প্রবাসী আহমদ আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন আবারক আলী

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে

মিথ্যা ও বিভ্রান্তমূলক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিঙ্গেরকাছ গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আহমদ আলীকে হেয়-প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন একই গ্রামের বাসিন্দা ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবারক আলী। তিনি এজন্য ব্যাপক মিথ্যাচারেরও আশ্রয় নিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশে আইনি জটিলতা মোকাবেলায় তাকে আমমোক্তার নিয়োগ করেছেন তার ফুফাত ভাই আহমদ আলী। গত ১৩ জুন আবারক আলী সংবাদ সম্মেলন করে যেসব দাবি তুলেছিলেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা ও বিভ্রান্তমূলক তথ্য পরিবেশন করে একজন সম্মানিত, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী মানুষকে হেয়-প্রতিপন্ন করেছেন। আহমদ আলীর দায়ের করা ১ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৫শ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বিশ্বনাথ থানার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হলেও আবারক আলী তা মিথ্যা মামলা বলে উল্লেখ করেছিলেন। ওই মামলায় তার দুই পুত্রও আসামি। এরমধ্যে একজন জামিনে থাকলেও অন্যজন পলাতক রয়েছেন।’ এছাড়া সিঙ্গেরকাছ বাজারে থাকা দুতলা মার্কেট এবং দুটি দোকানকোঠা নাকি বিক্রি করার কথা বলে আবারক আলীর কাছ থেকে নানাভাবে ১ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮১ টাকা গ্রহণ করেছেন আহমদ আলী। এই তথ্যটি মিথ্যা ও বানোয়াট।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়েছে, কেবলমাত্র দোকান কোটা বাবদ ৯০ লাখ টাকাই নয়, তিনি বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৫শ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক মারফতে দিয়েছিলেন। ওই টাকার ব্যাংকে জমা রশিদও তার কাছে রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে যে, অতিচালাক, চতুর ও প্রভাশালী আবারক আলী প্রবাসী আহমদ আলীর ক্রয়কৃত ৬টি দোকান বুঝিয়ে না দিতেই নানা টালবাহানা করছেন এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে আহমদ আলীর মান ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ জাহির আলী আরও বলেন, ‘আহমদ আলী সবসময় শান্তিপ্রিয় মানুষ। তিনি নিকটআত্মীয় আবারক আলী ও তার পুত্রদের সাথে সৃষ্ট মনোমালিন্য দূর করতে সবসময় আন্তরিক ছিলেন। যখন সালিশ ডাকা হয়, তখন তিনি সালিশে একমত হয়ে ২০ লাখ টাকার চেকও সালিশি ব্যক্তিদের কাছে জমা দিয়েছিলেন। এমনকি বিষয়টি সমাধানে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে অবহিত করেছিলেন। তিনি কোনপ্রকার ঝামেলায় না জড়িয়ে ঘটনার প্রতিকার ও হয়রানী থেকে পরিত্রাণ চেয়েছিলেন। শফিকুর রহমান চৌধুরীও আন্তরিকভাবে বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিদের দিয়ে ব্যাংকে তল্লাশি করিয়েছিলেন। কিস্তি বাবদ আবারক আলী ব্র্যাক ব্যাংকে আসলেই অতিরিক্ত টাকা প্রদান করেছিলেন কি না, নাকি ব্যাংক আবারক আলীর কাছে টাকা পাওনা ছিলো, এর সত্যতা যাচাই করিয়েছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। তখন জানা যায় যে, আহমদ আলী উল্টো আবারক আলীর ব্যাংকের বকেয়া ৬টি কিস্তি পরিশোধ করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আহমদ আলীর সিলেট শহর ও বিশ্বনাথে একক মালিকানা কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আবারক আলীর কাছে যৌথ মালিকানাধীন মার্কেট বিক্রি করে টাকা গ্রহণের কোন যৌক্তিকতা নেই। ওই মার্কেট তার মৌরসি সম্পত্তি, এতে তারা ৬ ভাই ও ২ বোনের অধিকার রয়েছে। সেই মার্কেট এককভাবে বিক্রি করার কোন সুযোগ আহমদ আলীর নেই।’ আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য তথ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আবারক আলী আহমদ আলীকে হয়রানী ও মানহানির অপচেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন।

আরও পড়ুন