নির্বাচনী মঞ্চে ফের মুখোমুখি কামরান ও আরিফ

,
প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনী মঞ্চে ফের মুখোমুখি কামরান ও আরিফ। একজন সাবেক ও আরেকজন বর্তমান মেয়র। দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা। পাঁচ বছর পর আবারও সেই রণসাজ। কে হাসবেন বিজয়ের হাসি- এই নিয়ে তুমুল আলোচনা সিলেটে। সবখানেই এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে তর্ক-বির্তক।
চায়ের টেবিলসহ অফিসপাড়া সবখানেই সিলেট সিটি করপোরেশনের মাতামাতি। আরিফের আড়াই বছরের উন্নয়ন এখন কামরানের জন্য বড় ফ্যাক্টর। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রীর টাকা আরিফের উন্নয়ন- এ সত্যটিও ঢালাও করে প্রচার করছেন কামরান। ৩০শে জানুয়ারি সিলেটের মাদরাসা ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সিলেটের সমাবেশেও কামরান এই কথাটি তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে তিনি বলেছিলেন, সিলেটে সরকারের টাকায় যে উন্নয়ন হচ্ছে সেটি কেবল বিএনপিদলীয় মেয়র আরিফের নামে প্রচার হচ্ছে। আওয়ামী লীগদলীয় মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সিলেটের সাবেক দুবারের মেয়র ও একবারের পৌরসভার চেয়ারম্যান। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য। সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের একজন তিনি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কামরানের রয়েছে সুখ্যাতি। আর আরিফুল হক চৌধুরী গেল ৫ বছরের মেয়র ছিলেন সিলেটে। এর আগে তিনি সিলেটের প্রভাবশালী সিটি কমিশনার ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য তিনি। সাইফুর রহমানের জমানায় সিলেট বিএনপির প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন আরিফ। মেয়র হওয়ার পর তিনি সেই প্রভাব পুনরায় ফিরে পেয়েছেন। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচন নাটকীয়তা ভরা। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছিলেন কামরানকেই। তিনি ছিলেন ওই সময়ের মেয়র। আর বিএনপিতে হঠাৎ করে নাটকীয়তা দেখা দেয়। সিলেটে সমর্থন আরিফকে দিয়ে বসে বিএনপি। বলতে গেলে আরিফকে নিয়ে বাজি ধরেছিল বিএনপি। হাওয়া ছিল আওয়ামী লীগের উল্টো। তখন হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন তুঙ্গে। জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে জোটগত সম্পর্ক ছিল ভালো। কামরানের বিপক্ষে খোদ আওয়ামী লীগের ভেতরে ছিল অস্থিরতা। পরিবর্তনের পক্ষে ছিল নগরের মানুষ। এ কারণে ওই নির্বাচনে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকার পরও আরিফের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। নতুন মেয়র হন সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সিলেট-১ আসনের এমপি ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ‘উন্নয়ন সখ্য’ গড়ে তোলেন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান নিজেও জানিয়েছেন- সিলেটে উন্নয়ন হয়েছে সরকারের টাকায়। বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। এ কারণে টাকা দিতে কার্পণ্য বোধ করেনি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুই হাত খুলে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সিলেটে বিগত ৫ বছরে যথাযথ উন্নয়ন হয়নি। আরো বেশি উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল বলে দাবি করেন কামরান। এদিকে আরিফুল হক চৌধুরী এবার দৃশ্যমান উন্নয়নকে পুঁজি করে নগরবাসীর নজর কেড়েছেন। তিনি ২০১৩ সালের শেষ দিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর পড়েন যান নতুন করে মামলার বেড়াজালে। তাকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামি করা হয়। প্রায় ২৪ মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। অর্ধেক সময় ক্ষমতায় বাইরে থেকেও তিনি নগরীর রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর করার দিকে মনোনিবেশ করেন। সফলও হয়েছেন। আরিফের এই সফলতায় অসন্তুষ্ট না হলেও আরিফকে নিয়ে স্বস্তি নেই সিলেট বিএনপিতে। তিনি মেয়র হলেও সিলেট বিএনপির কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি করেছেন নেতারা। এ কারণে দলীয় মনোনয়ন পেতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন আরিফ। দলীয় মনোনয়ন পেলেও তার পিছু ছাড়ছেন না সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। তিনিও মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামি এখনো সিলেটে তাদের প্রার্থী রেখেছে। আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, টাকা যোগাড়ের পূর্বশর্ত হলো প্রকল্প। সবাই প্রকল্প তৈরি করতে পারে না। আমি সঠিকভাবে প্রকল্প গ্রহণ করায় সরকার থেকে টাকা এসেছে এবং সেই টাকার সঠিক ব্যবহারও হয়েছে। উন্নয়নে কোনো ফাঁকিবাজি হয়নি বলে জানান তিনি।
কামরানের কুশল বিনিময়: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন নগরীর টিলাগড়ের মুসল্লিরা। এ সময় একে একে সবাই এসে তার সঙ্গে কোলাকোলি করেন। আগামী নির্বাচনে কামরানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তারা। এ সময় মেয়র প্রার্থী কামরান মুসল্লিদের বলেন, ‘আমি আপনাদের সেবা করতে চাই। নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ দিন আমি আপনাদের সেবা করেছি। অতীতে আপনারা আমাকে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন। এই সহযোগিতা আগামীতে চাই।’ পুণ্যভূমি সিলেটকে দেশের মডেল সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য তিনি কাজ করবেন বলে জানান। মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেছেন সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী টিলাগড় এলাকায়। স্থানীয় মসজিদে তিনি নামাজ আদায় করে বের হয়ে তিনি সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় টিলাগড় এলাকার প্রবীণ মুরব্বি, যুব সমাজ এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
বন্দরবাজারে আরিফের কুশল বিনিময়: গতকাল বন্দরবাজার জামে মসজিদে জুমার আদায় করেন বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নামাজের আগেই তিনি মসজিদে চলে যান। সেখানে তিনি নামাজ পড়ে যখন বের হচ্ছিলেন তখন মুসল্লিরাও তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় আরিফ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সূত্র মানবজমিন

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কেমুসাস বইমেলা সফলে সহযোগিতার আহবান

         কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের একাদশ...

সিলেট প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সাথে মতবিনিময়

         সিলেট প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের...

মডেল নগরী গড়তে সুযোগ দিন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আসন্ন সিলেট...

সিলেটে সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি হচ্ছে না

7        7Sharesএক্সপ্রেস ডেস্ক :-সরকারের বেঁধে দেয়া...