প্রস্তুতি নাও মুমিন সিয়ামের

,
প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এহতেশামুল আলম জাকারিয়া:
অফুরন্ত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অমুল্য সওগাত নিয়ে বছর ঘুরে আমাদের দ্বারে কড়া নাড়ছে সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান । আরবী ১২ টি মাসের মধ্যে ৯ম মাসটিই হচ্ছে রমজান মাস। ফারসি শব্দ ‘রোজা’র আরবি অর্থ হচ্ছে ‘সওম’, বহুবচনে ‘সিয়াম’। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকাই রোজা। সিয়াম সাধনা সকল যুগের নবী –রাসুল ও তাদের উম্মতদের জন্য অবিচ্ছেদ্ধ অংশ ( ফরজ) ছিল। তবে সাধনার পদ্ধতি ভিন্ন ছিল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ কোরআনে বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩) । আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে (রমজান) পায় সে যেন রোজা রাখে”( সূরা বাকারা ঃ ১৮৫ ) । এই মাসের রোজার ফজিলত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)। অপর হাদিসে এসেছে, হযরত সাহ্ল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)। হযরত আবু ওবায়দা (রা.) রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরুপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)। মহানবী (সা) ইরশাদ করেছেন,’রোজাদারের জন্য দুটি খুশি, একটি হলো তার ইফতারের সময়, আর অপরটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় (বুখারী ও মুসলিম)। হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্নিত রাসুল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পরকালে প্রতিদান পাওয়ার আশায় রমজানের রোজা রাখবে তার অতীত জীবনের সকল পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ) । এ ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব । ( হাদীসে কুদসি)। এ মাসের যে কোন ইবাদতের ফযীলত অন্য যে কোন মাস অপেক্ষা অনেক বেশি। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, এই মাসে যে ব্যক্তি নফল নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবে যে রমজান ছাড়া অন্য সময় একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (মিশকাত শরীফ )।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে রোজা পালনে রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুট লুটজানার-এর লেখা ঞযব ঝবপৎবঃ ড়ভ ঝঁপপবংংভঁষ ঋধংঃরহম অর্থাৎ উপবাসের গোপন রহস্য বইটিতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ করে নিরোগ, দীর্ঘজীবী ও কর্মক্ষম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কতিপয় দিন উপবাসের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ড. লুটজানারের মতে, খাবারের উপাদান থেকে সারাবছর ধরে মানুষের শরীরে জমে থাকা কতিপয় বিষাক্ত পদার্থ (টকসিন), চর্বি ও আবর্জনা থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র সহজ ও স্বাভাবিক উপায় হচ্ছে উপবাস। উপবাসের ফলে শরীরের অভ্যন্তরে দহনের সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শরীরের ভিতর জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থসমূহ দগ্ধীভূত হয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, ‘রমযান’ শব্দটি আরবির ‘রমজ’ ধাতু থেকে উৎপত্তি। এর অর্থ দহন করা, জ্বালিয়ে দেয়া ও পুড়িয়ে ফেলা। এভাবে ধ্বংস না হলে, ঐসব বিষাক্ত পদার্থ শরীরের রক্তচাপ, একজিমা, অন্ত্র ও পেটের পীড়া ইত্যাদি বিভিন্ন রোগব্যাধির জন্ম দেয়। এছাড়াও উপবাস কিড্নী ও লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে নতুন জীবনীশক্তি ও মনে সজীবতার অনুভূতি এনে দেয়। এই তত্তে ইউরোপের ঘরে ঘরে ইদানীং রোজা করার হিড়িক পড়েছে। সবার মুখে এক কথা- শরীরটাকে ভালো রাখতে চাওতো রোজা কর।
আধুনিক যুগের চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোজার ব্যবহারিক তাৎপর্য উপলব্ধি করেই জার্মান, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশে ব্যবস্থাপত্রে প্রতিবিধান হিসেবে এর উল্লেখ করা হচ্ছে। ডা. জুয়েলস এমডি বলেছেন, ‘‘যখনই একবেলা খাওয়া বন্ধ থাকে, তখনই দেহ সেই মুহূর্তটিকে রোগমুক্তির সাধনায় নিয়োজিত করে।’’ ডক্টর ডিউই বলেছেন, ‘‘রোগজীর্ণ এবং রোগক্লিষ্ট মানুষটির পাকস্থলী হতে খাদ্যদ্রব্য সরিয়ে ফেল, দেখবে রুগ্ন মানুষটি উপবাস থাকছে না, সত্যিকাররূপে উপবাস থাকছে রোগটি।’’ তাই একাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার রোগীদের তিন সপ্তাহের জন্য উপবাস পালনের বিধান দিতেন। ডা. আলেক্স হেইগ বলেছেন, ‘‘রোজা হতে মানুষের মানসিক শক্তি এবং বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়। স্মরণশক্তি বাড়ে, মনোসংযোগ ও যুক্তিশক্তি পরিবর্ধিত হয়। প্রীতি, ভালোবাসা, সহানুভূতি, অতীন্দ্রিয় এবং আধ্যাত্মিক শক্তির উন্মেষ ঘটে। ঘ্রাণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি প্রভৃতি বেড়ে যায়। এটা খাদ্যে অরুচি ও অনিচ্ছা দূর করে। রোজা শরীরের রক্তের প্রধান পরিশোধক। রক্তের পরিশোধন এবং বিশুদ্ধি সাধন দ্বারা দেহ প্রকৃতপক্ষে জীবনীশক্তি লাভ করে। যারা রুগ্ন তাদেরকেও আমি রোজা পালন করতে বলি ’’। রোজা থেকে শারীরিক ফায়দা লাভের জন্যে রোজাদারদের প্রতি ডাঃ আমীর আই, আহমদ আনকাহর কতিপয় মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো নীচে দেয়া হলো ঃ ১. যদি আপনি বিত্তবান হোন তবে অধিক ভোজন ও চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করে চলুন। রোজা রেখে সুস্থ থাকুন- এ প্রতীক গ্রহণ করুন। ২. সহায় সম্বলহীন আপন ভাইকে সাহায্য করুন। ৩. রমযান মাস সম্পদশালীদের জন্যে নিবেশ আর গরীবদের জন্য ভালো খাবার মাস মনে করুন। ৪. দিনের বেলা ক্ষুৎপিপাসার তাড়না থেকে মুক্তি পেতে হলে রাতে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করুন। ৫. খাদ্য ভালোভাবে চিবিয়ে খান। ৬. খাবার ব্যবস্থা করতে না পারলে শুধুমাত্র দুধের উপর নির্ভর করতে পারেন। ৭. যথাসম্ভব ইফতার তাড়াতাড়ি আর সেহেরী দেরীতে খাওয়া ভালো। ৮. সেহরী খেয়ে সটান না হয়ে বিনিদ্র রজনী যাপন করুন। তাতে খাদ্য ঠিকমত হজম হয়। ৯. ইফতারের পর চটপটি জাতীয় এবং ঠান্ডা জিনিস অধিক পরিমাণে গ্রহণ করবেন না। ১০.সারাদিন কাজে লিপ্ত থাকুন। ক্ষুৎপিপাসা ভুলতে চেষ্টা করবেন না। ১১. রমযান মাসে নেক কাজ ও ত্যাগ তিতিক্ষার যে অভ্যাস আপনার মাঝে সৃষ্টি হয়েছে, তা সবসময় চালু রাখুন। ১২. জীবনের চড়াই উৎরাই সবসময় রোজার দাবিকে সমুন্নত রাখুন। ১৩. কু-চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত থাকুন। কুচিন্তা বিষসদৃশ যা স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে দেয়। কুচিন্তা ও কুধারণার উপশম না ওষুধে হয় না খাদ্যে। ১৪. মুসলমান নিজেদের জীবনে স্বল্পতুষ্টি, তাওয়াক্কুল শান্তি ও মনের সন্তুষ্টির মত বেশিষ্ট্যসমূহ বাস্তবায়িত করার মধ্য দিয়ে রমযানের বরকতের পর্যবেক্ষণ করবে। এর মধ্যেই সাহসের বিস্তৃতি ও মনের শান্তি এবং এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানুষের আরোগ্য লাভের গুপ্ত রহস্য। ১৫. রমযানের সিয়াম সাধনায় মুসলমান হবে স্বাস্থ্যবান এবং পুণ্য ও পবিত্র আত্মার অধিকারী। উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের মানুষ ইফতার ও সাহরীতে সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ না করে মুখরোচক মশলাদার খাবার গ্রহণ করে। এতে পাকস্থলীর এসিডিটি, আলসার, বদহজম আরো বেড়ে যায়। তিরমিজি শরীফে এসেছে রাসূল (সা.) মাগরিবের নামাজের পূর্বে কয়েকটি তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। খেজুর না থাকলে কয়েক কোশ পানিই পান করতেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেন না এতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না পায় তবে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কারণ পানি হলো পবিত্রকারী।’ উপমহাদেশে ইফতারের রকমারি আয়োজন থাকলেও তাদের সারাবিশ্বের মুসলমানদের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা উচিৎ। সাধারণত পানি, খেজুর, মুড়ি, ফলের রস, চিড়ার পানি, (বা এ দ্বারা তৈরি খাবার), দুধ ইত্যাদি দিয়ে ইফতারের আয়োজন করা যেতে পারে। রমযানে দুই খাবার গ্রহণের মধ্যবর্তী সময় কম থাকায় পাকস্থলী গুরুপাক খাবার দিয়ে বোঝাই না করাই উত্তম। আসল বিষয় হলো রমযানের উদ্দেশ্য পূরণে রকমারি খাবার আয়োজন রোজার সুফলকে ম্লান করে দেয়।
এই রোজার এতো ফজিলতের কারন হল এই মাসে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাযিল হয়েছে , আর আল কোরআনের মুল আলোচ্য বিষয় হল মানুষ । মানুষ কে মুত্তাকী তথা পরহেজগার করে জান্নাত উপযোগী মানুষ তৈরীর আল্লাহপদত্ত গাইড বুক হল আল কোরআন। এ সম্পর্কে আল কোরআনে বলা হয়েছে “রমজান মাস এমন মাস যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে; মানবজাতির জন্য হিদায়েতের উৎস, হিদায়াত ও সত্য মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি এই মাস পাবে সে যেন রোজা পালন করে।” [ সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫] । রমজান মাসের শেষের দশ দিনের যে কোন বিজোড় রাত্রিতেই নাযিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন। যে রাত্রি সম্পর্কে আল্লাহ কোরআনে ঘোষণা করেছেন, “ নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কি জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫) ” । এই মহিমান্বিত মাস আমাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছে, আল্লাহ্র এই বিশেষ উপহারকে বরণ করার জন্য প্রত্যেক মুমিন কে প্রস্তুতি গ্রহন করার দরকার । রমাদানের জন্য টার্গেট সেট করা, পরিকল্পনা করা। আমরা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে পরিকল্পনা করি। তাই এর জন্য আমাদের পরিকল্পনা করা দরকার। যেমন ঃ এখন থেকেই বেশি বেশি নফল রোজা রাখা , আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-কে শাবান মাসের মতো এত অধিক (নফল) রোজা আর অন্য কোনো মাসে রাখতে দেখিনি। এ মাসের সামান্য কয়েক দিন ছাড়া সারা মাসই তিনি রোজা রাখতেন। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৩৭)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রমজানের পর কোন মাসের রোজা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ? উত্তরে তিনি বলেন, শাবানের রোজা রমজানের সম্মানার্থে। (তিরমিজি, হাদিস : ৬৬৩)। যাদের কোরআন সহীহ, শুদ্ধ নেই তাদের উচিত যতদ্রুত সম্ভব কোরআন শুদ্ধ করে নেয়া। রমাদান মাস কোরআনের মাস। তাই রমাদান মাসে যেন বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা যায় তাই এখন থেকে তিলাওয়াত সহীহ করে নেয়া উচিত। আর যারা সহি ভাবে কোরআন পড়তে জানেন তারা রমজানের মধ্যেই অর্থসহ কোরআন খতম করার পরিকল্পনা নিতে পারেন। রমজানের ইফতার করানোর জন্য, গরীব দুস্থ মানুষকে বেশি বেশি সাদাকা করার জন্য এখন থেকে কিছু টাকা জমানো শুরু করা।“নবীজী (সক্স) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। তিনি সবচেয়ে বেশি দান করতেন রমজান মাসে।” (সহীহ বুখারী: ৫)। রমাদান উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রুপ/প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে রোজাদারদের ইফতার করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। যথাসাধ্য আমাদের সকলের অংশগ্রহণ করা উচিত। রমাদানের জন্য যেকোনো দান কমপক্ষে ৭০ গুণ বৃদ্ধি পায়। দুনিয়াবি ব্যস্ততা সেরে ফেলা। রমাদান মাস আমলের মাস। সে মাসে যেন বেশি বেশি আমল করা যায় সেজন্য এখন থেকে কাজ গুছিয়ে ফেলা দরকার। যথাসম্ভব রমাদানের সময় দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে রাখার জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নেয়া দরকার। রমজানের বিজোড় রাত্রিগুলোতে বিশেষ করে শেষ দশ দিনের বিজোড় রাত্রিতে শবে কদর তালাশের নিমিত্তের বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগির মধ্যে দিয়ে আল্লাহ্র রেজামন্দি হাসিলের প্রচেষ্টা চালানো দরকার। “যে ঈমান ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজানের রাতে সালাত আদায় করে তার অতীতের পাপসমূহ মা করে দেয়া হয়। (সহীহ বুখারী: ৩৬)।“আমাদের রব আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, কে আছ! যে আমার নিকট দোয়া করবে আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছ!যে আমার নিকট চাইবে আমি তাকে দান করব। কে আছ! যে আমার কাছে মা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।” (সহীহ বুখারী: ১০৭৭)। রমজান প্রাপ্তবয়স্ক সকল মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। তবে রমজান মাসে যাঁরা পীড়িত, অতিবৃদ্ধ, যাদের দৈহিক দুর্বলতার কারণে সিয়াম পালন করা খুবই কষ্টদায়ক হয়ে যায়, যারা সফরে থাকার কারণে মাহে রমজানে সিয়াম পালন করতে পারেন না, তাদের জন্য রোজার কাজা, কাফফারা, ফিদইয়া ইত্যাদি বদলা ব্যবস্থা স্থির করে শরিয়তে সুনির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা রয়েছে। ।এ সম্পর্কে আল কোরআনে বলা হয়েছে “সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয়, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্রা একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে এটা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন তথা রোযারাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ যদি তোমরা জানতে।” (সুরা বাক্বারা ১৮৩-১৮৪)। এই মাস মূলত পাপাচার থেকে মুসলমানদের দূরে রাখার মাস। এ মাস জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার অর্জনের মাস। মাহে রমজানে নেক আমলের ফজিলত যেমন বেশি, তেমনি এ মাসে গুনাহ করলে এর শাস্তি বেশি। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে কঠিন শাস্তির হুকুম এসেছে, ‘যে ব্যক্তি শরীয়তী উযর ছাড়া এ মাসে (রমজান) একটি রোজা ছেড়ে দেবে, সে যদি এর বদলে সারা জীবনও সিয়াম পালন করে তবু তার পাপের খেসারত হবে না।’ (বুখারী) । আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, একটি সম্প্রদায় উল্টোভাবে ঝুলছে। তাদের গলাটি ফাড়া এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? বলা হল, এরা ঐসব ব্যক্তি যারা বিনা উযরে রমজান মাসের সিয়াম ভঙ্গ করেছিল।’ (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ) বিনা কারণে যে ব্যক্তি মাহে রমজানের মাত্র একটি রোজা না রাখে এবং পরে যদি ওই রোজার পরিবর্তে সারা বছরও রোজা রাখে, তবু সে ততটুকু সওয়াব পাবে না, যতটুকু মাহে রমজানে ওই একটি রোজার কারণে পেত। এ সম্পর্কে ফিকাহবিদদের মতে, দুই মাস একাধারে রোজা রাখলে স্বেচ্ছায় ভাঙা একটি রোজার কাফফারা আদায় হয় আর এই কাফফারার বিনিময়ে একটি রোজার ফরজের দায়িত্বটা কেবল আদায় হয়। আর যারা নানা অজুহাতে ও স্বেচ্ছায় পুরো মাহে রমজানে রোজা রাখে না, তাদের শাস্তি কত যে ভয়াবহ হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এ বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রোজাদারকে স্মরণ রাখতে হবে শুধুমাত্র সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয় সুখ থেকে বিরত থাকার নামই রোজা নয়। বরং আল্লাহ্র ও তার রাসূল ( সঃ) যে কাজগুলো পরিত্যাগ করতে বলেছেন তা পরিপূর্নভাবে মেনে চলার নামই রোজা। “যে মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭০)। “কত সাওম পালনকারী রয়েছে যারা অনাহার ছাড়া আর কিছু পায় না।” (মুসনাদ আহমাদ: ৯৩০৮)। “সাওম ঢাল স্বরূপ।তোমাদের কেউ যেন সাওম পালনের দিনে অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল না করে। যদি তাকে কেউ গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে তখন সে যেন বলে ‘আমি রোযাদার’।” (সহীহ বুখারী: ১৭৭১)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের রোজার ফজিলত,তার অপার করুনা ও রহমত সম্পর্কে উপলব্ধি করার এবং সঠিক ভাবে রোজা পালনের মাধ্যমে রাইয়্যান নামক দরজা দিয়ে বেহেস্তে প্রবেশের তৌফিক দিন ( আমিন)।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

 বৃহত্তর স্টেশন রোড ব্যবসায়ী সমিতির মানববন্ধন

          সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :   সিলেট...

মতিউর মতি জেলা আওয়ামীলীগের উপ- প্রচার সম্পাদক

19        19Sharesসিলেট এক্সপ্রেস দক্ষিণ সুরমার কৃতি...