নৌকা ও ধানের শীষ নিয়ে হবিগঞ্জ-১ লড়বেন প্রয়াত ফরিদ গাজী ও কিবরিয়া পুত্র

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাকিল হোসেন নবীগঞ্জ ((হবিগঞ্জ) থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে নৌকা ও ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত দুই নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর পুত্র দেওয়ান শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী ও শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাথমিক মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজীকে। অপর দিকে প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া ইতোমধ্যে গণফোরামে যোগদান করে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ লক্ষে গত রোববার নবীগঞ্জ নির্বাচন কার্যালয় থেকে ড. রেজা কিবরিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তার চাচাতো ভাই গোলাম মুর্শেদ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজী আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। এদিকে, প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রয়াত এই দুই নেতার দুই পুত্র নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার খবরে নতুন জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে লন্ডন প্রবাসী অধ্যুষিত নবীগঞ্জ ও চা বাগান বেষ্টিত বাহুবল উপজেলার ভোটারদের মধ্যে। সাধারণ ভোটার ছাড়াও প্রয়াত দুই জাতীয় নেতার অনুসারী নেতাকর্মীরা সতর্কভাবে ভোটের হিসেবে নিকেশ করছেন।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের ৮ জন নেতা মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর পুত্র শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলা থেকে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য ডা: নাজরা চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য আব্দুল মুকিত চৌধুরী।
এছাড়া, বর্তমান সংসদ সদস্য (মহাজোট থেকে নির্বাচিত) জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু এ আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। তিনি পুনরায় মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেতে জোর লড়াই চালাচ্ছেন। গত কয়েকদিন থেকে নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন; আবার মহাজোটের শরীক দল জাপার বর্তমান এমপি এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন এমন গুঞ্জনও শোনা গেছে। গত রোববার আওয়ামী লীগ হবিগঞ্জে ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতে দলীয় প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়নপত্র দেয়। এতে হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা না করায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ে। শেষ পর্যন্ত গতকাল সোমবার শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করা হয় ।
২০১৪ সালে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন ফরিদ গাজীর বড় ছেলে দেওয়ান শাহনেয়াজ মিলাদ গাজী। কিন্তু তিনি দলীয় নেত্রীর নির্দেশে মহাজোটের প্রার্থীর জন্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে জাপার আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।
এছাড়া এবার এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা জাপার সভাপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিক।
অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটি নেতা অধ্যাপক আব্দুল হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া নিজের দলের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে লড়তে জোর লবিং চালাচ্ছেন। তবে হঠাৎ রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হওয়ায় শেখ সুজাত শিবিরে হতাশা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এক বর্ধিত সভায় শেখ সুজাতকে প্রার্থী দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে। আবার বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেকে বলেছেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির স্বার্থে দল ও ফ্রন্টের সিদ্ধান্তই মেনে নেবেন তারা।
নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, ধানের শীষ নিয়ে জোটের যে কোনো প্রার্থী আসলে দলের স্বার্থে তার পক্ষে কাজ করবো।
হবিগঞ্জ-১ আসনে ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল আজিজ চৌধুরী নির্বাচিত হন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান চৌধুরী ছানু মিয়া, ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হন জাসদ প্রার্থী মাহবুবুর রব সাদী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইসমত আহমদ চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে জাসদের এডভোকেট আবদুল মোছাব্বির, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে টানা ৩ বার জয়ী হন আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী। ২০১০ সালের ১৯ নভেম্বর দেওয়ান ফরিদ গাজী মৃত্যুবরণ করেন। পরে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাপার এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু নির্বাচিত হন।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯শ’ ৪৫জন। পুরুষ ভোটার ১লাখ ৮০ হাজার ৮শ’ ২৬জন। মহিলা ভোটার সংখ্যা হলো ১লাখ ৮৪হাজার ১শ’ ১৯ জন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

আয়কর অধ্যাদেশ ১৭৪ ধারা পুনর্বহাল দাবি কর আইনজীবীদের

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ২০১৯-২০ অর্থবছরের...

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

2        2Sharesসিলেট জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ...