পুত্র হত্যা মামলায় মা ও প্রেমিকের মৃত্যুদন্ড

প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সুনামগঞ্জে শিশু পুত্র সোয়াইবুর রহমান (১১) হত্যা মামলায় মা সিতারা বেগম (৩৭) ও তার প্রেমিক বারিক মিয়া (৩৫) কে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত প্রেমিক বারিক মিয়া জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর পুত্র ও ঘাতক মা সিতারা বেগম একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
আদালত সূত্র জানায়, উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ১৫ থেকে ১৬ বছর যাবত সৌদি আরব অবস্থান করছেন। এ সুযোগে তার স্ত্রী সিতারা বেগম একই গ্রামের আলকাছ আলীর পুত্র বারিক মিয়ার সঙ্গে েপ্রমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর সিতারা বেগমকে প্রেমিক বারিকের সঙ্গে অনৈতিক অবস্থায় দেখে ফেলে সিতারা বেগমের শিশু পুত্র সোয়াইবুর রহমান। এসময় শিশুটি এ ঘটনা তার বাবার কাছে বলে দেবে এমন কথায় তার মা ও মায়ের প্রেমিক একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের কিশোর পুত্র সাবুল মিয়াকে দিয়ে একইদিন সন্ধ্যায় শিশু সোয়াইবুরকে ফুসলিয়ে গ্রামের হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে নিয়ে যায়। পরে শিশু সোয়াইবুরের ঘাতক মা ও তার প্রেমিক বারিক মিলে শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। পরে স্বজনরা শিশুটিকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুজি করে মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে দেখতে পান। তারা পুলিশকে এ খবর দিলে পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ১৫ অক্টোবর শিশু সোয়াইবুরের চাচাতো ভাই হামজা মিয়া বাদী হয়ে ঘাতক মা সিতারা বেগম, প্রেমিক বারিক ও কিশোর সাবুলকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধ আদালতে চার্জসীট দাখিল করে।
দীর্ঘ শুনানী শেষে গতকাল মঙ্গলবার আদালত ঘাতক মা সিতারা বেগম ও তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে মৃত্যুদ-াদেশ দেন এবং এ সঙ্গে আসামি বারিককে কারাগারে এবং ঘাতক সিতারা বেগম পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। অপর আসামি সাবুল কিশোর হওয়ায় তার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট সোহেল আহমদ ছইল মিয়া ও এডভোকেট সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম এবং আসমি বারিকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট বোরহান উদ্দিন ও সিতারা বেগমের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মো. আব্দুল অদুদ।

আরও পড়ুন

মাদক নির্মূলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র...

সুনামগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড...

‘ন্যাশনাল ডিবেট চ্যাম্পিয়নশীপ’ উদ্ভোধন

নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ডিবেটিং...