প্রবাসী ও পর্যটকদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় সিলেটের স্বাস্থ্য প্রশাসন

প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট, ২০১৯     আপডেট : ১০ মাস আগে  
  

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ভাবছে সিলেটের স্বাস্থ্য প্রশাসন। দুশ্চিন্তা রয়েছে দেশে ফেরা প্রবাসী ও পর্যটকদের নিয়ে। নগরীর একাধিক স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার পর প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে ৪৫ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন রোগীও আসছেন প্রতিদিন। অন্যদিকে, স্বজনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে প্রায় অর্ধলক্ষ প্রবাসী এখন সিলেটে। তারাও রয়েছেন ডেঙ্গু ঝুকিতে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, পর্যটকদের অনেকেই ডেঙ্গু নিয়ে আসতে পারেন। আবার প্রবাসীদের কেউ কেউ সিলেটে আসার পর আক্রান্ত হতে পারেন। একই ভাবে ঢাকা থেকে ছুটিতে আসা লোকজনের মধ্যেও ডেঙ্গু আক্রান্ত থাকতে পারেন। এজন্য ঈদের ছুটিতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সবকটি হাসপাতাল প্রস্তুত থাকবে। সিলেটেও এডিস মশা রয়েছে এটা পরিস্কার হয়েগেছে। ডেঙ্গুর ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার পর থেকে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেট নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ঝালোপাড়া ও তদসংলগ্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সাথে চৌহাট্টায় শহীদ সামছুদ্দিন হাসপাতালের পাশে একটি নার্সারি থেকে সংগৃহিত নমুনায়ও এ মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ থেকে বলা যায় সিলেটে এডিস মশা রয়েছে। তবে এর সংখ্যা কম। দ্রুত নিধন কাজ চলায় তা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ডা.হিমাংশু লাল রায় বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে ঈদের ছুটিতে সিলেটে আসা লোকজনদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যে দুটি এলাকায় লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে সেসব এলাকা ছাড়াও পুরো নগরে মশক নিধনে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কিটও মজুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্রমতে সিলেটে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৮ জন ডেঙ্গু রোগী। বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে ৪৫ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া বুধবার দূপুরের আগে জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।
সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে সিলেট জেলা ২২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ওসমানী হাসপাতালে ১৪৫ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ৭৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।’
অন্যদিকে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হতে জনসাধারণকে পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন ডাঃ হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, এডিস মশার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এজন্য আতঙ্কিত না হয়ে বাসা-বাড়ি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে হবে। এর ফলে এ রোগ প্রতিরোধ হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, মেয়র আর প্রশাসনের কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন বলে বসে থাকলে হবে না। নিজ নিজ জায়গা থেকে সকলকে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি আসবেন তাদের সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন