প্রিয় বাংলাদেশ ও কিছু ভাবনা

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

নাসিম আহমদ লস্কর: বাঙালি, বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, বাংলা আমাদের জাতীয় জীবনের ৪টি অবিচ্ছেদ্য শব্দ। এই শব্দগুলো আমাদের জাতীয় জীবনের একেবারে মূলে গেঁথে আছে। একটি বৃক্ষ যেমন মূল ছাড়া দাঁড়াতে পারেনা ঠিক তেমনি আমরাও বিশ্বের দরবারে এই চারটি শব্দ ব্যথিত আমাদের পরিচয় দিতে পারিনা। এই চারটি শব্দ আমাদের শতভাগ পরিচয় নিশ্চিত করে।

সেই ১৭৫৭-১৯৪৭ এবং ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত কেবল দুই ধাপে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন হয়েছিল। কিন্তু আমরা বাঙালি জাতির কপালে ইতিবাচক কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০ বছর এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান শাসনামলে ২৩ বছর আমাদের ভাগে ও ভোগে জুটেছিল শোষন, নিপীড়ন আর নির্যাতন। ব্রিটিশ আর পাকিস্তানি উভয় শাসকগোষ্ঠী মিলে আমাদের ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহ সব ধরনের অধিকারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। আমাদেরকে নিয়ে তারা জ্বালাও-পোড়াও আর মেরুদ- ভাঙ্গা নীতিতে মগ্ন ছিল। বাঙালি যে মানুষ, বাঙালিরও যে বৈষম্যহীন জীবনযাপনের অধিকার আছে এ কথা ভুলতে বসেছিল। প্রায় ২১৩ বছরের শোষণ, আর নিপীড়ন – নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি এবং দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা আদায় করি আমাদের লাল – সবুজ পতাকার মর্যাদা।

জাতির জনক তাঁর জীবনের সুবর্ণ সময়গুলো কাটিয়েছিলেন আন্দোলন, সংগ্রাম আর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিনরাত যাপনের মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র বাঙালির মুক্তির অধিকার আদায়ের জন্য। ১৯৭১ সালে তাঁরই নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁরই নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনা করেছিল। হাটিহাটি পা -পা করে দেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট দেশ, বিদেশী চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে শহীদ হন। পিতা হারানো পর শিশু বাংলাদেশ কিছু পথভ্রষ্ট বিপথগামী লোকের হাতে চলে যায়। বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে তার সঠিক পথের দিশা।

মূলত, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- সংঘটিত হওয়ার পর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। মুক্তিকামী জনগণ- যারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাঁরা স্বাধীন জীবনযাপনের স্বপ্ন হারিয়ে ফেলে। সোনার বাংলা কিছু শকুনের হাতে চলে যায়।

তারপর অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে থাকে। উন্নতির শৈশব পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। শিক্ষা-দীক্ষা সব কিছুর দিকে ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এ কথা যেমন সত্য তেমনি একথাও সত্য যে, এখনো দেশে কিছু কচক্রী লোক বাস করে যাদের কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো এখনো সম্ভব হচ্ছে না।

জাতীয় জীবনে আমাদের অন্যতম অভিশাপ হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতির কারণে আমাদের বাঁধাহীন অগ্রযাত্রা এখনো থমকে যায়। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় বড় বড় অপরাধ করেও অনেকে পার পেয়ে যায়। খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই এগুলো বেড়েই চলেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় বাণিজ্যিক হয়ে উঠেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঠিকমতো হচ্ছেনা। এসবের মূলে রয়েছে দুর্নীতির সংক্রমণ।

জাতীয় জীবনের উন্নতির জন্য এখুনি দুর্নীতিকে উৎপাটন করতে হবে। ব্যাক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তি কে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য মনোনিবেশ করতে হবে। তবেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা সদর্পে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।

লেখক : নাসিম আহমদ লস্কর
শিক্ষার্থী , বিবিএ প্রোগ্রাম
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
তাং: ১০-০৩-২০১৯

আরও পড়ুন



বানিয়াচংয়ে যুবকের লাশ উদ্ধার

মখলিছ মিয়া,বানিয়াচং থেকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং...

প্রেমিক যখন ধর্ষক, নবীগঞ্জে তোলপাড়

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮,...

যৌতুক প্রথা ও ইফতারি দান

মাজেদা বেগম মাজু :যৌতুক সামাজিক...