পথ হারা পথিক

প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রুহুল আমীন দিনার:
( উপন্যাস) পর্ব-১
শ্রাবন মাস।
সন্ধ্যা থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, একটানা বৃষ্টি। এখন রাত বাজে দশটা, বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। বৃষ্টি থামবে কখন তাও ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা। আকাশ ঘুর অন্ধকার কালো হয়ে আছে,খানেক পরপর বিজলি চমকাচ্ছে। তার সাথে বিকট বড় বড় শব্দ। শফিক বিজলি চমকানোর সাথে সাথে আকাশের দিকে থাকিয়ে মেঘ দেখার চেষ্টা করল। অর্ধ সেকেন্ডেরর মধ্যে যা দেখলো। আকাশে ভারি মেঘ করেছে। দিনের বেলায় এসব মেঘ গুলোকে সাদা দেখাতো,এখন দেখাচ্ছে গাড়ো কালো। আকাশে সাদা মেঘ হলে বৃষ্টি অনেকক্ষণ স্থায়ী হয়। শফিক ভাবছে আর দেরি করা ঠিক হবে না। বেরিয়ে পড়তে হবে। এখনো অনেকটা পথ তাকে যেতে হবে,তারপরও যেতে যেতে অনেক রাত হয়ে যাবে। গিয়ে দেখবে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। জেগে থাকবেন কেবল মা। সেলিম কে বার বার জাগিয়ে তুলবেন, সে কিছুতেই উঠবেনা,বলবে যাউতো মা বিরক্ত করোনা, এখন ঘুমাবো। সে কচি খোঁকানয়,বৃষ্টি থামলে ঠিকই চলে আসবে। মা কিছুতেই হাল ছাড়বেননা বলবেন ছাতা নিয়য়ে যায়নি, আসবে কেমন করে তুই একটি ছাতাটা নিয়ে এগিয়ে যা না। পরের বার আর সেলিমের আর সাড়া পাওয়া যাবেনা, ততক্ষণে সে নাক ডেকে ঘুমাবে। মা ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবেন। বার বার পথের দিকে থাকিয়ে থাকবেন। বৃষ্টি বেড়ে গেলে তাঁর চোখে দুএকফোটা জল গড়িয়ে পরবে। সে দাড়িয়ে আছে একটা পরিত্যাক্ত ঘরের বারান্দায়। টিনের চালের অনেক জায়গায় ছিদ্র হয়েছে, বৃষ্টি পড়ছে ক্রমাগত ভাবে। দরজায় বেশ বড়সড় একটা তালা জুলে আছে,সেটার ঘায়ে জংগধরেছে। বোঝা যাচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে ঘরটি খোলা হয়নি। একটু পরপর বাতাসের সাথে সীসা মিশ্রিত ব্যাপসা গন্ধ বেসে আসছে, সেই সাথে যোগ হয়েছে আবদ্ধ ঘরটি থেকে আসা সেঁতসেঁতে অসহ্য গন্ধ। সে আজ গিয়েছিলো চাকরির একটা ইন্টারভিউ দিতে,সেখানে চাকরি পার্থী অনেক থাকায় ইন্টারভিউ দিতে দেরি হয়ে গেছে। ভাগ্য ভালো তাঁর, ইন্টারভিউ না দিয়ে ফিরে অসতে হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরি হয় কি না বোঝতে পারছেনা, প্রশ্নকারী ভদ্রলোকটিকে বেশ ভালো মনে হয়েছে। তবে কতটা ভালো আগেবাগে বলা মশকিল, যে কয়টা প্রশ্ন করেছে সব কয়টিই অবিশ্য সে উত্তর দিতে পেরেছে, বাকি টুকু আল্লাহ,র ইচ্ছা। এমনও হয় সে যখন কোনো পরীক্ষার সব কিছুতে ভালো করল, দেখা গেলো সেখান থেকে কোনো সাড়া আসেনা। আবার যেটা ভালো হয়নি দেখা গেলো সেখান থেকে সাড়া পেয়েছে। তাই আজ সে সব কিছু পেরেও আশাবাদী হতে পারলনা। আজ অনেক দিন হলো অনার্স শেষ করেছে এখনো এটা চাকরি মন মতো পায়নি। যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলোতে যে সেলারি দিতে চায় তা দিয়ে কিছুতেই তাঁর পোষাবেনা। এতটুকুন লিখা পড়া করে যদি সাত আট হাজারে চাকরি সে পায় তাহলে লিখা পড়া করলো কেনো। তাছাড়া যে বিষয়ে সে পড়ল তার কিছুই দেখলো এখানে কাজে লাগবে না তাহল সে পড়ার কি ধরকার ছিলো?


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সাবেক মেয়র কামরান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

          আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী...

উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্থ করতেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট শাহী...