পাকিস্তান এখন বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে  
  

অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, পাকিস্তান বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। সে দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী ইমরান আহমদকে আগামী দশবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সমকক্ষ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।
এ জন্য মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এরকম একজন বিচক্ষণ নেতা ছিলেন বলে বহুবছর আগেই সংগ্রাম করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। যার সুফল আমরা ভোগ করছি। অন্যথায়, পাকিস্তানের মত বাংলাদেশ আজও পিছিয়ে থাকতো।
ড. মোমেন আরও বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১১৮টি বক্তৃতা পেয়েছি। আগামী মার্চে বঙ্গবন্ধুর এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের সমন্বয়ে একটি বই প্রকাশ করবো।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশে^র ৭৭টি দেশে অবস্থিত মিশনসমূহে নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশকে বিশে^ ব্রান্ডিং করা হবে। একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। এখন বাংলাদেশ ল্যান্ড অব অপরটুনিটি ও বাইব্রেন্ট ইকোনমির দেশ- সেবা বিশ^বাসীকে জানিয়ে দিতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বিদেশে যত বেশি রোড এবং এভিনিউ বঙ্গবন্ধুর নামে করা যায়। কিছু সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে এবং ইউনেস্কোও আমাদের সাথে মুজিববর্ষ মুজিববর্ষ উদযাপন করবে বলে সম্মত হয়েছে।
প্রবাসী হয়রানি রোধ ও উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগের বর্ণনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসী হয়রানি রোধে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলোতে ২৪ ঘন্টা হটলাইন চালু করা হয়েছে। ‘দূতাবাস’ অ্যাপস এর মাধ্যমে ৩৪ ধরণের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য ‘লাইফ চেঞ্জার’ স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো আধুনিকায়ন ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সিলেট নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, নির্বাচনে ‘আলোকিত ও উন্নত সিলেট গড়া’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং চলছে। অনেকগুলো পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।
নিজের উন্নয়ন কর্মকান্ডের উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ঢাকা-সিলেট চারলেনে উন্নীতকরণ কাজের অর্থায়ন হয়েছে। মাস দুয়েকের মধ্যে টেন্ডার হবে। ওসমানী বিমানবন্দরের উন্নয়নে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সিলেট মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজিটাল সিলেট সিটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় অপরাধ রোধে সিলেট নগরজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনে আগামী রোববার অত্যাধুনিক নতুন বগি যুক্ত হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আধুনিক নগরী গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি একনেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে ১২শ’ ২৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন জানিয়ে প্রফেসর এমিরেটাস ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেট অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বরিশাল ও সিলেটের জনসংখ্যা প্রায় সমান হলেও সিলেটে তুলনায় সেখানে তিনগুণ বেশি স্কুল কলেজ রয়েছে। এজন্য সিলেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় গুরুত্বারূপ করেন মন্ত্রী।
তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম বছরেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় (সিলেট মহানগর ও সদর উপজেলা) পাঁচটি হাইস্কুল, চারটি মাদরাসা ও দু’টি কলেজ এমপিওভূক্ত হয়েছে। ৬০টি স্কুলে নতুন ভবন ও সম্প্রসারণের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং কাজ শুরু হয়েছে।
ড. মোমেন বলেন, সিলেট বিভাগে ১২৮টি কলেজের উন্নয়নে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আড়াই থেকে আট কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সিলেট-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ওসমানী মেডিকেলে আইসিইউ তিন ইউনিট থেকে ২০ ইউনিটে উন্নীত হয়েছে। নতুন করে পৃথক নবজাতক ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে। ১০তলা নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। এটি চালু হলে রোগিদের ভোগান্তি কমবে।
সিটি কর্পোরেশনে কালভার্ট, ড্রেনেজ নির্মাণ, ছড়া ও খাল খনন ছাড়াও লালমাটিয়ায় ডাম্পিংগ্রাউন্ডে ক্লিনিক্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনসহ বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
সিলেট সদরে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, আধুনিকায়ন, নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ, নগরীতে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনসহ বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট শহরতলীর লামাকাজির আকিলপুর এলাকায় সুরমা নদীর তীর সংরক্ষণ, ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চেঙ্গেরখাল নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, বাছাই নদী ও গোরামাখাল পুনঃখনন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীন পানি সরবারহ প্রকল্পের আওতায় ৬১টি গভীর ও অভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। আরো ২৯৬টি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। এগুলোর সুষম ব্যবহার জরুরি। এজন্য জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদ সবাইকে সচেতন হতে হবে।
একই সাথে সিলেটে নদীর তীর দখল, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ দমনে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স প্রয়োগের নির্দেশ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা

আজ বুধবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী।...

ষোল আঠারো ষাট

 মোহাম্মদ আব্দুল হক: ওরা আজ...

জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম

জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ...