নি র্বা চ নী হা ল চা ল (সিলেট-৪) আওয়ামী লীগে ইমরান, বিএনপির কে?

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ সর্বত্র। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে? নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা- এসব প্রশ্নের মধ্যেই গণসংযোগ এবং সভা- সমাবেশ করে নিজেদের মাঠে রাখার দৌড়ে ব্যতিব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থী কে হচ্ছেন? তা নিয়েও রয়েছে সরব বিতর্ক। সিলেট ৪ আসনটি গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। পাথুরে ভাণ্ডার এ আসনের নির্বাচনে প্রার্থীরা সব সময় থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এ আসন হওয়ায় এ অঞ্চলকে সীমান্ত জনপদও বলা হয়ে থাকে।

সীমান্ত জনগোষ্ঠীর রায় পেয়ে এ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমও। সিলেট-৪ আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি ও জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন মাঠে। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ৫ বারের নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ। চলমান জাফলং ব্রিজ, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জের সড়ক, হাইটেক পার্কসহ হাই-প্রোফাইল উন্নয়ন প্রকল্প যোগাযোগ, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করে এ আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য হওয়ায় দৌড়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন তিনি। সিংহভাগ নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা জানান, উন্নয়ন ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ইমরান আহমদেই আস্থা রাখছেন তারা। অপরদিকে এ আসনে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ। প্রবাসে থাকায় এ আসনের নেতাকর্মীদের সাথে গণসংযোগ, প্রচারণা একেবারেই ক্ষিণ। গাছে গাছে ফেস্টুন, ব্যানার, সামাজিক যোগাযোগ আর ক্যালেন্ডার নির্ভরই রয়েছে তার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। এছাড়া বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করা এবং নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দূরত্ব থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার মনোনয়ন প্রাপ্তি অনেকটা দুরূহ। এ আসনে অপরাপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে গোয়াইনঘাট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক আওয়ামী লীগের এবং জাতীয় পার্টি থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমানের নামও শুনা যাচ্ছে। বিএনপি’র মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন, সাবেক এমপি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম। এছাড়াও যেসব প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন- বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট সামছুজ্জামান জামান, সিলেট জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী, জামায়াত নেতা জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদীনও জোটগতভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে বিএনপি’র টিকেট দাবিদার দিলদার হোসেন সেলিম ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরীর মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ই ডিসেম্বর জাফলংয়ে উপজেলা বিএনপি’র ব্যানারে বিশাল সমাবেশ করেন দিলদার হোসেন সেলিম। এদিন তিনি বিশাল জন সমাবেশ করে দলে তার প্রয়োজনীয়তার জানান দেন। পাশাপাশি একই দিন উক্ত সমাবেশ বয়কট করে বিএনপিপন্থি একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশকিছু নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্থ হন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী। স্থানীয় নেতা হিসেবে আবদুল হাকিম চৌধুরীই আগামী দিনের বিএনপি’র মনোনয়ন দাবিদার এবং তিনিই টিকেট পাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ সহ গণমাধ্যমে এমন প্রচারণা চলছে তার কর্মী-সমর্থকদের পক্ষে। এদিকে আন্দোলন সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে সিলেটের রাজপথ কাঁপানো নেতা, অর্ধ শতাধিকের বেশি মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান সিলেট-৪ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন দৌড়ে। আসন্ন নির্বাচনের ব্যাপারে কথা হলে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেলীখাল ইউনিয়নের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ সমর্থক আবদুর রউফ জানান, আমরা অতীতে সিলেট-১ আসনের ভোটার ছিলাম। গত সংসদ নির্বাচনে আমাদের সিলেট-৪ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। আমি মনে করি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বর্তমান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদকে পুনরায় নির্বাচিত করা দরকার। গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ লুৎফুল হক খোকন জানান, দিলদার হোসেন সেলিম ছাড়া আওয়ামী লীগের হাত থেকে এ আসন বিএনপি’র পক্ষে পুনঃরুদ্ধার সম্ভব নয়। গোয়াইনঘাট উপজেলা ওলামাদলের সভাপতি ও ৪ নং লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, বিগত দিন গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন গুলশান অফিসে সরকার কর্তৃক গৃহবন্দি ছিলেন, তখন সিলেটের রাজপথে এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান জীবন বাজি রেখে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেছেন। সিলেট-৪ আসনে বিএনপিকে সংগঠিত করতে এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান কাজ করেছেন। সীমান্ত জনপদ-খ্যাত এই আসনের সর্বসাধারণের সঙ্গে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। আসন্ন নির্বাচনে তাকে এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিলে এ আসনটি আমরা উদ্ধার করতে পারব বলে আশাবাদী। তোয়াকুল ইউপি সদস্য মরতুজ আলী জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের জননন্দিত চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী জনপ্রিয়তায় এগিয়ে। বিএনপি’র টিকেট দাবিদার আবদুল হাকিম চৌধুরী জানান, তৃণমূল থেকে বিএনপি’র কর্মী হিসেবে কাজ করছি। অত্রাঞ্চলে বিএনপিকে সংগঠিত করতে এখনও মাঠে আছি। আওয়ামী লীগের এই দুঃশাসনামলে তাদের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে দুইবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দল আমাকে মূল্যায়ন করলে এ আসন থেকে আমি ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে পারবো। জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আলহাজ জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি। দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবায় আছি। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আমি এ আসন থেকে জোটের প্রার্থী দাবিদার। আমার দলের হাইকমান্ড থেকেও আমাকে এ আসনে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ আসনের বিএনপি তথা ধানের শীষের টিকেট প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে এ আসনে কোনো উন্নয়ন হয়নি। হয়েছে লুটপাট আর পুকুর চুরি। উন্নয়ন যা হয়েছে তা আমাদের আমলে। তারা উন্নয়নের নামে লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে, বর্তমানেও তা অব্যাহত আছে। বিএনপি’র টিকেট যে কোনো বিএনপি নেতাই চাইতে পারেন। দল যাকে মূল্যায়ন করবে আমি তার সঙ্গেই আছি। তবে এ মুহূর্তে দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করার আন্দোলন নিয়ে আছি। নির্বাচন নিয়ে নয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবিদার ও বর্তমান এমপি ইমরান আহমদ জানান, আমি জনগণের ভোটে ৫ বার নির্বাচিত হয়েছি। বর্তমানেও তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করছি। দল-মত নয়, আমি আমার এ অঞ্চলে মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। যেসব উন্নয়ন করেছি, তা জনগণ দেখছে। ইনশাআল্লাহ্‌ আসন্ন নির্বাচনে জনগণ পুনরায় নৌকা প্রতীকে আমাকেই বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে বিশ্বাস করি। মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে | ২৮ মার্চ ২০১৮, বুধবার মানবজমিন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন