পুরুষশূন্য বিশ্বনাথের মনোকুপা গ্রাম

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

এমদাদুর রহমান মিলাদ, বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে : বিশ্বনাথে স্বামীর পরিবার কর্তৃক গৃহবধূ ও তার সন্তানকে ঘরে তালাবদ্ধ করে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার দুপুরে উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের মনোকুপা গ্রামের চমক আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এসময় গৃহবধূ ও তার সন্তানকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের উপর হামলা, পুলিশের কাজে বাঁধা, ও পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এসল্ট মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এসল্ট মামলার আসামী গ্রেফতার করতে পুলিশ মনোকুপা গ্রামে অভিযান চালায়। গ্রেফতার এড়াতে গ্রামের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে মনোকুপা গ্রাম। এতে গ্রামে অবস্থানরত নারীরা রয়েছেন আতঙ্কে। অন্যদিকে, ‘মিথ্যা’ অভিযোগ এনে পুলিশের দায়েরকৃত এসল্ট মামলায় এলাকার নিরীহ লোকজনকে আসামী করে হয়রানী করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মনোকুপা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ঘরে তল্লাসী করে এবং পুরুষশূন্য ঘরের নারীদের উপর লাঠিচার্জ ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন নারী।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই বছর পূর্বে উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের মনোকুপা গ্রামের চমক আলীর ছেলে ওমান প্রবাসী আলী হোসেনের সঙ্গে একই উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের শাখারিকোনা গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে ফারহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ মাস পর আলী হোসেন প্রবাসে চলে গেলে তার স্ত্রী ফারহানা বেগম পিত্রালয়ে চলে যান। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। গত মাস খানেক পূর্বে প্রবাস থেকে ফের দেশে আসেন আলী হোসেন। তিনি দেশে আসার পর তার স্ত্রীকে পিত্রালয় থেকে বাড়িতে নিয়ে আসলেও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এ অবস্থায় গত রোববার সকালে আলী হোসেন তার আত্মীয়দের সাথে বেড়াতে (পিকনিক) যেতে চান। এনিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সকাল ৮টায় স্ত্রীকে ঘরে রেখে আলী হোসেন পিকনিকে চলে যান। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার বিষয়টি ফারহানা বেগম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পিত্রালয়ের লোকজনকে জানান। এরপর সকাল ১১টায় লামাকাজী ইউপির স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিশ্বনাথ থানার এসআই সুলতান উদ্দিনকে সাথে নিয়ে আলী হোসেনের বাড়িতে যান ফারহানা বেগমের ভাই জয়নাল উদ্দিন। এ সময় আলী হোসেনের পরিবারের সদস্যসের সঙ্গে ইউপি সদস্য চমক আলীর বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার এসআই সুলতান উদ্দিন বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তিনিও লাঞ্ছিত হন বলে জানা গেছে।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ‘মিথ্যা’ বলে তিনি দাবি করেন।

পরবর্তী খবর পড়ুন : সচেতন উৎপাত

আরও পড়ুন

সিলেটে কেক কেটে রাধাষ্টমী পালন

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ইসকন সিলেটে...

কানাইঘাটে ৮ দিন পর কবর থেকে মামুনের লাশ উত্তোলন

খাসিয়াদের গুলিতে নিহত লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব...