প্রেরণার উৎস

প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

সাঈদ চৌধুরী: দেশের মতো বিলেতে ঈদের মহানন্দ খুব একটা উপভোগ করা যায় না। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-পরিজন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে পাড়াপড়শি পরিবেষ্টিত হয়ে ঈদ উদযাপনের মজাই আলাদা। বহুদিন পর এবারে কুরবানির ঈদে দেশে খাকার ফলে ছোট বেলার সেই ঈদ-আনন্দ যেন নতুন করে উপভোগ করছি।

ঈদের দিনটাকে আরো একটু স্মৃতিময় করে রাখার জন্য ঈদের জামাত শেষে একজন কবির বাসায় হাজির হলাম। ছোটকাল থেকে যিনি আমার মতো আরো অনেকের প্রেরণার উৎস। গত চল্লিশ বছর ধরে তাওহীদি নন্দনতাত্ত্বিক ভাবধারায় যারা লিখেন, তিনি তাদের অভিভাবক। সিলেটের প্রিয় মুখ কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী।

রাগিব হোসেন চৌধুরী একাধারে একজন কবি, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তার কাব্য-সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য আপন ভাবগভীরতা, চিত্ররূপময়তা, আধ্যাত্মচেতনা ও ঐতিহ্যপ্রীতি। তিনি সিলেটের সাহিত্য আকাশে ভোরের শুকতারার মতো। কবি আফজাল চৌধুরী ও কবি দিলওয়ার প্রতিভার মধ্যগগনে চোখ ঝলসানো দীপ্তির ভেতরে আর সব অগ্রজ কবি সাহিত্যিকরা যখন জোনাকীর মতো ম্রিয়মান; রাগিব হোসেন চৌধুরী তখন জেগে উঠলেন বিদ্যুৎ দীপ্তিতে।

বাঙালি মুসলমানদের আত্মবিস্মৃতি, অসচেতনতা ও নিদ্রাচ্ছন্নতাকে চাবুক মেরে কবি নজরুল যখন বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন, ‘কোথা সে আজাদ কোথা সে পূর্ণ মুক্ত মুসলমান?’ আল্লাহ ছাড়া করে না কারো ভয়, কোথা সে প্রাণ? … ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি, সাম্য মৈত্রী এনেছি আমরা বিশ্বে করেছি খ্যাতি।

কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী তা ছড়িয়ে দিয়েছেন আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে। প্রকৃতি ও স্বদেশ তার লেখার প্রধান উপজীব্য বিষয়। মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত, সমসাময়িক ঘটনাবলি ও নানা শ্রেণি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বিশ্লেষণ তার লেখায় গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে। তিনি সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম, সাহিত্য, ইতিহাস ইত্যাদি নানা বিষয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেন।

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি ও মাসিক আল ইসলাহ্ সম্পাদক কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী দির্ঘকাল দৈনিক সিলেটের ডাক এর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। সাপ্তাহিক সিলেট কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন বহুকাল। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি সম্পাদনা করছেন চিরায়ত বাংলার মুখপত্র মাসিক ভিলেজ ডাইজেস্ট। তার মাসিক জাগরণ সত্তর দশকের শুরুতে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে ছিলো বেশ জনপ্রিয়। এরপর তিনি সম্পাদনা করেছেন পাক্ষিক রেনেসাঁ, পাক্ষিক সিলেট পরিদর্শক, সুরমা প্রবাহ, পাক্ষিক জগন্নাথপুর পরিক্রমা সহ অনেকগুলো পত্র-পত্রিকা ও সংকলন। তিনি সচিত্র স্বদেশ, বাংলার মুখ, আজাদ, দৈনিক বাংলা, বিচিত্রা, সাপ্তাহিক জাহানে নও, সোনার বাংলা, স্বদেশ, হককথা, সংগ্রাম, বিক্রম ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত নতুনদিন সহ বিভিন্ন কাগজে সংবাদদাতা, বিভাগীয় সম্পাদক ও কলাম লেখক হিসেবে কাজ করেছেন।

কবি রাগিব হোসেন চৌধুরীর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যাও কম নয়। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- স্বাগত সংলাপ (১৯৮৩), নিষিদ্ধ কবিতা (১৯৯০), রোকেয়া ভাবী কেমন আছেন (১৯৯৩)। প্রবন্ধঃ কবিতা প্রসঙ্গ (১৯৮১), রাগিব হোসেন চৌধুরীর কলাম ১ম খন্ড (১৯৮৪), ফোরাতের তীর বেয়ে (১৯৮৪), নির্ধারিত প্রবন্ধমালা (২০০৭), হযরত শাহজালাল ও সিলেটের পর্যটন বৈচিত্র (২০১০), স্মৃতির সাথে কথকতা ১০ খন্ড (২০১৬), শতাব্দীর দুই মনীষী (জীবনী), কমলের কণ্ঠ (জীবনী), মুক্তির ময়দানে কখনো নিরব নয় (উপন্যাস), অশ্রু নয় রক্ত (উপন্যাস), ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না (নাটক) ইত্যাদি।

কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী একজন নিরলস সাহিত্য-সাধক। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ও সীমিত পরিসরে তার মতো একজন কবিকে সঠিক ভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। বড় পরিসরে কোন এক সময় লেখার আগ্রহ আছে।

ঈদের প্রথম প্রহরে আমাকে কাছে পেয়ে খুব খুশি হলেন আমাদের প্রিয় রাগিব ভাই। দেশ-বিদেশের অনেক কিছু জানতে চাইলেন। সমকালীন বাংলা ভাষার প্রধান কবি ও কথাসাহিত্যিক স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি অংশ গ্রহনকারী কলম সৈনিক আল মাহমুদের ৮৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আমার রচিত ‘কালজয়ী কবিতার স্রষ্টা আল মাহমুদ’ বইটি তার হাতে তুলে দিলাম। ভালো করে দেখে ভূয়ষী প্রশংসা করলেন।এরই মাছে ভাবি নিয়ে এলেন অনেক খাবার।সিলেটি পরিবারিক আতিথেয়তা। তাদের মজাদার ঈদ আপ্যায়নে মুগ্ধ হলাম।

আরও পড়ুন