নিষ্প্রাণ বাংলা-পাড়ায় দুই ঘণ্টা

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাইসির মাহমুদ :

‘ভাবিলাম যাই আসি খানিকটা বেড়ায়ে’ । গন্তব্য আর কোথায়? প্রাণপ্রিয় টাওয়ার হ্যামলেটস। ঘরবন্দী জীবনে খানিকটা মুক্ত বাতাস চাই । চাই স্বজন-প্রিয়জনের সাক্ষাৎ। কিন্তু করোনা যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চালচিত্র একেবারেই পালটে দিয়েছে। আগে যেখানে কারো সাথে দেখা হলে বলতেন ঘরে আসুন, বসি চা খাই। এখন বলেন ‘ঘরে তো বোধহয় আসবেন না’।

দীর্ঘদিন পর শুক্রবার বিকেলে গেলাম টাওয়ার হ্যামলেটস। মাইল এন্ড, স্টেপনী গ্রীন, বেথনাল গ্রীন, ব্রিকলেন চক্কর দিয়ে ঢুকলাম বাংলা টাউনে। কিছু কেনাকাটা সারলাম । এরপর আর যাবো কোথায়? যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। লকডাউন শিথিল হলেও দোকান-পাটে এখনও তালা। রাস্তায় পরিচিতজনের আনাগোনা নেই । এখনও নিষ্প্রাণ বাংলা-পাড়া।

ভাবলাম ফেরার পথে স্টেপনি গ্রীনে আমাদের প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি মহোদয়ের (জুবায়ের ভাই) সাথে দেখা করে যাই । ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম-আপনি কি ঘরে? বললেন, জ্বি আছি। বললাম, ঘরের সামনে আসছি।

স্টেপনী গ্রীন ডাকেট স্ট্রিটে গাড়ি পার্ক করে ফোন দিলাম । তিনি বেরিয়ে এলেন । দেখি, সাথে নিয়ে এসেছেন কিছু ত্রাণসামগ্রী (একবোতল ওয়েসিস ড্রিংকস ও একবক্স চকলেট) । বললেন, ভাবলাম ঘরে যাবেন না তাই কিছু আপ্যায়ন সামগ্রী নিয়ে এলাম।

সে যাই হোক। জুবায়ের ভাইয়ের সাথে ৭৫দিন পর ফেস-টু-ফেস দেখা । এটি আসলেও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বললাম, চলুন মুহূর্তটি সেলফিবন্দী করা যাক। বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ খাজুরী গল্প; এরপর ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বাড়িমুখে রওয়ানা দিলুম ।

এই হলো আমাদের করোনাকালীন জীবন । লকডাউন শিথিল হলো বটে, কিন্তু করোনার ঢেউ নেমে যাওয়ার তো লক্ষন দেখছিনা । আজও তো ঝরে গেলো ৩৫৭টি প্রাণ। আর কতদিন থাকতে হবে এই জনবিচ্ছিন্ন জীবনে? কতদিন….?

তাইসির মাহমুদ
ডেগেনহ্যান
লন্ডন, যুক্তরাজ্য
৬ জুন ২০২০


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন