পাখির অভয়ারণ্য নূরুদ্দিনের পাখিবাড়ি

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

আব্দুল বাতিন ফয়সল :- সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে ছালিয়ার নুরউদ্দিনের পাখিবাড়ি। বাড়িটির কাছে যেতেই ভেসে আসে পাখির কলকাকলি, কিচিরমিচির ডাক। চারপাশে জলবেষ্ঠিত বাড়িটি মনে হয় লেকের মধ্যে ভাসছে। পানিতে সবুজ কচুরিপানা শোভা পাচ্ছে, বাড়ির চারপাশে বাঁশ ঝাড় ও সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা। গাছগাছালির দিকে খানিক সময় তাকালেই চোখে পড়বে সবুজের মধ্যে সাদা কালো টিপের মতো বসে আছে কিছু পাখি। একটা নয় দুটো নয়, অনেকগুলো। শহর থেকে দূরে প্রাকৃতিক মনোরম এই পরিবেশের পাখির ভিড় জমানো বাড়িটির নাম নূর-আনোয়ারাবাদ। গ্রামীণ পরিবেশ হলেও বাড়িটিতে রয়েছে সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধে।

ঘরের সামনে বড় একটি পুকুর সান বাধানো ঘাট। পাখির বসবাসের বিষয়টি মাথায় রেখেই যেন বাড়ির পুরো পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পুকুরের মধ্যে লম্বা লম্বা বাশ পানিতে পোতা এটা দেখে বোঝা যায় পাখি বসার স্থান। ব্যক্তি উদ্যোগে পাখিদের এমন অসাধারণ অভয়ারণ্য তৈরি করা যায়, সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। যারা পাখি ভালবাসেন, ভালবাসেন নিরিবিলি পরিবেশ কিংবা বুনো জগত, তাদের জন্য আদর্শ হলো নুরউদ্দিনের পাখি বাড়ি।

প্রায় তিন এক জমি নিয়ে তৈরি এ বাড়িতে ঢোকার মুহুর্তে দেখা হলো বাড়ির মালিক মো: এমদাদুল হকের সাথে। বাড়ির প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই ডান পাশে চোখে পড়লো হরিণের ঝাক । নিরাপদ আবাসনে আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিনগুলো। বাড়িটির যেদিকে চোখ যায় শুধু পাখি আর পাখি। এখানে সাদা বকের প্রধান্যই বেশী। এছাড়া রয়েছে পানকৌড়ি। গাছগাছালির সবটিতেই পাখিদের বাসা। নীচ থেকে দেখা যায় পাখিদের বাসা, কোনটিতে ডিম নিয়ে , কোনটিতে বাচ্চা নিয়ে বসে আছে মা পাখিরা। বড়ো একটি গাছে ঝুলে রয়েছে অসংখ্য বাদূর। বেশ কিছু সুপারি গাছে রয়েছে বাবুই পাখির বাসা। এছাড়া রয়েছে তিতির পাখি, কবুতর, দেশী মোরগসহ।
কথা হয় বাড়ির মালিক মো: এমদাদুল হকের সাথে। তিনি জানান ১৮/২০ বছর আগে এই বাড়িটিকে পাখির অভায়রণ্য গড়ে তুলেন তার পিতা মো. নুরুদ্দিন। তিনি বাজারে গেলেই পাখি কিনে আনতেন। বাড়িতে এনে সেই সব পাখি ছেড়ে দিতেন। তিনি সবাইকে বলতেন, ‘পাখির জায়গা খাঁচায় না, আকাশে’। মুক্ত করে দেয়া সেই সব পাখির কিছু কিছু উড়ে মিলিয়ে যেত আকাশে, আর কিছু পাখি থেকে যেত নুরুদ্দিনের বাড়ির গাছগাছালিতে। সেইসব পাখির দেখাদেখি বাইরে থেকে আরো পাখি আসতে শুরু করে। পাখিগুলোকে কেউ তাড়া না করায় সেখানে পাখিগুলো বসত গড়ে তুলে । ডিম পাড়ে বাচ্চা ফোটায় আস্তে বংশবৃদ্ধি হয়ে এভাবেই এক সময় পাখির পরিমান বেড়ে যায়। পাখিদের নিরাপত্তায় নজর দেন নুরুদ্দিন। পাখি চুরি ঠেকাতে নুরুদ্দিন পাহারা বসান।
এই মহান পাখিপ্রেমিক নূরউদ্দিন এখন আর বেঁচে নেই ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার অনুপস্থিতিতে তার ছেলে মো: এমদাদুল হক পাখির দেখাশুনার দায়িত্ব নেন। বাড়িতে বক জাতীয় পাখির সংখ্যাই বেশী। শীতের পাখিও আসে। এরা সারাদিন এখানে সেখানে ঘুরে খাবার খেয়ে আবার সন্ধ্যায় নুরুদ্দিনের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়।
নূরউদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী মো: এমদাদুল হক বলেন পাখির দেখাশুনা করে বেশ আনন্দ উপভোগ করেন। তিনি তার তিন সন্তান নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। তারা এখান থেকেই শহরের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশুনা করে।

আরও পড়ুন

সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে ভক্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট রামকৃষ্ণ...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

মহিলা রিসোপশনিষ্ট...

সিলেট বিভাগীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জরুরী সভা

আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনকে সামনে...

আমেরিকায় বসবাসরত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম খান আর নেই

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বালাগঞ্জ উপজেলার...