পার্থিব জীবনের কিছু অনুভূতি

প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল:
প্রতিটি মানুষ সুখী হতে চায়। প্রতিটি মানুষের চাওয়ার ভেতরেই থাকে সুখী হবার অদম্য আগ্রহ। শব্দগুলো কাছাকাছি, অল্প কিছু পার্থক্য যদিও আছে বাংলায় — সুখ, শান্তি, প্রশান্তি। কখনো ভালোলাগাও এমন শব্দ। কীভাবে তা অর্জন করা যায়?
দার্শনিক ব্লেইজ প্যাসকেলের একটি থিওরিতে পড়লাম — মানুষের মূলতঃ তিনটি সত্ত্বার মাঝে অভাবের অনুভূতি থাকে –
১) শারীরিক
২) বুদ্ধিবৃত্তিক
৩) আত্মিক
জন্মের পর থেকেই মানুষ পরনির্ভরশীল। প্রথমেই তার মা-কে প্রয়োজন হয়। মায়ের একটানা যত্নে সে বড় হয়। শারীরিক এই মা-নির্ভরতা থেকে যখন সে খানিকটা বড় হয়ে স্বনির্ভর হতে শেখে, তখন থেকে তার মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। এই প্রশ্ন হলো– বুদ্ধিবৃত্তিক অভাব। সে নিজে থেকেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করে কেন সে এইখানে এলো।
মৃত্যুচিন্তা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের প্রায় প্রতিটি মনেই মৃত্যুর কথা এলেও সে এই চিন্তাকে ভুলে থাকতে চায়, এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু তার খেয়াল থাকে না এই সত্যকে তার আলিঙ্গন করতেই হবে।
মানুষ বেশিরভাগ সময় অসুখী হয় অন্যের দিকে তাকিয়ে। তুলনা করতে গিয়ে তার মনের সুখ তিরোহিত হয়। অথচ প্রতিটা জীবন একদম আলাদা। আরেকজনের সাথে কারো কোন মিল থাকে না। সুখ প্রত্যেকের নিজের দিকেই তাকিয়ে অনুভব করা উচিত। কখনো কখনো একটা মূহুর্তের ক্ষুদ্র ভালোলাগাই জীবনে আনন্দের ঢেউ বয়ে আনে। বুদ্ধিমান মানুষ, যারা নিজেদের বুদ্ধিকে ব্যবহার করে, তারা অন্যদের সুখ দেখে নিজেকে সুখী-দুখী হিসেব করতে বসে না। তারা নিজেদের জীবনকে নিজেদের চোখেই দেখে। যারা আবেগের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তারা সুখ পায় না। যারা আবেগকে চিনে নিয়ে তাকে জয় করে, তারা আবেগ থেকে উদ্ভুত আনন্দও পায়, বিপদেও পড়ে না। আবেগ এক ধরণের ফাঁদ, সেই ফাঁদে আবেগস্বর্বস্বরা নিয়মিত ভূপাতিত হয়।

এই জীবনকে নিয়ে আমাদের কৌতুহলের শেষ নাই। জীবন একেক ব্যক্তির কাছে একেক অনুভূতি,। জিজ্ঞেস করলে কেউ বলে জীবন মানে সংগ্রাম;কারো কাছে জীবন অতি সুন্দর। কেউ হাজার বছর বাঁচতে চায়; আবার কারো কাছে একটি দিনকে হাঁজার বছর মনে হয়। আবার কেউ বলে জীবন হলো, বেঁচে থাকতে হয় বলেই বেঁচে আছি । কেউ বাঁচতে বাঁচতে মরনের দিকে এগিয়ে যায়;কেউ মরতে মরতে বেঁচে থাকে।

জীবন একেক সময় একেক রকম, কখনো স্বর্গ কখনো নরক; কখনো আবার খেলার মাঠ কখনো আবার যুদ্ধের ময়দান । মাঝে মাঝে ফুলের বাগান, মাঝে মাঝে কাঁটার বিছানা। কিছু সুখ আর কিছু ,হাঁসি । জীবন মানে দুঃখ কষ্ট দু’টাই পাশাপাশি। অনেক দিন বেচেঁ থাকতে ইচ্ছে করে আবার মনে হয় কেনই বা বেঁচে আছি!

প্রতিটা মানুষের জীবনেই কিছু কঠিন সময় আসে, খুব কঠিন। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা কিচ্ছুটি মানে না সে। মানব জীবনে দুঃসময়গুলো কিন্তু আসলেই অনেক গুরুত্ব বহন করে। কেউ বুকে কষ্টের পাথরটাকে চেপে নির্মল হাঁসতে জানে আবার কেউ সামান্য কষ্টেই নিঃস্ব হয়ে যায়। এই পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষগুলোর জীবন খুব কষ্টের ছিল। জানেন তো এই পৃথিবীর মহা মানবের কথা!, এই পৃথিবীতে আর একটি মানুষও নেই, ছিল না যে কিনা মুহাম্মাদ(সঃ) এর চেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেছে।
জীবনের আরেক নাম কষ্ট তা জেনেও ;আমার এটা নেই, আমার ওটা নেই, আমার কত অভাব, ও কত সুখে আছে- এরকমটা অনেক বলেছি আমরা,অনেক। এবার একটু চিন্তা করার পালা। চলুন, এখন থেকে বলা শুরু করি, আল্লাহ্‌ আমাদের কি কি দিয়েছেন, কি কি পেয়েছি আমরা। আর সেগুলোর জন্য অন্তর থেকে ধন্যবাদ দিই আল্লাহ্‌কে। একসময় জীবনের শেষ সমাপ্তি হবে । পৃথিবীর সবকিছু থেকে যাবে, শুধু থাকবোনা আমি, আর থাকবেনা …।
আমরা অনেকসময় ভুল করে নিজেদেরকে বেশ মূল্যবান মনে করতে থাকি। আসলে আমাদের কারো তেমন মূল্য নেই। আমরা কেউ চলে গেলে সেই অভাব পূরণ হয়েই যায়। চাকুরিস্থলে কেউ চলে গেলে তার প্রতিস্থাপন খুব দ্রুতই হয়ে যায়। পরিবারে কেউ চিরকালের জন্য চলে গেলেও সে অভাব পূরণ হয়ে যায়। কোন অভাবই অপূরণীয় নয়, আমরা কেউই খুব আহামরি কিছুই না। কত-শত ধ্যানী-জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, নেতা, বিপ্লবী, দার্শনিকেরা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন আর তাদের স্রেফ স্মরণসভায় আলাপ করা হয় কিছুকাল, একসময় কেউ মনে রাখে না। খুব জোর অল্প কয়েক দশক বা একটি শতকের বেশি কেউ দুনিয়ায় সচরাচর স্মৃতিতে থাকে না। আমরা সবাই বিস্মৃত হয়ে যাব।
দুনিয়া যে লক্ষ্য হিসেবে খুব দুর্বল এবং লজ্জাজনক তা এই ক্ষণস্থায়ী হওয়ার ব্যাপারটা থেকেই বোঝা যায়। আল্লাহর কাছে যখন ফিরে যাবো আমরা, তখন এই দুনিয়ার কাজের প্রতিফল হিসেবে পাবো উত্তম ও অনন্তকালের পুরষ্কার ও শাস্তি।ছোট ছোট কাজ তো দূরে থাক, বড় কাজ করেও দুনিয়াতে লোকের স্মৃতিতে থাকা যায় না, কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে ছোট কাজ করেও প্রিয় হয়ে অনন্ত জগতের সফলদের দলে যাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সত্যিকারের সফলতা অর্জনের তাওফিক দান করুন।

একসময় নিজেকে প্রশ্ন করলে ভয়ে, আশঙ্কায় আর লজ্জার অনুভূতি গ্রাস করত বলে চিন্তাগুলোকে এড়িয়ে যেতাম। মৃত্যুর কথা ভাবলেই জীবনের যথার্থতার প্রশ্নটা আসে। মৃত্যুচিন্তা এড়িয়ে গেলে কোন সমাধান আসে না, চিন্তার ও আত্মার দৈন্যতা বাড়তেই থাকে। সাহস নিয়ে চিন্তাগুলোর মুখোমুখি হতে হয়। জনকোলাহলে এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়া সহজ না। নিজের জন্যই কিছুটা সময় বের করে নেয়া উচিত একদম নিজের সাথে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, বন্ধুদের আড্ডা-গল্প ইত্যাদি প্রকৃতপক্ষে যন্ত্রণা যা মস্তিষ্ককে দখল করে রাখে অনবরত। এসবের হাত থেকে সাময়িকভাবে হলেও নিজেকে মুক্ত করে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা যেতে পারে–

– কেন আমার এই জীবন?
– কেন এসেছি পৃথিবীতে?
– আমি ঠিক কি চাই এ জীবন থেকে?
– আমি যা করছি তা কেন করছি?
– আমি যা করছি, তা কি সত্যিই আমি চাই?
– আমি যা চাই, তা পেলে কি আমি সফল হবো?
– আমার সফলতার মানদন্ড কে ঠিক করে দিচ্ছে?
– জীবনের শেষ দিন কী পেলে নিজেকে সফল মনে করবো?

এরকম কিছু প্রশ্নের উত্তর বোধকরি নিজের কাছ থেকে নেয়া প্রয়োজন। কীভাবে, কী উত্তর চাই, তা জানিনা। সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে হলে ভাবতে হবে, একটু নিজের জন্য একান্ত সময় প্রয়োজন হবে। তাতেই নিজেদের জন্য একটা বড় কাজ হবে, যা গুরুত্বপূর্ণ।

সময়ই আমাদের জীবনের পুঁজি। এখান থেকেই ক্ষয় যায় এক একটি দিন, আমাদের মৃত্যুর দিন ঘনিয়ে আসে। জানিনা, পৃথিবীতে ক’দিন বেঁচে থাকবো আমরা। এসেছি শিশু হয়ে, যাবার বেলায় কোন নিয়ম নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেদিন ডেকে নিবেন, নির্দেশ দিবেন মালাকুল মাওতকে (মৃত্যুর ফেরেশতা) এই রূহ নিয়ে চলে যেতে, সেদিনই এই পৃথিবীর জীবনের সমাপন। সময় পাবো না একটুও বেশি। মায়ের কাছে ফিরে এসে যাবার আগে মাথায় হাত বুলিয়ে নিতে পারবো না। পারবো না বাবার কাছে এসে হাতটা ছুঁয়ে দু’আ চেয়ে নিতে। যাবার বেলায় অনেক প্রস্তুতি থাকে সবসময়, সেই বিদায়ের প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখতে হয়, এই বিদায় সাময়িক না, এই বিদায় এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী থেকে চিরবিদায়। অনন্ত জগতের পথে যাত্রার জন্য বিদায়…

বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এক ধরণের বিষণ্ণ একাকীত্ব আমার সঙ্গ ছাড়েনি। ক’দিন আগে রাতে ইলেকট্রিসিটি চলে যাবার পরে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিজের সেই পুরোনো একাকীত্ব স্মরণ হতেই খেয়াল করে দেখলাম কোথাও আলো নেই চোখের সীমানায়। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারিদিকে। আমার কবরের কথা মনে হলো। পরকালের জীবন নিয়ে শিখছিলাম যখন, এভাবেই অনুভব হচ্ছিলো একদিন। কবরে মাটি চেপে থাকবে শরীরের উপর, পোকামাকড়, সাপখোপ… আর প্রবল একাকীত্ব। সঙ্গিসাথী কেবলই নিজের করে যাওয়া কাজগুলো। ভালো কাজ বন্ধু হয়ে, খারাপ কাজ বিভীষিকা হয়ে সঙ্গ দেবে। এড়িয়ে যাবার উপায় নেই এই সুনিশ্চিত ঘটনা থেকে…

সবাই আমরা ‘লোনলি’ ফিল করি, কাজ না পেলেই ‘বোরড’ হয়ে যাই। ভবিষ্যতের জীবন নিয়ে আমরা কত কিছুই তো ভাবি, অ্যাপার্টমেন্ট-জমি-গাড়ি-ব্যাঙ্ক একাউন্ট। আসলেই অনুভব করিনি সেই প্রকৃত একাকীত্বের কথা। অনন্ত জগতে পাড়ি দেবার শুরুতেই যে জীবনের মুখোমুখি হবো আমরা সবাই; হতেই হবে…

দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিকভাবেই ভালো চাকুরি, অনেক মুনাফার ব্যবসা, একটা থাকার ‘নিজস্ব জমিতে বাড়ি’ অথবা অ্যাপার্টমেন্ট, খ্যাতি, ক্ষমতার মোহে ঘোরগ্রস্ত আমরা। এই সমাজে অজস্র মানুষ এমন। ফিরাউন ছিলো, কারূন, হামান, নমরুদ, আদ, সামুদের সৈন্যবাহিনী, আবু জাহল, আবু লাহাব, ওয়ালিদ বিন মুগীরা, উতবা শাইবা আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে রয়। ক্ষমতা-যশ-প্রতিপত্তি-সম্পদ কী ছিলো না তাদের? সেই পথের শেষটাই আল্লাহর নাফরমানিতে, যা টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যায় জাহান্নামের পথে। অনন্তকালের অপমান আর লাঞ্ছনার সেই পথ…

অন্যদিকে অভাবের প্রবলতায় আক্রান্ত ছিলেন পৃথিবীর বেশিরভাগ সেরা মানুষ। আমরা জানি সায়্যিদিনা ঈসা আলাইহিস সালামের কথা, জানি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাদের সাহাবাদের কথা — জীর্ণ পোশাকের নিচে তাদের যেই আত্মা ছিলো, তা ছিল উজ্জ্বল ঝকঝকে। তাতে ছিলো প্রশান্তি, তাতে ছিলো ভালোবাসা, তাতে ছিলো মানবতাকে মুক্ত করার প্রেরণা। তৎকালীন ‘সুপার পাওয়ার’ রোমান আর পারস্য সাম্রাজ্য যেই ‘সাদামাটা ও কম সংখ্যার’ সাহাবীদের মুখোমুখি হতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলো। কারণ, এই মানুষগুলো জানতে তাদের পৃথিবীর জীবনের উদ্দেশ্য, জানতেন তাদের প্রাণের অর্থ, জানতেন তাদের জীবনের মূল্য ও সম্মান কীসের মাঝে। তাদের অন্তর ছিলো ঈমানে পরিপূর্ণ, ঈমানের শক্তিতে তারা ভাস্বর ছিলেন। পার্থিব জীবনের পরীক্ষাগুলোর প্রবল আঘাত তাদের কাবু করে ফেলতে পারেনি। দুনিয়ার সাময়িক মোহ, চাকচিক্য তাদের অন্তরকে স্পর্শও করতে পারেনি। ক্ষুদ্র বোধের সীমাবদ্ধ দৃষ্টির দুনিয়াবী মানুষদের হিসাবের যন্ত্রে তাদের অপ্রাপ্তি ছিলো বটে, কিন্তু তারা জানতেন প্রকৃত প্রাপ্তি কোথায়, কেমন এবং কতটা সম্মানের। আল্লাহ তাদের প্রতি খুশি, তারাও আল্লাহর প্রতি খুশি ছিলেন এবং প্রশান্ত চিত্তেই তারা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

মানুষের জীবনে অনেক অপ্রাপ্তি থাকবেই। আল্লাহর উপরে ভরসা রাখাই সম্পদ। এই পৃথিবীতে প্রতিটি সময়েই আমাদের মতন এমন শত কোটি মানুষ ছিলো, সবাই একটা প্রাণ, একই অনুভূতি নিয়ে ছিলো। অপ্রাপ্তিতেই ভরা ছিলো সবাই। এখানে অন্তর কারো পূর্ণ হবে না। শরীরের চাওয়ার শেষ নেই, সম্পদের প্রতি চাওয়ার শেষ নেই মানুষের; কিছুতেই সে লোভ পূর্ণ হবে না। দুনিয়ার জন্য যেসব সম্পর্ক, সেগুলোও ভেঙ্গে যাবে এখানে কেননা মানুষ এখানে থাকবেই অল্প সময়। এখানে তাই সুখ খোঁজা বোকামি। অবিমিশ্র সুখের স্থান জান্নাত, পৃথিবী তো নয়!

আল্লাহ যেন আমাদেরকে মৃত্যুর আগে জীবনের উদ্দেশ্য বুঝে, তার উপরে আ’মাল করে দুনিয়া থেকে এমনভাবে বিদায় নেয়ার সুযোগ দান করেন যেন আমরাও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকি, তিনিও আমাদের উপরে সন্তুষ্ট থাকেন। আমরা যেন আল্লাহর দ্বীনের জন্যই, তার সন্তুষ্টির জন্য এই দুনিয়াতে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে পারি। আল্লাহ যেন আমাদের কবুল করেন। নিশ্চয়ই তার অনুগ্রহ ছাড়া কোন কিছুই হয় না, সমস্ত ক্ষমতা ও শক্তি কেবলই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার; যিনি এক এবং অদ্বিতীয়, যিনি বিচার দিনের মালিক।

আরও পড়ুন