান করে থাকেন।
আগামীতে আরো বড় পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্টান করার মানসে তিন ভাইকে ফ্রান্সে তিনি নিয়ে এসেছেন। তাঁরাও নিজ নিজ গুনে সফলতার আসনে আসীন হচ্ছেন।
শুধু ব্যবসায়ী পরিচয় নয় মুজিবুর রহমানের। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে কিছুটা সময় হলে ও দেয়ার চেষ্টা করেন।ফ্রান্সে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের  বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণে তিনি চেষ্টা করে থাকেন সর্বাত্বক।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম ফ্রান্সের যুগ্ম আহবায়ক,গোলাপগঞ্জ হেল্পিং এন্ড হেন্ডস ফ্রান্সের সহ সভাপতি , লক্ষীপাশা সমাজ কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সংগঠনে বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কাজ করে চলেছেন নিবৃত্তে নিরলসভাবে।
ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান মুজিব ২০০৪ সালের মার্চ মাসে রাশেদা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন। বর্তমানে নাবিহা ইয়াসমিন ও মাহফুজুর রহমান নামের দু সন্তান নিয়ে রয়েছে তাঁর সুখের সংসার।
খেলাধুলায় ও মুজিবুর রহমানের শখ অনেক। প্রিয় খেলা ফুটবল। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। সুযোগ পেলে ফ্রান্সের স্টেডিয়ামে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখেন। অবসরে গান শুনেন। প্রিয় শিল্পী আব্দুল জব্বার ও ছাবিনা ইয়াসমিন।
মুজিবুর রহমান মনে করেন,সততা,আত্ববিশ্বাস , কায়িকশ্রম ও দেশপ্রেম থাকলে যে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহন করতে পারবে। প্রবাসে বিশেষ করে একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা , সহযোগিতা ও সহমর্মিতা  রাখা উচিত। সেই সাথে নিজের লক্ষ্য নিজে ঠিক করে এগুতে হবে। মাঝ পথে বিচ্ছিন্ন হলে চলবেনা। একেবারেই শেষ লক্ষে পৌঁছতে হবে। তবেই প্রবেশ জীবন কিংবা নিজের জীবনের স্বার্থকতা প্রতীয়মান হবে।
3 Attachments

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেটে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেটের বিভাগীয়...

বিপদের বন্ধু ইউএনও বিশ্বজিত কুমার পাল

         নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ করোনাকালে নবীগঞ্জ উপজেলাবাসী ইউএনওকে...