প্রিয় এম সি কলেজ আবেগ ও ভালোবাসার এক নাম

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

——————————————————————-
বদরুল ইসলাম শোয়েব ঃ– হাজারো ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সিলেটের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সিলেট এম সি কলেজ আমাদের সকলের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসার এক নাম। প্রায় ১২৮ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ভরপুর এই প্রতিষ্ঠান অগণিত জ্ঞানী-গুণী সৃষ্টির সূতিকাগার। উন্নত মানুষ, উন্নত সমাজ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ভুমিকা রাখার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে আজ জ্ঞান বিকাশের অনন্য এক বাতিঘরে পরিণত হয়েছে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের সকল ন্যায্য অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে
এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী -শিক্ষকরা। আমি যদি বলি সিলেট এম সি কলেজ জ্ঞানের প্রসারতা ঘটিয়ে বহির্বিশ্বের সকল উজ্জ্বল জায়গায় স্থান করে নিয়েছে,
দ্বিমত করার সুযোগ নেই। এই কলেজ জন্ম দিয়েছে অনেক নামকরা মন্ত্রী ও এমপির, জন্ম দিয়েছে অনেক বিজ্ঞানীরও, জন্ম দিয়েছে নীতি নৈতিকতার অনেক উন্নত মানুষ।
৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত পুন্যভুমি হযরত শাহজালাল -শাহপরানের আধ্যাত্বিক নগরীতে অবস্থিত খ্যাতনামা এই প্রতিষ্ঠান। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় আমাদের অন্যান্য সহপাঠীরা বলতো এম সি কলেজ অনন্য গুনের অধিকারী,ঐদিন মনটা আনন্দে ভরে উঠেছিল। নিকৃষ্ট কিছু জঘন্য ঘটনায়
এম সি কলেজের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও শত ঐতিহ্যের ম্লান হতে দেয়া যাবে না। সকল প্রকার কুসংস্কার, অপশাসন, অপ-রাজনীতি দূর করে শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবী। কলেজ প্রশাসন শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা বিধি যথাযথ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন, যৌন হয়রানি কমিটি থাকলে তা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন, কঠোর দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন ও অন্যান্য বিষয়ে নৈতিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানোর মধ্যে দিয়ে এম সি কলেজ তাঁর নিজস্বতা ফিরে পাবে আমাদের বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদাই বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নন,অপরাধীদের কোন দল নেই, তাদের কোন সমাজ ও নেই। অপরাধীদের শাস্তি হবেই। দেশবাসী কিন্তু তার প্রমাণ ও পাচ্ছে। বড় বড় অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে। আইনের বাস্তবায়ন হচ্ছে। আজকে দুর্নীতিবাজ, অপরাধী ও সন্ত্রাসী কেউই রেহাই পাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের ও যার যার অবস্থানের জায়গাগুলোতে নীতি নৈতিকতা উঁচু করে লোভ লালসা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের মাধ্যমে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেয়াই হবে জীবনের বড় সফলতা ও স্বার্থকতা। সেই সাথে রাস্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠান হউক নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে আপোষহীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে, মানুষের সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে দিনের বেশীর ভাগ সময় ব্যয় করেন,আর আমরা বিপরীত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকি, তা কি উচিত?
তাই প্রত্যাশা জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এই ত্রিভুজ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে শিক্ষালয়, সেই সাথে সমাজ ও দেশ।
প্রিয় প্রানের বিদ্যাপীঠ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সকল ক্ষেত্রে নিরাপদ হউক সিলেট এম সি কলেজ।
ব্যথিত
লজ্জিত
মর্মাহত।
লেখক, বদরুল ইসলাম শোয়েব, রেজিষ্টার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

আরও পড়ুন

লিডিং ইউনিভার্সিটির মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : লিডিং ইউনিভার্সিটিতে...

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় বিএনপির ৬৮ নেতা-কর্মী আটক

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : একাদশ...