পরিবেশের মোহমায়া জাগুক বিশ্বচেতনায়

,
প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২১     আপডেট : ৬ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ্ : আমরা তাকেই পরিবেশ বলি, যে বেঁচে থাকার রশদ জোগায়। পৃথিবীর প্রাণীকূলকে বাঁচার ক্ষমতা দেয়। জীবে জীবন ও রূপে বৈচিত্রতা দেয়। যাকে আমরা অতি নিকটের প্রতিবেশি বলি। পরিবেশ অনুষঙ্গে ডাকি। অর্থাৎ গাছপালা,মাটি,পলি,বায়ু,জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ,সূর্যের আলো,পরিবার, বন্ধু পরিজন। যেখানে পরিবেশ নেই-সেখানে বেঁচে থাকার রশদও নেই। প্রাণীর প্রাণ নেই। প্রাণের শ্বাস নেই। প্রাণীর অস্তিত্বে বেঁচে থাকা নেই। সেখানে প্রাণীকূল একা। দুর্বিসহ তাদের বেঁচে থাকা। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য পরিবেশের প্রয়োজনে যদি পরিবেশ না থাকে। আমাদের সুবিধার শ্বাসের জন্য,বেঁচে থাকার জন্য,খাদ্য কিংবা বায়ু যদি না থাকে। যদি জলবায়ু নষ্টের দখলে যায়।জলাধারে জল,নদীর কলকোলাহল, সমুদ্রের উচ্ছ্বল-নোনাজল যদি শুকিয়ে যায়। যদি বঙ্গ উপকূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় কিংবা হঠাৎ উছলিয়া ওঠে ভাসমান করে দেয় নগরীর বসতভিটা।যদি সমুদ্রের কোলের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা প্রাণীর হাহাকার ভেসে ওঠে। প্রত্যাহার করে নেয় তার অগাধ বুকের নোনাজল। কিংবা যদি আঁখির আলোয় সমুখে দেখি-পশু নেই, পাখি নেই, খোলা আকাশের অদূরে দিগন্ত নেই, সুর্য-মেঘের খেলায় রামধনুর খেলা নেই, আকাশে রঙের বৈচিত্র নেই। আকাশে মেঘের গর্জন নেই। পেঁজা তুলার মতো উড়ে উড়ে পাখির সাথে ডানায়-ডানায় ওড়াউড়ি নেই। নারিকেল পাতার ফাঁকে ফাঁকে চাঁদের আলো নেই। সূর্যের আলো ভূমিতে,ধানের জমিতে,গম,যব,সরিষা, শাকসবজিতে টইটুম্বুর না থাকলে আমরা তাকে পরিবেশ বলি না। বলি নষ্ট হয়ে যাওয়া পরিবেশ। নষ্ট পরিবেশ। দুষ্টু পরিবেশ। দুষিত পরিবেশ। তাইতো আমাদের প্রতিবেশি পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা জরুরি।আর জরুরি বলেই দেশ-বিদেশ সারা ভূমন্ডল জুড়ে বসতিবাসের মানুষের মধ্যে পরিবেশকে জাগিয়ে তোলার অথৈ আকুতি। আমরা নানান বিজ্ঞান প্রতিবিজ্ঞান ঘেটে জানতে পেরেছি-মাটি,পানি,বায়ুকে পরিবেশের প্রধান স্তরের পর্যায়ে পক্ষভোক্ত করলে তাদের নিয়ে আদরে আদরে সমঝে চলতে হবে বিধায় উক্ত তিনটি উপাদানকে জাগিয়ে রাখতে হবে আমাদের প্রয়োজনে। আমাদের আয়োজনে। কারণ এরা আমাদের আহরিত শক্তি। বেঁচে থাকার উপাদান। এই উপাদানগুলো আবার আলোচনার কাতারে এনে বিভাজিত ভাগে দ্বিখন্ডিত রূপে উপস্থাপিত হতে থাকে। এককভাগে মানুষের পরিবেশ। অন্যভাগে প্রাকৃতিক পরিবেশ। মানুষের দ্বারা সৃষ্ট উপাদান হলো-ঘরবাড়ি,পরবাড়ি,গাড়ি,শাড়ি, দালান,আসবাব,বাসনকোষণ,আবিস্কৃত সরঞ্জাম ইত্যাদি। বাদ বাকি গাছবৃক্ষ, তরুলতা, নদী-নালা, জলাশয়, পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, মাটি, পানি, বায়ু, সূর্যের আলো বা প্রতিফলিত আলোয় আলোকিত উপগ্রহ চাঁদ ইত্যাদি। আর এই দু’ভাগের ভাগিদার পরিবেশকে যদি মানুষ দোসর করে তবে তার বেঁচে থাকা আরামপ্রদ ও স্বার্থক। যদি তার ব্যতিক্রম হয় তবে আলোকিত চোখের আলো কালোয়-কালোয় ভরে ওঠে। নিজের জীবন, নিজের জগৎ নিজে নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়। আদিকালের গুহামানব কিংবা গুহামানবী যেদিন আগুন জ্বালানো শেখে আকাশের উদরে ধোঁয়ার কুন্ডলি ছেড়ে দেয় সেদিন থেকেই শুরু হয়ে দূষণের যাত্রাকাল। তবুও পরিবেশ নিয়ে মানুষের ভাবনায় উদয় হয়ে ওঠেনি। পরিবেশ বলতে পাঠের বইয়ে গোছগাছ করা কথামালা মুখস্ত করে পরীক্ষা পাশের প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো পরিবেশের তোড়জোড়। কিন্তু সে ই তো ছিলো দিন,এখন আর আসেনা। দিনের কাছে দিন থাকে না। তাকে নিয়ে সে বদলায়। বড়ো বেশি বদলায়। নতুন দিন নতুন করে বার্তা আনে নতুন সুরে সুরে। সুখের কিংবা অসুখের বার্তা। যেমন-৪৫৪+-কোটি বছর বয়েসি পৃথিবীর মাঝে বাসযোগ্য আদম-ইভস এর সন্তানের সংখ্যা ছিলো সীমাবদ্ধতার বাঁধনে নগন্য। কিন্তু আজকাল ছিঁড়ে গেছে সে বাঁধন। পৃথিবীর মাটি,পানি, বায়ু, ভৌত রাসায়নিক, জৈবিক বা তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন ঘটিয়ে দূষণের যাত্রাপথে পৃথিবীর পদচারণ। জনসংখ্যার অযাচিত চাপ, কারখানার বর্জ্য, ইঞ্জিনের গড় গড় শব্দ। মানবতা বর্জিত পারমাণবিক অস্ত্র, স্বায়ুবিক অস্ত্র, জীবাণূ অস্ত্র, কারো ধোঁয়া। প্লাস্টিক, পলিথিন, ইলেকট্রনিক্স বর্জ্য, ককটেল, রাইফেল, ট্যাঙ্ক, হাতবোমা, গান পাউডার, গাঁজা, আফিম, সিগারেট চরষের ধোঁয়া, বা মানুষে মানুষে, যন্ত্র-মানুষে সাঁড়াশি আক্রমণ ছিলো না বলে পরিবেশও ছিলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ সীমায়। কিন্তু বিপরীতে হিত পরাভূত হয়ে জনসংখ্যা এলো পৃথিবী জুড়ে। মহামতি মি. কন্ডম কর্তৃক আবিষ্কৃত এবং তাঁর নামেই নামাঙ্কিত জন্মনিরোধের অতি উত্তম সরঞ্জামকে আঞ্জামে না নিয়েও পৃথিবীতে মানুষের বর্ধণ ক্রিয়া এ পর্যন্ত ৭৭০ কোটিতে এসে ঠেকলো। এই ৭৭০ কোটি মানুষের বসবাস ২০৩০ সালে দাঁড়াবে ৮৫০ কোটিতে।বিশ্বে ১০০ কোটি জনসংখ্যার অপেক্ষায় হাজার বছর সময় নিলেও মাত্র কিছুকাল সময়ের ব্যবধানে আজদিন তা আর সীমাবদ্ধতার ঘরে বন্দি নেই। জাতিসংঘের তথ্য স্বীকার করেছে ২০৫০ সালে জনগণ সংখ্যায় হবে ৯৭০ কোটি। এবং ২১০০ সালে ৯০ কোটির ঘরে দাঁড়াবে। বেড়ে যাবে দিকে দিকে পরিবেশের উদ্বাস্তু। প্রতি ৬ জনে ১ জন করে উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাঁড়াবে বিশ্বে। যার যাত্রা অদ্যাবধি শুরু হয়ে গেছে। যেমন গাছের কথাই বলা যাক। প্রকৃত প্রমাণের এই সৃহৃদ স্বজনইতো আমাদের প্রশ্বাসিত কার্বন-ডাই অক্সাইডকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে নাসারন্ধ্রে খুব দ্রুততায় অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। ফলে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মিনিটে আমরা ১৮ বারের মতো প্রশ্বাস গাছবাড়িকে দিয়ে নির্মল নিঃশ্বাস মুখ করে নিতে পারি। প্রতি ঘন্টায় ০.৭ ঘনফুট দূষিত কার্বন-ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। সে হিসাবে প্রতিদিনে সে মানুষ ১৬.৮ ঘনফুট এবং বছরে ৬০৪৮ ঘনফুট কার্বন-ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে দিচ্ছে পরিবেশের বালুকাবেলায়। ভারতীয় বন গবেষকদের বরাত দিয়েই বলি-আমাদের কাছে সারনী না হলেও অসাধারণ। একটি গ্রামীণ আম গাছ বছরে প্রায় ১৩ কেজি কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সোয়া ৬ কেজি অক্সিজেন ত্যাগ করে যা একটি ৫ জনের পরিবারের বার্ষিক অক্সিজেন চাহিদা পূরণে অনবরত জীবনেও সক্ষম। এই আম গাছ যদি তার সমূহ জীবন নিয়ে ৫০ বছর পর্যন্তও বেঁচে থাকে তবে সে আর্থিক মূল্যে প্রায় ১৫ লক্ষ ৭০ হাজার ভারতীয় রূপীতে দাঁড়াবে। গাছের সবুজ-সবুজ পাতাবাহার সবুজ রঙে সূর্যকে আকৃষ্ট করে সূর্যের প্রখরাধিক্যতাকে রক্ষা করে মানব বসতির মান
বকূলকে রক্ষা করে চলে। অথচ আমরা সে গাছকে ভুলে যাই। তার অনন্য অবদানকে ভুলে ভুলে অবাধে কর্ত্তন করি গাছ। আমাদের এই অর্থলিপ্সু মানব প্রজাতির প্রয়োজনেই আফ্রিকায় ২৯টি, ল্যাটিন আমেরিকায় ১০টি ও এশিয়ায় ৫টি গাছ কর্ত্তন করে রোপিত হয় মাত্র ১টি গাছ। বিশ্বে প্রায় ৪০৬ দশমিক ৮৫ হেক্টর বনভূমির জনপ্রতি বনভূমির পরিমাণ ০ দশমিক ৬৪ হেক্টর। মোট আয়তনের বিশ্বে বনভূমির দ্বারা আবৃত ভূমি ৩১ দশমিক ১০ শতাংশ। তার মাঝে ধ্বংসলীলায় প্রতি মিনিটে প্রায় ৫০ একর বনভূমি নিপতিত। এর কুফলের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে পরিবেশ। সে সর্পিল ফণার মতো ফুঁসে ফুঁসে তার আগ্রাসনে কপোকাত করেছে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই ৭৬টিরও বেশি প্রাণী আর কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা। এরা এখন বিলুপ্তির লিস্টে খাতার পাতায় বিদ্যমান। দিনে দিনে বনাঞ্চল নিধনের আয়োজনের কুফলে নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে হিংস্র হয়ে ওঠেছে বন্যপ্রাণী। নির্দয় হয়ে গেছে পোষা প্রাণীও। মানুষের জীবনকে হত্যার নেশায় বুদ হয়ে লোকালয়ে ওৎ পেতে আছে তারা। কোন কোন দেশে উজাড়িত বনে জীবিকা পরাভূত হলে বিদেশ ভ্রমণে মানুষের ঝোঁকের মতো পাখিও সে ঝোঁক কাজে লাগিয়ে গাছপালা, খাবারের সন্ধানে পরিযায়ি হয়। আনুমানিক ১৬ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগে পৃথিবীতে আসা পাখিগুলো মরে গিয়ে, হারিয়ে গিয়ে, ক্ষয়ে ক্ষয়ে পরিবেশের বিরূপ প্রভাবে প্রায় লাখ পাচের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশের প্রভাবে খাবারের সন্ধানে কোন কোন পাখি আবার ২২ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে চলে যায় ভিন দেশে। আমরা জানি, বাংলাদেশের অন্যতম বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত সিলেট বিভাগের বাহুবল, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার সদর, জুড়ী, কমলগঞ্জ, বড়লেখা, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর, সিলেট সদর কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাটে এখন অভয়ারণ্য নেই। বরং অরণ্যের জমি চলে গেছে অন্যের দখলে। বাংলাদেশের বিশেষ জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এলাকা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট যেখানে বর্ষায় ২০ থেকে ৩০ ফুট পানির নিচে থাকলেও এখন তার উচ্চতা মাপা হয় মাত্র ১০ ফুটে। খুব নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা টিলা পাহাড়ের ঢালে-ঢালে চা বাগানের সারি-সারিতে বা ছায়াঘেরা শিলকড়ই গাছের ডালে-ডালে জীববৈচিত্র্যের চিত্র এখন আর নেই। চলে গেছে, মরে গেছে জঙ্গলের ফাঁকা থেকে গলা বাড়িয়ে হঠাৎ দাঁড়ানো পথিক শেয়ালের ঝাঁক। বনবেড়াল, বাঘঢাসা,বেজি,হঠাৎ দেখা সজারু,বনমোরগ,লাজুকবানর,চশমাপরাবানর,মুখ পোড়াবানর,বনমানুষ,হনুমান, জানা কিংবা না জানা বানরের পাল আর নেই। নেই-ধনেশ, বনময়না, ঝাঁকে ঝাঁকে টিয়া, চিত্রাশালিক,পইশালিক,টিলাঘুঘু,নীলঘুঘু, বুলবুলির বুলি। ঢোঁড়া, ডারাশ, বোড়া, অগ্নিবোড়া, নাগ, ভাইপার, বিষ নির্বেষের নানা প্রজাতির সাপ। অজগর, বুনোশুয়োর, বুনোহরিণ,কানদাঁড় করা মেটো কালারের খরগোশ,বিড়ালপায়ী,ছাগলপায়ী খরগোশ, কালেভদ্রেও সিলেটের চা বাগানে এখন আর চোখে পড়ে না। অথচ এদেরও আবাসন ছিলো বৃহত্তর সিলেটে। সিলেট অঞ্চলে। কারণ, বন থাকলেও বনভূমির সন্তান থাকবে? সিলেট বিভাগে মোট বনাঞ্চলের পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৮শ ১৯ একর। স্বাধীনতার পর মাত্র ৯৯২ একর জায়গা উদ্ধার করা গেলেও ৬০ শতাংশ বনভূমি দখলের আওতায় নেই। অধিকাংশ স্থানে চিহ্ন পর্যন্ত নেই বনভূমির। যেমন চিহ্ন নেই-সিলেট শহরেরই বাসিন্দা-লালদিঘী, চারাদিঘী, মাছুদিঘী, বড়দিঘী, নীলদিঘী, রাজারমার দিঘী, কাজল হাওড়, দুবড়ীর হাওর,কয়েদির হাওড়, বাঁকে বাঁকে পরিবর্তন হয়ে গেছে- কানিছড়া, মালিছড়া। সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদরে গেছে ২ নম্বর টিলা, ৩ নম্বর টিলা। বন বিভাগের তথ্যমতে সিলেট বিভাগ জুড়ে মনুষ্য দখলে থাকা মোট বনভূমির পরিমাণ ছিলো ৬৪ হাজার ৮শ ৯৬.৯৪ একর। কিন্তু দীর্ঘ বছর পর ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৪শ ২০.৬০ একর। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় ভৌগোলিক অবস্থানের এক চতুর্থাংশ বন থাকার আবশ্যকীয়তা থাকলেও বন বিভাগের হিসেবে সিলেটে বনের পরিমাণ ৯ থেকে ১০ শতাংশের উপরে নয়। পৃথিবীর দিকে-দিকে, দেশে-দেশে, অঞ্চলে এই যে আমরা বনভূমি ধ্বংসে লিপ্ত রয়েছি তার পরিমাণ সুখপ্রদ হতেই পারে না। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতির চাবিকাঠি বানিয়ে বাতাসে ঢেলে দিচ্ছি প্রতি বছর ২০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন-মনো-অক্সাইড। বায়ুমন্ডলে বাড়তে বলেছি- কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ। ৬০ হেক্টর বনভূমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে প্রতি বছর। ৪ হেক্টর উর্বর জমি বালুকাভূমিতে রূপায়িত হয়ে যাচ্ছে মিনিট-মিনিটে। দূষণ-দূষণে পড়েছে নদীর পানি। আজ সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্মা, আড়িয়াল খাঁ, বুড়িগঙ্গা কোনটিই দূষণমুক্ত নয়। দূষণ যুক্ত হয়ে পড়েছে দৈনিকের হিসেবে ৬৯২ একর। যা গত ১০ বছরে ৫৬ হাজার। ফলে দিকে দিকে আঘাত আসছে পরিবেশে। তছনছ হয়ে যাচ্ছে জলবায়ু। বেড়ে যাচ্ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা। ফলে পৃথিবীর ছাকুনি হিসেবে পরিচিত অতিবেগুনী রশ্মি পরিশ্রুতকারী ওজন স্তরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে-অতিবেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড দ্বারা সৃষ্ট ক্লোরোফ্লোরো কার্বন নামক অতি ক্ষতির এই প্রকারের গ্যাস। কার্বনের এই প্রতিরূপে ভূ-পৃষ্ঠের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখিন। দেখা দিচ্ছে গ্রীণহাউস প্রতিক্রিয়া। বৃদ্ধি পাচ্ছে তাপমাত্রা। দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বায়ু মন্ডলের ওজন স্তর। যে গাছবৃক্ষ সূর্যের অতিবেগুনি আলো নিয়ন্ত্রণে আগুয়ান ছিলো সেই আলো সরাসরি বসতি নিচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠের পরিবেশে। পৃথিবীর বুক জুড়ে বেড়ে যাচ্ছে ক্যান্সার। মেরু অঞ্চলে জমাট বাঁধা বরফ গলে গলে নিম্নাঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে সমুদ্র পৃষ্ঠে বেড়ে যাওয়া অতিভাবে বেশি বরফগলা পানি। বরফ গলা এই পানিতে ডুবে যাচ্ছে পৃথিবীর নিম্নাঞ্চল। ঝড়-ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্ণেডো, বজ্রপাত বেড়ে বেড়ে বৃষ্টিপাত কমে দেখা দিচ্ছে প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ। এইতো গত ২৯ তারিখে ২০২১ সালের শনিবার সকাল থেকে ভোরের মধ্যে প্রায় ৭ বারের বেশি ভূমিকম্প হয়ে গেলো সিলেটের বুকে। দুর্যোগের মাত্রা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, পৃথিবীর গড় উত্তাপ বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ সে. যদি না হয় তার অব্যাহতি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন- গ্রীণহাউসের এই বাজে প্রতিক্রিয়ায়
আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে ১.৫০ থেকে ৩০ সে.। আরো বাড়বে খরা, বাড়বে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দাবানল, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, বায়ুঝড়, টর্নেডো, বজ্রপাত, শিলাপাত। নানাবিদ প্রাকৃতিক আরো দুর্যোগ। ২০৫০ সাল নাগাদ তেলের খনি দখলে নয় পৃথিবী আগাবে পানিকে ধারনের দখলে। তখন পানির সংকটে পড়ে যাবে প্রায় ২০ কোটি মানুষ। পৃথিবীর আবহাওয়া উষ্ণায়ন, জলবায়ুর বিস্ফোরণ থেকে চোখ ফেরালে আমাদের আয়নায় বাংলাদেশকেও দেখতে পাই। যে বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রার দেশ হিসেবে পরিচিতি নিয়ে ছিলো বিশ্বভুবনে সেই দেশের আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ বিলীন করে দিচ্ছে সমূহ পরিচিতি, ১৯৬০ সালে যে বঙ্গীয় এলাকার তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা হয়-সর্বোচ্চ ৪২.৩০° সেলসিয়াস। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৩০ মে তা নথিভুক্ত করা হয় ৪৫.১০° সেলসিয়াস রাজশাহীতে। ১৯৯৫ সালের নথিভুক্ত ৪৩°সেলসিয়াস। ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল নথিভুক্ত করা হয় ১৪ বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২.২০° সেলসিয়াস যশোরে। ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত হিসেবে সাগরের মধ্যে ৬টি জল-ঘূর্ণিঝড় এবং ১০৭টি লঘু নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর। ২০০৮ সালের ২ মে ধেয়ে আসে নার্গিস। একই বছর ২৬ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় রেশমি। ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় খাইমুম। ২৬ নভেম্বর নিসা। ২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল বিজলি। এ বছরই ২ মে আইলা। ২০১৩ সালের ১৬ মে মহাসেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই কোমেন। ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানু। ২০১৭ সালের ৩ মে ফনী। এ বছরের ৯ নভেম্বর বুলবুল। ২০২১ সালের ২৬ মে ইয়াস। জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাবে যে দেশে আজ থেকে ১৫ কিংবা ২০ বছর পর পর বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিতো এখন তা প্রতি ২ থেকে ৩ বছর পরপর দেখা দিচ্ছে। বৃটিশ গবেষণা সংস্থা ম্যাপল ক্র্যাফট এর প্রাকৃতিক কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ দেশের তালিকার মধ্যে বাংলাদেশেও দখলদারিত্ব পরিলক্ষিত হয়। দেশভাগের সময়েও আমাদের দেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ ছিলো মোট ভূভাগের মধ্যে শতকরা ২৩ ভাগ। ১৯৭১ এর পর এ দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ শতাংশের প্রয়োজন থাকলেও তা নেই। আমাদের দেশের সমপরিমাণ জনসংখ্যার দেশ জাপানেও দেখতে পাই বনভূমির পরিমাণ ৬৩ শতাংশ। মালয়েশিয়া ৬২ শতাংশ। দক্ষিণ কুরিয়ায় ৬৫ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫ শতাংশ। ফিলিপাইনে ৩৬ শতাংশ। থাইল্যান্ডে ৪৮ শতাংশ। নেপালে ২৩ শতাংশ। শ্রীলংকায় ৪৭ শতাংশ। বার্মায় ৬৭ শতাংশ বনভূমি। আর আমরা পড়ে আছি- ১৭ শতাংশে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক হারে কম। তারপরেও অবাধে ধ্বংস করে চলেছি বনাঞ্চল। তাড়িয়ে বেড়াচ্ছি প্রাণীকুল। পৃথিবীতে প্রতিবছর গড়ে এক শতাংশ বনভূমিকে ধ্বংস করে মানুষ। বিগত ৭০ বছরের মধ্যে মোট ক্রান্তীয় বনভূমি ধ্বংসের তালিকা ৫০ শতাংশের ঘরে। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০০৬ সালের সংজ্ঞানুযায়ি ১৫ মিলিয়ন বর্গমাইল জুড়ে রয়েছে পৃথিবীর বনাঞ্চল, যা বিশ্বের মোট জমির প্রায় ৩০ শতাংশ প্রতিবছর নিরক্ষীয় এলাকায় ২% করে গাছ বা বৃক্ষ কর্তনের ফলে ধারণা করা হচ্ছে একুশ শতকেই পৃথিবী থেকে সবুজাব প্রকৃতির নিশ্চিহ্ন সময়কে দেখা যাবে। বিজ্ঞানীরা বলেন-৫০ থেকে ৫০০ মিটার একটি বনভূমি যথাক্রমে ৩ ডিগ্রী থেকে ৫৩০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা কমানোর ক্ষমতা রাখে। দেখা গেছে যেখানে বনভূমির আধিক্য বেশি সেখানে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্ণেডো ইত্যাদির পরিমাণ কমে আসে। বর্তমানে প্রতিবছর আমরা রান্নাবান্নাসহ ইত্যাদি কাজেই প্রায় ১০৭ কোটি মন এর মতো জ্বালানী উজাড় করে দিচ্ছি। পরিবর্তে যে পরিমাণ গাছ লাগানোর কথা সে পরিমাণে লাগাচ্ছি না। যদি গাছের ব্যাপারটি আমলে ধারণ করতাম তবে জানতাম-পরিবেশ কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গাছের অবদান অপরিসীম অনুদান। একটি গাছ প্রতিদিন বাতাসে সঞ্চিত বিষাক্ত গ্যাস কিংবা ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করে কীভাবে দূষণ প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো ভারী গ্যাসকে অক্সিজেনে রূপান্তর ঘটিয়ে কীভাবে মানুষের ফুসফুসে পৌঁছে দেয়। এই গাছ ই বাড়িয়ে তোলে নদী উৎসের পানীয় জলের ধারণ ক্ষমতা। গ্রীণ হাউসের প্রভাব কমিয়ে দেওয়া ছাড়াও ভূমির ক্ষয় প্রতিরোধ করে বন্যার প্রকোপ থেকে রক্ষা করে। কৃষি জমির গুণাগুণ রক্ষা করে করে জমির উর্বরতা কমায়। তাপ ও প্রবল বাতাস থেকে ফসল, প্রাণী ও জনমানুষের জীবন রক্ষা করে। প্রকৃতির বুকে আশ্রয় দেয় পরিবেশের সন্তান। কৃষি জমিতে মাটির তলদেশের পানির স্তর উপরে টেনে সেচ যন্ত্রের নাগালে রাখতে সহায়তা করে। বাড়িয়ে তোলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চারণভূমি। কিন্তু তার বিপরীতে আমরা তা ই। আমরা দেখি যে বনভূমি ইন্দোনেশিয়ায় ৬৭ দশমিক ০.৫%। জাপানের ৬৬.৫৮%। আর আমরা মোট বনভূমির ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন হেক্টর। হয়তো একদিন দেখবো, আমাদের অবস্থা প্রাচীন হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর মতোই হয়ে গেছে। ইতিহাস বলে এক সময় রোমান ও গ্রীকদের মতো এ স্থানেও হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা গড়ে ওঠেছিলো। তারা ধীরে ধীরে যখন মাটিকে পুড়িয়ে ইট বানানো শেখে ইমারতের জন্য সমূলে ধ্বংস করতে শুরু করলো বনবনানী, তখনই রুষ্ট হয়ে উঠলো প্রকৃতি। ধ্বংস করে দিলো হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর সভ্যতা। আমাদের দেশে পাহাড়ি অঞ্চলে বনাঞ্চল পুড়িয়ে পাহাড়ে জুম চাষ নামে এক ধরনের চাষ পদ্ধতির জন্য ফল, ফসল, সবজি, ধানে পাহাড়ে আনন্দের হিল্লোল ডাকলেও দেশের জন্য অশনি সংকেত। যা কালের যাত্রায় আমাদেরকে কোথায় নেবে জানিনা। মাটি, সূর্যালোক, পানি, শস্য ও বনভূমি প্রাণীকুলের বেঁচে থাকার উৎস হলেও মানুষ বাড়ার সাথে সাথে ফসলের জন্য পুষ্টি উপাদান হারিয়েছে মাটি। নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ছাড়াও কৃষি উপযোগী মাটিতে লিম্ফ, সালফার, বোরণ ইত্যাদি মৌলের অভাবে জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। যার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে রিনকর্ড, মিলবুন, সর্মিসাইডিন, হেপ্টাক্লোর, থায়াডিন, নগম, সমিথিয়ন, ডাইমাক্রম, ম্যালাথিয়ন, এরোম্যান ইত্যাদি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে গাছের ফুল, ফলে, মূলে, জলে, লতায়, ডগায়, বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় হৃদপিন্ডের প্রদাহ, ক্যান্সার, হাঁপানি, বমি বমি ভাগ চর্মরোগ, পেটে ব্যথা, অন্ত্রে ব্যথা, মাথা ঘোরা, গর্ভ
পাত, বন্ধ্যাত্ব, শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মাংসপেশীর সংকোচন, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছি আমরা। কৃষি জমিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়ালেও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা কমে গিয়ে জমি ধোয়া পানি নদী নালায় পড়ে প্রকৃতির অন্যতম উৎসভূমির দরকারী অদরকারী জলীয় প্রাণীসহ মৎস্যকূলকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে দেশের মানচিত্রের আওতা থাকে। এছাড়াও পলিথিন ও প্লাস্টিক দ্রব্য আমাদের পরিবেশ ও মাটির উর্বরা শক্তি নষ্ট করলেও আমাদেরকে এর ব্যবহার থেকে কেউ দমাতে পারছে না। পলিথিন প্রোপাইলিনের সাথে পেট্রোলিয়াম ও হাইড্রোকার্বনের ৩ থেকে ৪টি মলিকূলের সংমিশ্রণে প্রস্তুত করা হয় বলে এ আপদ, বিপদ হয়ে কড়া নেড়ে যাচ্ছে পৃথিবীর দ্বারে দ্বারে। শিল্প বিপ্লবের পর পৃথিবীতে প্রচলিত ধাতুর কমতি দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী, হালকা, পানি বিদ্যুৎ ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রক হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয় ১৮৬০ সালে। দিন দিন সামান্য সওদাপাতি থেকে শুরু করে পানির ট্যাঙ্ক, জগ, মগ, বালতি, বদনা, গ্লাস, বাটি, জুতা, চেয়ার, টেবিল থেকে রান্নাবাটি, প্লেটের দিকেও ঝুঁকে পড়েছি আমরা। এমনকি নিত্য ব্যবহার্য পানির চাহিদাকে ধারণ করে থাকে লিটার হাফ ফিটারের বোতল, রেফ্রিজারেটরের মাছ, মসলা, পানীয় জলকেও দখল করে আছে বিপদের পলিথিন। যার অধিক ব্যবহারে পরিবেশ শুধু হুমকির সীমা অতিক্রমে যাচ্ছে না এই প্লাস্টিক সামগ্রী আবর্জনায় টলইনডাই আইসোসায়ানেট এবং ক্যাডমিয়াম জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি থাকে বলে ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এনফাইসেমা, ব্রংকিয়াল এ্যাজমা আমাদের নিত্য সাথী। এ আপদের বিপদ আরো আছে- এ কে পোড়ালেও হাইড্রোজেন সায়ানাইড নামক বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়ে মানবদেহের রোগ, প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে উপহাস করে।National Jeoraphy Socity কর্তৃক প্রকাশিত ১৯৮৪ সালের রিপোর্টে জানা যায়-পলিথিন বা প্লাস্টিক সামগ্রী মাটিতে পুতে রাখলে সে স্থানে মাটির উর্বরতা কমে ১৮ থেকে ২০%। মাটির দানা বাধার ক্ষমতা কমে ২০ থেকে ৩০%। বন্যা, অতিবন্যা, জলজট, জলাবদ্ধতা, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি, মশকের ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও পলিথিনের জুড়ি মেলা ভার। তাই উন্নত বিশ্বে পাট ও পাট জাতীয় দ্রব্যের গুণাগুণ বাড়লেও বাংলাদেশে কমতি বহুগুণ। তাই পাটজাতীয় জিনিসের গুণকে বিবেচনায় রেখে ক্যারিব্যাগ, শপিং ব্যাগ, পানি পানের জগ, ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসত হবে। আমরা জানি, অথবা জানি না হয়তো-পরিবেশ উন্নয়নের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী কাজ করে থাকে শিল্প কারখানা, শক্তি উৎপাদন এবং অবাধে আবাদি যানবাহন। ১০০০ মেঘাওয়াট সম্পন্ন একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে যে পরিমাণ কয়লা পুড়ে, তা থেকে প্রতি ঘন্টায় নিঃসৃত ধোয়ার সাথে থাকে ৯০০ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ১২ টন সালফার কম্পাউন্ড, ৫ টন নাইট্রিক এ্যাসিড, ৩০ টন ছাই এবং ৩ থেকে ৫ টন অন্যান্য উপাদান। এছাড়া দিকে দিকে ওয়েলডিং এর আলোতো আছেই। এই আলো নিমিষেই ৩০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৩২০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা উৎপাদিত হয়েই বাতাসে ছড়িয়ে দিতে পারে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস। ফলে ব্যক্তির চোখকে ক্ষতির দিকে ধাবিত করে বাতাসের সাথেও করে শত্রুতা। ফলে নগর এলাকায় শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা থেকে শুরু করে নানা রকম ব্যধির সংক্রমণে ভরপুর বাতাস। এই গ্যাসও অন্য সহযোগির সাথে মিলে হিসাবকেও নিয়ে আসছে ধারে কাছে। প্রতি কিউবেক বাতাসে সালফার-ডাই-অক্সাইডের আদর্শ পরিমাণ হচ্ছে ৮০ মিটার। কিন্তু এর পরিমাণের উর্ধ্বগতিও পরিলক্ষিত হয় বিশ্ব বাতাসে। যেমন-একটি পুরাতন হিসাবকে আমলে নিয়ে দেখতে পাই-ইতালি ১৬৪১ মি., বেলজিয়াম ৬১৪ মি., মাদ্রিদ ৬০৫ মি., ব্রাজিল ৪৮৩ মি., চিলি-৩২০ মি. সালফার অক্সাইড উৎপাদন করে বাতাসকে ক্রমধারায় বিষিয়ে তোলায় কার্বন ডাই অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড জাতীয় বিষাক্ত গ্যাস বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রাকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। কালো ধোঁয়ার সাথে বস্তুকণা, সালফর ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন-ডাই অক্সাইড, সীসাসহ ক্ষতিকর উপাদানকে উগড়ে দিচ্ছে বাতাসে। ফলে ধোঁয়ায় থাকা বস্তুকণা ও সালফার ডাই অক্সাইডের প্রভাবে ফুসফুস, কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যানবাহনের ১৩ হাজার টনেরও বেশি কালো ধোয়া কার্বন ডাই অক্সাইড দিচ্ছে বাতাসে। পরমাণু বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন হয়তো অনুমান করতে পারেননি তাঁর আবিষ্কৃত পরমাণু বিভাজন সূত্র এতো মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এইতো সেদিনের কথা। বাবা-চাচাদের কিশোর-তরুণকাল ছিলো ১৯৪৫ সাল।
সভ্যতার নিষ্ঠুরতম বর্বরতা পরিলক্ষিত হলো পৃথিবীতে। হিরোশিমার নাগাসাকি নামক শহরে আক্রমণ চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হলো নাগাসাকি শহরের গাছপালা, গুল্মলতা, আবাল-বৃদ্ধ বণিতা ধ্বংস কীর্তনে মেতে থাকলো। আমাদের এই উদ্ভাবিত হামলার আমলের গতিধারায় দেশ-জাতি-গোত্র প্রভৃতির মধ্যে শুরু হলো অস্ত্রের ঝনাৎকার। ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, কাতার, ইয়েমেন, ইসরাইল, ফিলিস্তিন, ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, কোথায় নেই অস্ত্রবারুদের ঝনাৎকার? সাম্রাজ্যবাদি আক্রমণ থেকে শুরু করে ধর্মীয় উন্মাদনা কিছুই বাদ যায়নি। কাবুলে দিনের পর দিন ধ্বংসলীলায় ব্যস্ত ছিলো অস্ত্রবাজের দল। ভুল তথ্যে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইনকে উৎখাতের নামে বিলীন করা হলো বাগদাদের স্বাভাবিক পরিবেশ। অতি সম্প্রতি ব্রিটিশ পক্ষপাতিত্বে আশ্রিত ও মার্কিনী আশকারায় ইসরাইলী আগ্রাসন এবং অস্ত্রবারুদের খবরতো আমাদের জানা আছেই। আমাদের দেশ তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম হলেও উদ্ভোদিত সাফল্য বয়ে নিতে সেও বাদ যাবে কেন? এখানে আরজেস নামক গ্রেনেড, হাতবোমা, পেট্রোলবোমা, গানপাউডার, এসিড সন্ত্রাস, ককটেল, রাইফেলের বৈধ-অবৈধ গোলাবারুদের তেজস্ক্রিয়তা বাতাসের মধ্যে পাচারে পারঙ্গম আমরাও। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, হঠাৎ গজিয়ে ওঠা জঙ্গি দল উপদল কর্তৃক সিরিজ বোমা হামলা, রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দিকে-দিকে বোমের তেজস্ক্রিয়তা বাতাসে ছড়িয়ে দেয়ার কথা ভুলে যাবার নয়। এসব ভালো কিছুর আলামত বহন করে না। এগুলো ত্বরান্বিত করে ধ্বংসকে। তখনতো বিস্ফোরণের চাপ তাপ বাতাসকে অস্থির করে তুলবেই। এতে বাতাস ভারী হয়। মানুষের ফুসফুস ভারী হয়। অক্সিজেন গাছ শূন্যতায় পালায়-পালায়। ১৯৮৮ সালের হিসেব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শতকরা ৩৭.৪ ভাগ, জাপান ১২.৪ ভাগ, পশ্চিম ইউরোপ ৩৬.২ ভাগ এবং বাকি সমস্ত বিশ্ব মিলে ৪.১ ভাগ অর্থাৎ ৫০ হাজার টন দূষণের সাথে জড়িত। প্রতি বছর বিশ্ব সমাজে বায়ু দূষণে ৫ বছর বয়েসি শিশুর মৃত্যু হয় ৬ লাখ শিশুর। ‘ক্লিয়ার দ্য এয়ার ফর চিলড্রেন’ শীর্ষক এক গবেষণা করে ইউনিসেফ-তারা গবেষণায় পেয়েছে বিশ্বের ৩০ কোটি শিশু না কি এমন এলাকায় বাস করছে যেখানে বায়ু দূষণের মাত্রা অত্যধিক বেশি। যা নিরাপদ সীমার ছয়গুণ বেশি দূষণে দূষিত। এবং যে ৩০ কোটি শিশু ৬ গুণ বেশি দূষণের মাত্রায় বাস করছে তাদের মধ্যে ২২ কোটি ই বাস করছে দক্ষিণ এশিয়ায়। গবেষণায় বলা হয়েছে বিশ্বের ২০০ কোটি শিশু বাস করে এমন জায়গায়-যেখানে বাইরের বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি। যানবাহনের দূষণ, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার। ধুলো এবং বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বাইরের দূষণের মূল কারণ। গত ৫ বছরে বিষাক্ত বায়ুর মাত্রা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে। ফলে প্রতিবছর ৩০ লাখের বেশি মানুষ মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে। যার গড় মিনিটে ৬ জন। আর এর যাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে মৃত্যুর হার দাঁড়াবে দ্বিগুণে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল এর বায়ুমান সূচকে (একিউআই) অনুযায়ি ১টা ১১ মিনিটে ঢাকার বায়ুমন্ডলে বায়ুমানের সূচক ছিলো-২৫১, দিল্লী-৩০৫, পাকিস্তানের লাহোর-২৩২, কোলকাতা-২০০, করাচি-১৮০, কাজাখস্তান-১৭৪, মুম্বাই-১৬৫, চীনের উহান-১৬৩, কাজাখস্তানের বিসকেক-১৬২, ক্রোয়েশিয়ার জাগরেব-১৫৭। তারা এ গবেষণা থেকে বলছে আমাদের ঢাকা শহরেও দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, যার অন্যতম উৎস থুথু, কফ এবং ধুলোবালি। যার মধ্যে দিয়ে করোনাভাইরাসের জীবাণু সহজে ছড়িয়ে যাবার আশঙ্কাকে সহজেই উড়িয়ে দিতে পারছে না তারা। পাঠক,নিশ্চয়ই মনে আছে-১৯৮৮ সালের ২৫ এপ্রিলের কথা। যেদিন প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত ইউক্রেনের চেরনোবিলে পারমাণবিক চুল্লিতে ঘটেছিলো বিস্ফোরণ। যে বিস্ফোরণে পার্শ্ববর্তী দেশ ফিনল্যান্ড, ডেনমার্কসহ নিকটবর্তী দেশের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিলো পারমাণবিক বিস্ফোরণের তেজষ্ক্রিয়তা। ফল স্বরূপ ডেনমার্ক থেকে আগত গুঁড়ো দুধকে আমাদের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলো। কারণ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কেন্দ্র দুধ পরীক্ষায় পেয়েছিলো তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি। আমরা তখন ঘরে ঘরে প্রিয় হয়ে ওঠা ডানো গুঁড়ো দুধ ব্যবহারে বিরত থেকে রেডটি, ল্যামনটিতে অভ্যস্ত হতে চলছিলাম। ঘূর্ণায়মান আবর্তে আসলো ১৯৯২ সাল।বিশ্বে নবজোয়ারে আগুয়ান হতে শুরু করলো এ সময়ের ৩ জুন থেকে ২৪ জুন ব্রাজিলের রিওডিজেনেরিওতে ডাক দিলো ধরিত্রি সম্মেলন। এ সম্মেলনে উন্নত বিশ্ব তাদের দ্বারা বেশি মাত্রায় সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের দায়ভার চাপালো দরিদ্র দেশগুলোর উপর।
এ থেকে নাড়া খেলো বিশ্ব। আমরাও পরিবেশে নজর দিলাম। সচেতন হয়ে উঠলো আমাদের দেশও। এখন কোথাও একটা গাছ কাটলে আমরা হায়-হায় করে উঠি। কোথাও প্রাণী হত্যা হলে আমাদের অন্তরাত্মা জ্বলে। উন্নয়নের ঠেলায় ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় বিষাক্ত বিষে নগরী উজাড় হলে আমরা নড়ে উঠতে পারি। আমরা হিসাবের খাতায় নাম লিখে দিতে পারি-মহাকাশে ভ্রমণচারি পশুদের নাম-ইঁদুর, সাইগান এবং ডেজিক, লাইকা, আবেল আর বেকার, খরগোশ, বেল্কা আর স্ট্রেল্কা, শিম্পাঞ্জি, ব্যাঙ আর গিনিপিগ, ফেলিসেট, মাকড়শা, মাছ, টারডিগ্রেড, কারণ এরা পশু ছিলো যা কোনদিন জীবিত না এলেও পরিবেশের অংশ ছিলো বলে আমাদের মনে রাখা। তবে মজার ব্যাপার হলো নানা রঙ, নানা ঢংয়ের স্যাটেলাইট চ্যানেল, গুগলের ভূগল কিংবা সুস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে চেতনায় সচেতন হলেও আত্মিক কিংবা কাজে সচেতন নয়। আমাদের সচেতনতা মোবাইলের ক্যামেরায়। নিউজ চ্যানেলে। খবরের পত্রিকায়। আমরা কার্যত কাজের কাজী নই। এখনও আমরা অবাধে বৃক্ষ নিধনে প্রচ্ছন্ন ছায়া দিই। একটা গাছ কর্তনে অন্ততঃ ১টা গাছ রোপণে উৎসাহ দিই না। নগর-মহানগরীর রাস্তায়-রাস্তায় উন্নয়নের গ্যাঞ্জামে ধোঁয়া-ধুলায় অতিষ্ট হলেও প্রতিকারে আমাদের বা প্রশাসনের সচেতন উদ্যোগ নেই। অথচ একটু সচেতনতার খাতা খুললে আমরা অনায়াসেই পরিবেশকর্মী হতে পারি। যেমন দরুন-বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৫ লক্ষ শিশু জন্মগ্রহণ করলে আমরা যদি আমাদের প্রিয় শিশুর জন্মকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি পরিবার ৫টি করে গাছ লাগাই। যত্নের মাধ্যমে বড় করে তুলি, তবে প্রতি বছর ১ কোটি ২৫ লাখ গাছ রোপিত হয়ে যায়। যা ৫ বছরে রোপিত গাছের সংখ্যা দাঁড়িয়ে যায় ৬ কোটি ২৫ লাখে। যা ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সে এই গাছ উক্ত শিশুর জন্য হবে লাখ টাকার সম্পদ। এই গাছ থেকে আমরা পেতে পারি-১. প্রতিদিন বাতাসে সঞ্চিত হওয়া ক্ষতিকর গ্যাস ও বিষাক্ত পদার্থ শোষিত দূষণ মুক্ত পরিবেশ। ২।কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে পরিণত করা নির্মল শ্বাস। ৩। গ্রীণ হাউসের মারাত্মক প্রভাব মুক্তি। ৪। নদ-নদীর উৎসগুলোর পানির বর্ধিত ধারণ ক্ষমতা। ৫। ক্ষয়রোধকারী ভূমি। ৬। বন্যার প্রকোপ থেকে মুক্তি। ৭। টর্নেডো ঘূর্ণিঝড়, বায়ুঝড়, বজ্রপাত, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি থেকে মুক্তি। ৮। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষের দান। ৯। মাটির তলদেশের পানির স্তরকে উপরে তোলার প্রাকৃতিক সহায়তা। ১০। সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা। আমরা গাছের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব বিবেচনায় একে ৪টি শ্রেণীতে বিভাজন করে বলতে পারি। (১) অর্থনৈতিক গুরুত্ব, (২) পরিবেশগত গুরুত্ব, (৩) জীববৈচিত্র্য, (৪) চিত্ত বিনোদন। এ চার গুরুত্বকে ধারণ করে আমরা গাছ লাগাতে পারি। ক, পতিত জমি, খ, উঁচু নিচু এলাকা, গ, রাস্তা, ঘ, রেলপথ, ঙ, বাঁধের উপর, চ, নদীর তীর, ছ, পুকুর পার, জ, সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য স্থান, ঝ, অফিস-কারখানা, ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্স ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ঞ,বসত বাড়ির আঙিনা, ত, ফসলি বা ধানীর জমির আল ইত্যাদি অংশে। কারণ পরিবেশের জন্য গাছই অন্তপ্রাণ। কোথায় জানি পড়েছিলাম, এক মনিষী বলে গেছেন-‘আমি মারা গেলে আমাকে একটি ফলবান বৃক্ষের নিচে কবর দিও’। ফলবান বৃক্ষের নিচের কবরের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি নাকি বলেছিলেন-‘আমার কোন ভালো কাজ নেই। আমার দেহ পঁচে সার হবে। ফলে গাছটি বেশি শক্তি লাভ করবে। বেশি ফল ধরবে এবং ঐ ফল মানুষ পশুপাখি খাবে। মহান সৃষ্টিকর্তা ঐ কারণে হয়তো আমায় ক্ষমা করে দেবেন।’ তাই পরিবেশ দূষণে আমাদের অচিরেই কার্যকরী সচেতন হতে হবে। কেননা, সচেতনতা মানুষ তাদের ই সাজে। মানুষ জাতি ইতো এমন একটা প্রাণী যে তার মাথা সোজা করে চলতে পারে। তথ্যঋণ ঃ * ভিএইচএস কর্তৃক প্রকাশিত ‘যোগাযোগ’-জুন-১৯৯৪ ফেব্রুয়ারি-১৯৯৫, এপ্রিল-১৯৯৬, মে-১৯৯৬, জুলাই-১৯৯৬, * ‘ফলক’ জুলাই-সেপ্টেম্বর ১৯৯৫, * ভোরের কাগজ-২৬ মে ১৯৯৭। * সাপ্তাহিক ‘রোববার’-২৮ মার্চ ২০২১ ও ৯ মে ২০২১ সংখ্যা।* বাংলাদেশ প্রতিদিন-২৩ মে ২০২১ সংখ্যা, * দৈনিক যুগান্তর ৭ ডিসেম্বর-২০২০ সংখ্যা, * কেয়ার বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যাংক’ * ‘পরিবেশ বিপন্নতায় দায়ী বিশ্ব সমাজ’- আনোয়ার হোসেন মিছবাহ-দৈনিক সিলেটের ডাক-১৯৯৭, * মেঘ-ঝড়ের রূপ বৈচিত্রে কালবৈশাখী-আনোয়ার হোসেন মিছবাহ-দৈনিক সিলেটের ডাক-৮ মে ২০২১,* বিষে-বিষে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া-আনোয়ার হোসেন মিছবাহ-দৈনিক সিলেটের ডাক-৩১ মার্চ ২০২১, * ইন্টারনেট, *অনলাইন পোর্টাল ও দুর্গতির সীমারেখায় প্লাস্টিক পলিথিন-আনোয়ার হোসেন মিছবাহ-দৈনিক সিলেটের ডাক-১৯৯৮। লেখক-কবি,প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

মনোনয়নপত্র জমা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট-৬...

সিসিক নির্বাচন: তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

        আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিলেট...

সিলেট থেকে ৬৮ বিমান যাত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ

        আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের সাথে পর্যটন...

স্থবির ২০ দলীয় জোটে আশা-নিরাশা

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : বাংলাদেশ...