পেশাগত কাজে বাধা ও হুমকি বাংলাদেশে মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত করছে

প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর্টিকেল নাইনটিন এর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদেন অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৮ সালে সাংবাদিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও লেখক সহ মত প্রকাশের চর্চাকারিদের হত্যা, হুমকি ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আর্টিকেল নাইনটিনের পর্যবেক্ষণে উঠে আসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- উপাত্ত নিম্নরূপ :
 ২০১৮ সালে আর্টিকেল নাইনটিন মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত মোট ৪৬৩ টি ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করেছে ; যা গত পাচঁ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ;
 অধিকার লঙ্ঘনের শতকরা ৫১ ভাগ ঘটনাই ঘটেছে জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায়
 নারী কর্মীদের যৌননিপীড়ন-হয়রানির ঘটনার বেশীর ভাগই তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট;
 ২০১৮ সালে মতপ্রকাশ জনিত মোট ১৩১টি ঘটনায় আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে।
 শুধু মতপ্রকাশ জনিত কারনে মোট ৩১টি ফৌজদারী মানহানি মামলা দায়েরের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
 ৭১টি মামলা করা হয়েছে আইসিটি এ্যাক্টের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের আওতায় ;
 ৯টি বেআইনী আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাসহ ২০টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমুলক মামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
 ২০১৮ সালে মোট ২ জন সাংবাদিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন ;
 ১৯ জনমতপ্রকাশকর্মী মারাত্মক শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন এবং ;
 ১৫৬ জনমতপ্রকশের চর্চাকারী বিভিন্ন ভাবে শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন ;

আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ।
তিনি বলেন,“বাংলাদেশে মতপ্রকাশ চর্চাকারিদের অবস্থা খুবই নাজুক, এক্ষেত্রে বাধা ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন আমাদের বুদ্ধি-ভিত্তিক চর্চার ক্ষেত্রকে অবদমিত করেছে. কেননা, এসব অনভিপ্রেত ঘটনা মানবাধিকারকর্মী, যোগাযোগকর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পী- সাহিত্যিকদের কন্ঠরোধে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে । ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যমদিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিমত প্রকাশেরচর্চা সংক্রান্ত এসব অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন ফারুখ ফয়সল। ”

গত পাচঁ বছরের পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের নির্যাতন-হয়রানির প্রবণতা ও ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০১৮ সালেমত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে হুমকি ও নানা ধরণের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দমনের চিত্রই বেশী লক্ষণীয়। উদাহরণ হিসেবে বলাযায় , গত বছর মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ৩১ টি ফৌজদারি মানহানির মামলা, আইসিটি এ্যাক্টের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট সংক্রান্ত মোট ৭১ টি মামলাসহ আরও ৯ টি অবৈধ আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ এবং ২০টি অন্যান্য আইনি হয়রানি মুলক মামলার ঘটনা রয়েছে। বাংলাদেশ সাংবাদিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতিসংঘের রেজ্যুলেশনে অনুস্বাক্ষর কারী (২০১৭) দেশ হওয়াসত্ত্বেও রাষ্ট্র মতপ্রকাশ সংক্রান্ত এসব অপরাধ ও ঘটনা সংশ্লিষ্টদের তদন্ত, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে কম আগ্রহী। ২০১৮ সালে ২ জন সাংবাদিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন, ১৯ জন গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার এবং ১৫৬ জন নানান ধরণের শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন। আক্রান্তদের শতকরা ৫১ ভাগ ঢাকা কেন্দ্রিক । নারী সাংবাদিকরা যৌনহয়রানী ও পেশাগত কাজে বাধা গ্রস্ত হয়েছেন। পরিবীক্ষণকৃত তথ্য-উপাত্তেরভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে যে, সাংবাদিকরা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেত-কর্মী, আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছেন ।পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বাধা/আক্রমন তো ছিলই।

এক নজরে ২০১৮ সালের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত :

 ২০১৮ সালে মতপ্রকাশ সংক্রান্ত মোট ৪৬৩ টি ঘটনা ঘটেছে; যা গত পাচঁ বছরের তুলনায় সর্বাধিক।
 ২১২ টি ঘটনা হুমকি সংক্রান্ত ; যা এযাবৎ সর্বোচ্চ। আইনি হয়রানি সংক্রান্ত ঘটনা ২০১৭ সালে ছিল সর্বোচ্চ যা ১৬৯টি।
 শারীরিক আঘাতজনিত ঘটনা ২০১৭ সালেছিল ১১৩ টি; যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে হয়েছে মোট ১৫৬ টি ;
 প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে আইনের অপব্যবহার জনিত ঘটনা রয়েছে ৬০টি; এরমধ্যে ফৌজদারি মানহানি মামলা ৩১ টি, আইনবর্হিভূত গ্রেফতার ও তদন্ত ৯ টি এবং অন্যান্য আইনি হয়রানি সংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে ২০ টি ।
 ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২ জন সাংবাদিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন , ১৯ জন মারাত্নক শারীরিক আঘাতের শিকার, ১৫৬ জন বিভিন্ন রকমের শারীরিক আঘাত এবং ২২ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন।
 আইসিটি ও ডিজিটাল এ্যাক্টের মাধ্যমে অনলাইন মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও সাময়িক বন্ধ বা ব্লক করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে ২০১৮ সালে। এ ধরণের মোট ৮ টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। উদাহরণ হিসেবে‘ দ্য ডেইলিষ্টার’, ’এশিয়ান এজ’ এবং ‘বিডিনিউজ ২৪’ উল্লেখযোগ্য ।
 মতপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবিদের সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদে বাধাসংক্রান্ত ২৯ টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সব ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কোটাসংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, পরিবহণ ধর্মঘট, পোষাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর আন্দোলনসহ অন্যান্য আন্দোলন।
 ২০১৮ সালে অনলাইন এবং অফলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও প্রচার-প্রচারণার মোট ৩৭ টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ঘটনার বেশীর ভাগই ছিল বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় সংশ্লিষ্ট।
 মতপ্রকাশ সংক্রান্ত ২০১৮ সালের প্রতিবেদনের মোট ঘটনার শতকরা ৮১ ভাগ অরাষ্ট্রীয় (ঘড়হব-ংঃধঃব) এবং শতকরা ১৯ ভাগ ঘটনার জন্য রাষ্ট্রীয় (ংঃধঃব) কর্তৃক্ষের সংশ্লিষ্টতা লক্ষ্য করা গেছে ।

প্রয়োজনে যোগাযোগ :
ফারুখ ফয়সল
আঞ্চলিক পরিচালক
আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণএশিয়া
মোবাইল : ০১৭৩০ ৭১০২৬৭ (হোয়াটস্আপ)
ইমেইল


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের শোক

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট পৌরসভার...

খেলাধুলা পারস্পরিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে- কাউন্সিলর কয়েস লোদী

         নগরীর আম্বরখানা মুণিপুরি পাড়ার শ্রী...

আব্দুস সামাদ আজাদ সারাজীবন বাঙালী জাতির মুক্তির কাজ করেছেন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের...